ঢাকা, ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ৩০ কার্তিক ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৩৬

কৃষকলীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

কৃষি জমিতে শিল্পকারখানা নয়

প্রকাশিত: ১৬:৫৬ ৬ নভেম্বর ২০১৯  


কৃষি জমি নষ্ট করে যত্রতত্র শিল্পকারখানা করতে দেয়া হবে না। সাফ জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বললেন, আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। এটার অর্থ হলো যেন কৃষি জমি নষ্ট না হয়। যারা ইন্ডাস্ট্রি করতে চায়, তাদের ওইসব অঞ্চলে প্লট দেয়া হবে। সব ধরনের সার্ভিস দেয়া হবে। তারা সেখানে শিল্প গড়ে তুলবে। কারণ কৃষি জমি বাঁচাতে হবে।’

বুধবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষক লীগের ১০ম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আমরা উন্নত হবো, শিল্পায়ন করবো। তবে কৃষকদের বা কৃষিকে বাদ দিয়ে নয়। কাজেই আমরা উন্নয়নে কৃষকদের সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকি।


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষকরাই বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখে। কৃষক ফসল ফলায়, আমরা খেয়ে বেঁচে থাকি। একটি সমাজ ও দেশের জন্য কৃষক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


শেখ হাসিনা বলেন, আগে কৃষক ফসল ফলাতো, কিন্তু তার পেটে খাবার ছিল না। তাদের পরনের কাপড় ছিল না। কৃষকের অধিকার সংরক্ষণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কৃষক যেন তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ই-কৃষি চালু হয়েছে। কৃষকরা যেকোনও সমস্যার সমাধানে ‘১৬১২৩’নম্বরে কল করে জানতে পারে। আমাদের কৃষকরাও এখন যথেষ্ট পরিপক্ব। মোট কথা কৃষকদের যত ধরনের সুবিধা দেয়ার কথা, আমরা তা দিচ্ছি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশকে কীভাবে উন্নত সমৃদ্ধশীল করে গড়ে তুলবো। সেদিকে লক্ষ রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এরইমধ্যে জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৮ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কৃষি খাতে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। আগে কৃষকদের ভর্তুকি দিতে গেলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক মানা করতো। আওয়ামী লীগ সরকার তা সচল রেখেছে। আজ আমরা ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি। গত ১১ বছরে আমরা কৃষি খাতে ৬৫ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছি।


শেখ হাসিনা বলেন, কোনও জমি আর অনাবাদি থাকবে না। আনাচে-কানাচে, ঘরের পাশে, এমনকি ছাদেও যেন কিছু চাষ হয়, ফসল উৎপাদন হয়। যেসব কৃষকের নিজেদের বাড়ি আছে, ভিটা আছে বা ভিটার পাশে জমি আছে, সেখানেও তারা যেন উৎপাদন করতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়েই “আমার বাড়ি, আমার খামার” প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।


কৃষিখাতে গবেষণার গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গবেষণা ছাড়া কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা গবেষণার মাধ্যমে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন করছি। বর্তমানে দেশেই গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সবজি ১২ মাসই উৎপাদন করা যাচ্ছে। আমরা কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছি।


শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। খাদ্য উৎপাদনে সারাবিশ্বে আমরা চতুর্থ অবস্থানে আছি। বাংলাদেশে একটি মানুষও আর গৃহহারা থাকবে না। তাদের প্রত্যেকের যেন মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়, আমরা সে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

 

জাতীয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কৃষক লীগের সভাপতি আলহাজ মোতাহার হোসেন মোল্লা। অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা।

বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সর্বভারতীয় কৃষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক অতুল কুমার অঞ্জন।

দ্বিতীয় ও সাংগঠনিক অধিবেশনে কৃষক লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সমীর চন্দ। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন উম্মে কুলসুম। 

বেলা ১১টায় দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কবুতর উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর সেখানে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে পরিবেশন করা হয় কৃষক লীগের ‘কৃষক বাঁচাও দেশ বাঁচাও’থিম সং। 

কৃষক লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। ওই সম্মেলনে সাবেক ছাত্রনেতা মোতাহার হোসেন মোল্লাকে সভাপতি ও খোন্দকার শামসুল হক রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে ১১১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
 


এই বিভাগের আরো খবর