ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি বুধবার, ২০২০ || ১৫ মাঘ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৬৩

‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার চান হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:১২ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯  


আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহারে হাইকোর্ট অভিমত দিয়েছেন। ‘জয় বাংলা’কে কেন জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হবে না- এ প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানিকালে মঙ্গলবার আদালত এ অভিমত দেন।
বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি রক এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এদিন শুনানিকালে আদালত এ মৌখিক অভিমত দেন। ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার এ তথ্য দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদ। এছাড়া ‘জয় বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান বিষয়ে আনা রিটের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট বার সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু।
ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, আদালত বলেছেন সামনে ১৬ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী সব অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ভাষণ-বক্তৃতায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ব্যবহার করতে হবে। রাষ্ট্র পক্ষে সাবমিশন ছিল সংবিধানের ৩ ও ৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় প্রতীক, জাতীয় পতাকার বিষয় থাকলেও জাতীয় স্লোগানের কথা নেই। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সংবিধানে আছে। আমরা রাষ্ট্রপক্ষে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ‘জয় বাংলা ‘ঘোষণা বিষয়ে আনা রিটের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। এ বিষয়ে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন।
এডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আমাদের সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সংযোজন আছে। সেই হিসেবে ‘জয় বাংলা’ সংবিধানের অংশ হিসেবে আছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে জাতীয় স্লোগান থাকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান আমাদের উদ্দীপ্ত করেছে। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান ঘোষণায় সবাই একমত।
২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
রুলের বিবাদীরা (রেসপনডেন্ট) হচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব ও শিক্ষা সচিব।
ড. বশির আহমেদ বলেন, ‘জয় বাংলা’ হচ্ছে আমাদের জাতীয় প্রেরণার প্রতীক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাতীয় স্লোগান আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে আমরা আমাদের চেতনার সেই ‘জয় বাংলা’কে স্বাধীনতার এতদিন পরেও জাতীয় স্লোগান হিসেবে পাই নাই।
তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা’ কোনো দলের স্লোগান নয়, কোনো ব্যক্তির স্লোগান নয়, এটা হচ্ছে আমাদের ন্যাশনাল ইউনিটি। এই স্লোগান দিয়ে একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
রুলের শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে ১৪ জানুয়ারি।


এই বিভাগের আরো খবর