ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, ২০১৯ || ২ আশ্বিন ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৯০

জাপা নেতৃত্বে ফের বিভক্তি!

জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান মানেন না রওশন

প্রকাশিত: ১২:৫৭ ২৩ জুলাই ২০১৯  


জিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মানেন না রওশন এরশাদ। নিজেকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করেন এরশাদপত্নী।

গণমাধ্যমে পাঠানো সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার প্যাডে হাতে লেখা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এমন দাবি করেন।

 

বিবৃতি দেয়ার পর সোমবার রাতে রওশন এরশাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এই বিবৃতি দিয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে করার কারণে বিবৃতিটি হাতে লেখা হয়েছে।

 

বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, যথাযথ কোনো ফোরামে আলোচনা না করেই জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা পার্টির গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। তিনি এখনও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জিএম কাদেরকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রওশন।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ। ১৪ জুলাই মারা যান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর আগে জুনে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরকে দায়িত্বভার অর্পণ করেন তিনি।

 

এরশাদের মৃত্যুর চার দিনের মাথায় ১৮ জুলাই জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পাঁচ দিন পরেই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে মানতে আপত্তি জানালেন রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা ২০ () এরএর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। যথামনোনীতভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাগরিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করিবেন। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে গঠনতন্ত্রের ধারা ২০ () এরকে উপেক্ষা করা যাবে না। আশা করি, বর্তমানে যিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তি চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

আমি আশা করবো, পার্টির সকল নেতাকর্মী দলের গঠনতন্ত্রর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হইবেন। বিষয়ে নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ একমত পোষণ করেন এবং আরও সিনিয়র নেতাগণ একমত পোষণ করেন।

 

. বেগম রওশন এরশাদ এমপি, সিনিয়র কো চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টি

. ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য

. ফখরুল ইমাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য

. সেলিম ওসমান এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য

. লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি

. রওশন আরা মান্নান এমপি

. নাসরিন জাহান রত্মা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য

. মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য

. মীর আব্দুস সবুর আসুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য

১০. অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য।

পাঠানো বিবৃতিতে রওশন এরশাদের সই রয়েছে।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে বিভক্তির বিষয়টি আবারও সামনে চলে এলো। এরশাদের মৃত্যুর পর জিএম কাদের রওশন এরশাদের মধ্যে দলের নেতৃত্ব এবং ক্ষমতা নিয়ে যে বিবাদের সৃষ্টি হতে পারে তা রাজনৈতিক মহলে অনুমিতই ছিল। বিশেষ করে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার আসন নিয়ে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি এমন আভাস আগেই দিয়েছিল। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলের আসনে গিয়ে গত জানুয়ারিতে জিএম কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ঘোষণা করলেও সে সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেননি পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরেই তাকে সরিয়ে রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করতে বাধ্য হন তিনি।

 

এরও আগে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া-না নেওয়া নিয়ে রওশন জিএম কাদেরের পারস্পরিক মতপার্থক্য ভীষণ দোটানায় ফেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে। সরকারি দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে মধ্যস্থতা করে তাদের সঙ্গে জোট গড়ার লবি করেন রওশন এরশাদ। এরশাদ তার চাপে মহাজোটে থাকার ঘোষণা দেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মন্ত্রী থাকার পরেও বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় জাতীয় পার্টিকেও নির্বাচনের বাইরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান জিএম কাদের তার অনুসারীরা। ফলে দোটানায় পড়েন এরশাদ। একবার নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দেন, আবার পর মুহূর্তে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক তামাশার সৃষ্টি করেন। অবস্থায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি থাকতে হয় তাকে। নির্বাচনে না গিয়ে টানা পাঁচ বছর সংসদের বাইরে ছিলেন জিএম কাদের। এদিকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন রওশন এরশাদ। আর হাসপাতালের শয্যায় থেকেও নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ছিলেন সাবেক স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদ। 


এই বিভাগের আরো খবর