ঢাকা, ২০ মে সোমবার, ২০১৯ || ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৩৩

আস্থা-ভালবাসা-শ্রদ্ধায় মা

প্রকাশিত: ১১:০৫ ১২ মে ২০১৯  


সুন্দর এই পৃথিবীতে সবচেয়ে শ্রুতিমধুর ও পবিত্র শব্দের নাম ‘মা’।

এক অক্ষরের একটি ছোট্ট শব্দ ‘মা’। সন্তানের সঙ্গে যার নাড়ির সম্পর্ক। হৃদয়স্পর্শী এ শব্দের সঙ্গে অন্য কোন শব্দের তুলনা হয় না। মা শব্দটি দিয়েই প্রত্যেক শিশুর জীবন আরম্ভ হয়। মানব শিশু মায়ের কারণেই সুশীতল ধরাতলের সুন্দর মুখখানি দেখতে পায়।

স্নেহময়ী মায়ের হাসি, মন উজাড় করা ভালোবাসা, আদর-স্নেহে সন্তানের মনে বয়ে যায় অনাবিল আনন্দের ঝরনাধারা। সব দু:খ-কষ্ট আর বেদনা ‘মা’ শব্দের মাঝে বিলীন হয়ে যায়। যুগে যুগে মাকে নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক গল্প, গান, ছড়া, কবিতা।

মমতাময়ী মাকে নিয়ে কবি কাদের নেওয়াজ তাঁর ‘মা কবিতায় লিখেছেন - ‘মা’ কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই / ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।’

মাকে নিয়ে কবির একথা চিরসত্য হয়ে আমাদের কাছে প্রতি মূহুর্তে উপস্থিত হয়।

সত্যিই মায়ের মতো আপনজন এ পৃথিবীতে আর কেউ নেই। মা করুণাময়ী ও স্নেহের খনি। মায়ের ভালোবাসার ন্যায় অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহ পৃথিবীতে দুর্লভ। মায়ের স্নেহ-মমতা যে কী অসীম তা কল্পনাতীত। মায়ের ভালোবাসা স্বর্গীয় ও স্বত:স্ফূর্ত। জগতের আর কারো কাছ থেকে এই নি:স্বার্থ ও পবিত্র ভালোবাসা আশা করা যায় না। জন্ম থেকে মৃত্য পর্যন্ত তাঁর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা চলতে থাকে। মানব জীবনে মায়ের স্থান তাই অনেক উর্ধে, সর্বাধিক সম্মানের ও শ্রদ্ধার।

সন্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হচ্ছে মা। বস্তুত: মা একজন সন্তানের অধিক মর্যাদাবান ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। এই সুন্দর বিশ্বচরাচরে সন্তানের জন্য মায়ের মতো আপনজন আর কেউ নেই। মা সর্বাবস্থায় সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। মানব সন্তান সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে। মা তখন তার আপত্য মায়া-মমতা ও স্নেহ-যত্ন দিয়ে লালন-পালন করে তিলে তিলে বড় করে তোলেন।

সন্তানের ভালোর জন্য মায়ের চিন্তা সারাক্ষণ। সন্তানের কোন অসুখ হলে মা দুর্ভাবনায় অস্থির হয়ে পড়েন। অসুস্থ সন্তানের শিয়রে বসে মা বিনিদ্র রাত যাপন করেন। ক্ষুধা-ক্লান্তি ভুলে গিয়ে সন্তানের সুস্থতার জন্য সেবা-শুশ্রুষা করে থাকেন। অনেক সময় নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন। সন্তানের সুখের জন্য মা নিজের দু:খ কষ্টকে আড়াল করে রাখেন। পৃথিবীর সব মায়ের কাছেই তার সন্তান সাত রাজার ধন। নিজের জীবন দিয়ে হলেও মা সন্তানের সুখ-শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন। সন্তানের সফলতায় মা আনন্দিত হয়। মায়ের এই আনন্দ স্বর্গীয়। মায়ের স্নেহের তুলনা নেই। মায়ের স্নেহ-মমতা ও আশীর্বাদ ছাড়া জগতে কেউ উন্নতি লাভ করতে পারেনা।

ইউরোপ বিজয়ী বীর সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট তার মা লেটিসিয়াকে দেখেছেন বুদ্ধি, আত্মমর্যাদা বোধ, ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে ১৩ সন্তানকে লালন-পালন করতে। তাই তো তিনি বলে ছিলেন, ‘আমাকে একটি ভালো মা দাও, আমি তোমাদের একটি ভালো জাতি উপহার দেব।’

মায়ের প্রতি সন্তানের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। মায়ের প্রতি সন্তানের কর্তব্য যে কত বড় তা ভেবে শেষ করা যায় না। সারাজীবন তাঁর সেবা করলেও সে ঋণ শোধ হবার নয়। মা শ্রদ্ধার আধার। স্নেহের কান্ডারি। সব ধর্মেই মা আশীর্বাদ স্বরূপ। তাই সন্তানের সর্ব প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মাকে শ্রদ্ধা করা এবং অন্তরের শ্রেষ্ঠতম আসনে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করা। সন্তানের হৃদয়োৎসারিত ভক্তি ও শ্রদ্ধায় মাকে অভিষিক্ত করা।

সন্তানের কাছে মা-ই হলেন জগতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তাই মায়ের সাথে সর্বদা সম্মানজনক ও সহযোগিতামূলক ব্যবহার করতে হবে। তাঁর সঙ্গে কখনও কর্কশ ভাষায় কথা বলা উচিত নয়। মায়ের অবাধ্যতা অমার্জনীয় অপরাধ। মায়ের আদেশ পালন করা এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলা সন্তানের পবিত্র কর্তব্য। মায়ের সন্তুষ্টির দিকে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, মায়ের সন্তুষ্টি লাভের মধ্যে সন্তানের জীবনের সাফল্য নির্ভর করে। সাধ্যমত তাকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সেবা করা উচিত। এছাড়া মা কোন কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে যত্ন সহকারে তাঁর সেবা-শুশ্রুষা করা সন্তানের একান্ত কর্তব্য। বৃদ্ধ বয়সে তিনি যাতে নিরাশ্রয় ও অসহায় অবস্থায় পতিত না হন, এজন্য বৃদ্ধ বয়সে মায়ের যথাযথ সেবা-যত্ন ও তত্ত্বাবধান করা ছেলে-মেয়েদের অন্যতম দায়িত্ব। তাছাড়া বৃদ্ধ বয়সে মায়ের ভরণ-পোষণের দায়িত্বও সন্তানের পালন করতে হবে এবং তার যাবতীয় সেবা-যত্ন, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, বিশ্রাম ও বিনোদনের সুব্যবস্থা করা উচিত। মোটকথা মাকে অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান, আচার ব্যবহারে সন্তুষ্ট রাখা এবং তাঁর সেবা-শুশ্রুষায় এগিয়ে আসা সন্তানের কর্তব্য।

পিতার চেয়েও মা বেশি মর্যাদার অধিকারী। এ অধিকার আস্থার, অর্থনৈতিক মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার; ভক্তি, বিনীত আচরণ ও ভালোবাসা পাওয়ার। হাদিসেও নানাভাবে এসেছে মায়ের কথা। একবার নবীজি (সাঃ) কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকারী কে? তখন রাসূল (সা.) বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল তারপর কে? নবীজি (সা.) বললেন, তোমার মা। চতুর্থবার লোকটি আবার একই প্রশ্ন করলে এবার নবীজি (সা.) বললেন, অত:পর তোমার বাবা (বোখারি ও মুসলিম)। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।’

এ পৃথিবীতে যারা অসাধারণ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন তারা প্রত্যেকেই আন্তরিকতার সঙ্গেঁ মায়ের প্রতি কর্তব্য পালন করেছেন। কাজেই জীবনের সর্বাবস্থায় মায়ের আদেশ-নিষেধ মান্য করা ও তার আনুগত্য করা সন্তানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। সন্তানের কখনো মায়ের অবাধ্য হওয়া উচিত নয়। অবাধ্য সন্তান মায়ের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অপরদিকে কৃতি সন্তান মায়ের কাছে মাথার মুকুট সমান। মায়ের অনুগত থাকলে এবং যথাযথরূপে তাঁরা সেবা-যত্ন করলে ছেলে-মেয়েদের জীবনে সাফল্য আসে। সমাজে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং মৃত্যুর পর বেহেশতে প্রবেশের পথ সুগম হয়।

একট কথা প্রচলিত আছে - “জননী জন্মভূমি স্বর্গাদপি গরিয়সী।” অর্থাৎ জননী স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। ইহকাল ও পরকালে স্বর্গীয় শান্তি লাভের জন্যে সন্তানকে মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনে সদা তৎপর হতে হবে। মায়ের সেবাকে মনে করতে হবে পরম ধর্ম, পরম সাধনা। মায়ের সন্তুষ্টিতেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) সন্তুষ্টি নিহিত। কাজেই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য সন্তানকে সবকিছুই করতে হবে।

সন্তানের জন্য সেরা উপহার হলো মা। রাজার রাজমহলের চেয়েও ‘মা’ অনেক দামি। মায়ের নিকট সন্তান যেমন আপন প্রাণের চেয়েও প্রিয়, সন্তানের নিকটও মা তেমনি সর্বশ্রেষ্ঠ ধন। মায়ের মৃত্যু হলে সেই শুন্যস্থান কারো দ্বারাই পূরণীয় নয়। কিন্তু অনেক নির্বোধ সন্তান মায়ের গুরুত্ব বোঝে না। তাই বেঁচে থাকতে তারা মায়ের প্রতি কর্তব্য পালন করে না। তাদের সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে - ‘যারা বেঁচে থাকতে বাবা-মায়ের সন্তুষ্টি বিধান করে না, জগতে তারাই সবচেয়ে দুর্ভাগা।’

যে সন্তান মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান, সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে। বিশ্বের অন্যতম মহামানব হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রা.) দস্যু কর্তৃক আক্রান্ত হয়েও মায়ের আদেশ পালন করেছেন মিথ্যা কথা না বলে। এতে দস্যু সর্দারও অভিভূত হয়ে সৎ পথ অবলম্বন করেছিল।

ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব মাকে দেবী জ্ঞানে ভক্তি করতেন।

মনীষী বায়েজিদ বোস্তামী অসুস্থ মায়ের শিয়রে সারারাত পানির গ্লাস হাতে দাঁড়িয়ে থাকা, আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মায়ের ডাকে দুর্যোগপূর্ণ রাতেও সাঁতরিয়ে দামোদর নদ পার হওয়ার গল্প কে না জানে। এরা সকলেই জগতের মহান ব্যক্তি ছিলেন।

মাকে স্মরণ করে জগদ্বিখ্যাত মনীষী আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘আমি যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু হয়েছি অথবা যা হতে আশা করি তার জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী।’ কাজেই মায়ের কথা মেনে চলা এবং তার প্রতি কর্তব্য পালন করা আমাদের জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের সোপানও বটে।

মায়ের ভালোবাসার বিকল্প কিছু হয় না। মায়ের ঋণ সন্তান কখনও শোধ করতে পারেনা। এযেন অতল করুণার সাগর, যার কূল নেই, কিনারা নেই। তাই আমাদের প্রত্যেকের মাকে ভালোবাসা উচিত, যেমন ভালোবাসা দিয়ে তারা আমাদের মানুষ করেছেন।

আজকের নতুন প্রজন্ম বাবা-মায়ের গুরুত্ব বোঝে না, অনেকে বুঝতেও চায় না। তারা মা-বাবার পরম স্নেহ ও যত্নে বড় হয়ে যখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হয়, তখন তারা বাবা-মাকেই বোঝা মনে করতে শুরু করে। নিজেদের কাছ থেকে বাবা-মাকে দূরে সরাতে থাকে। সন্তানের কাছে বৃদ্ধ বাবা-মা হয়ে যান আগের যুগের, বেমানান। শেষবয়সী বাবা-মাকে তারা রেখে আসে বৃদ্ধাশ্রমে।

ইদানিং আমাদের দেশের শহরের তথাকর্থিত আধুনিক শিক্ষিত মানুষদের মধ্যে এরকম কালচার শুরু হয়েছে। এটা খুব দু:খজনক এবং অন্যায়। সব সন্তানকেই মায়ের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত।

ফকির আলমগীরের সেই গানের ভাষায় - ‘মায়ের এক ধার দুধের দাম/কাটিয়া গায়ের চাম/পাপোস বানাইলেও ঋণের শোধ হবে না।’ মায়ের দুধের ঋণ কোনো কিছুর বিনিময়েই শোধ করা সম্ভব নয়। তাই কোনো কারণে, কোনভাবেই মায়ের মনে কষ্ট দেয়া উচিত নয়।

মানবতার ধর্ম ইসলামে বলা হয়েছে – ‘তোমরা পিতা-মাতার সাথে এমন আচরণ করবে যাতে তাদের মুখ থেকে ‘উহ’ শব্দটিও বের না হয়।’

মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোন দিন নেই। মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি মূহুর্তের। তারপরও বিশ্বের সব মানুষ যাতে একসঙ্গে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পরে সে জন্য এখন প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মা দিবস পালন করা হয়। বেশিরভাগ দেশই মে মাসের দ্বিতীয় রোববার এই মা দিবস উদযাপন করে থাকে। মায়ের প্রতি অধিক শ্রদ্ধা, সমাজে মায়ের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা, ভালোবাসা ও বিশেষ সম্মান জানানো এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্যই বিশ্ব মা দিবসের আয়োজন করা হয়। শুধু মা দিবস কেন সব সময় মা যেন আমাদের হৃদয় থাকে মা দিবসে এটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

মা দিবস পালনের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। এ দিবসটির উদ্যোক্তা হচ্ছেন মার্কিন স্কুল শিক্ষিকা এ্যানা জার্ভিস। তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন আন্তর্জাতিক মা দিবসের জন্য। তিনিই প্রথম মায়েদের সম্মানে একটি বিশেষ দিনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন বিভিন্ন লেখা ও বক্তৃতায়। মার্কিন মুলুকের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে ১৮৬৪ সালের ১ মে জার্ভিস জন্ম গ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম এ্যানা মারিয়া রেভিস জার্ভিস। ১৯০৫ সালের ১২ মে রেভিস জার্ভিস মারা যান। মায়ের মৃত্যু এ্যানাকে বিমূর্ষ করে তোলে এবং মায়ের মৃত্যুর পর এ্যানা আর স্বাভাবিক হতে পারেন নি। ১৯০৭ সালের ১২মে মায়ের মৃত্যুর দু’বছর পর, তিনি প্রথমবার ‘মায়ের জন্য ভালোবাসা’- শিরোনামে মা দিবস উদপযাপন করেন। তবে তখনো এ দিবস নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনো সচেতনতা বা আবেদন ছিল না। ফলে জার্ভিস লেখালেখি শুরু করেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়টি নিয়ে বক্তৃতা করেন। তার বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে জন ওয়েনম্যাকার নামে এক সমাজসেবকও একাজের সঙ্গেঁ নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

দীর্ঘ সময় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়, নানা রকম প্রতিবন্ধকতাও আসে; কিন্তু এ্যানা জার্ভিস পিছপা হননি। অবশেষে ১৯১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্টের ২৮তম প্রেসিডেন্ট উড্র উইলসনের স্বাক্ষরক্রমে ‘মা দিবস’ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।

তবে দিবসটি উদযাপনের সূত্রপাত বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম হওয়ায় একই সময়ে তা উপযাপিত হয় না। বেশির ভাগ দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিনটি উপযাপন করা হয়।

গবেষকদের মতে, সমাজের খুব গভীরে লুকিয়ে থাকা সীমাহীন অপ্রাপ্তি ও অমর্যাদার দেয়াল ভেদ করে এ দেশের মায়েরা সন্তানের সফল এবং প্রতিষ্ঠিত করার ব্রত নিয়ে আমরণ ত্যাগ স্বীকার করে যান। অর্থ আর স্বার্থের উর্ধে থেকে যায় চিরদিন সে মাতৃত্ব।

‘মা দিবস’ মায়েদের আরো সচেতন করে আদর্শ মা হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং মাতৃত্বসুলভ উন্নত মননশীলতার জন্ম দেবে; যার পরোক্ষ ফল হিসেবে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে এবং আগামী প্রজন্ম পাবে একটি সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ।

সন্তানের গোটা জীবনই মায়ের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সময়, এমনকি মা-বাবার মৃত্যুর পরেও সন্তানের এ দায়িত্ব কখনো শেষ হয় না। মানব সন্তানেরা মায়ের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা বেমালুম ভুলে যায় বলেই বিশ্বজুড়ে গৃহে বা বৃদ্ধাশ্রমে অসহায় মায়ের প্রতি বঞ্চনা, অবহেলা আর অবজ্ঞার বার্তা শোনা যায়। তাই আদর্শ পরিবারের সন্তান - সন্ততির অবশ্য কর্তব্য সব সময়ই মা-বাবার প্রতি আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধাশীল হওয়া, তাঁদের মান্যগন্য করা, তাদের সঙ্গে নম্র ও সদয় আচরণ করা এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।