ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার, ২০২৬ || ১৭ মাঘ ১৪৩২
good-food

নেতিবাচক চিন্তাধারা কি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৪৭ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬  

সম্প্রতি এক গবেষণা বলছে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক চিন্তাভাবনা, অর্থাৎ ‘নিরাশাজনক মনোভাব’, মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে এবং ডিমেনশিয়ার লক্ষণ ত্বরান্বিত করতে পারে।

এটি শুধুমাত্র মানসিক অবস্থা নয়, বরং শারীরিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন চিন্তাভাবনা ধীরে ধীরে স্ট্রেসের মাত্রা বাড়িয়ে মস্তিষ্কের কোষগুলোতে ক্ষতি করতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

ডিমেনশিয়া ও ডিপ্রেশনের জটিল সম্পর্ক

ডিমেনশিয়া, ডিপ্রেশন এবং উদ্বেগের মতো রোগগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটা যোগসূত্র আছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে ডিপ্রেশন অর্থাৎ বিষণ্নতায় ভোগেন তাদের ইন্টারভিউ কিংবা পরীক্ষায় উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা কম থাকে এবং উদ্যমের অভাব দেখা যায়। অর্থাৎ, যখন কেউ পরীক্ষায় ঠিকভাবে উত্তর দিতে পারে না, তা তার মস্তিষ্কের ক্ষতিরই ইঙ্গিত হতে পারে বা শুধুই মানসিক অনুপ্রেরণার অভাবও হতে পারে।

মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক আশাবাদী প্রক্রিয়া

স্বাভাবিকভাবে মানুষ কিছুটা আশাবাদী হয়। আমরা ধরে নিই যে আমাদের ধারণা সঠিক, বিশ্ব ন্যায্য এবং অনেক কিছু আমাদের অনুকূলে ঘটবে। এটি আমাদের আত্মবিশ্বাসী রাখে, উদ্যমী রাখে এবং অতিরিক্ত উদ্বেগ কমায়। কিন্তু যখন এই প্রাকৃতিক আশাবাদ হারায়, যেমন ডিপ্রেশনে ঘটে, তখন মানুষ বেশি চাপ ও নেতিবাচকতার সম্মুখীন হয়।

ডিমেনশিয়া, ডিপ্রেশন এবং উদ্বেগের মতো রোগগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটা যোগসূত্র আছে।

নেতিবাচক চিন্তা এবং মানসিক চাপ

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষত যাদের ইতোমধ্যেই কোনো কারণে মস্তিষ্কের কোষে ক্ষতি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা ডিমেনশিয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে পারে। স্ট্রেস হরমোন যেমন কর্টিসল দীর্ঘমেয়াদিভাবে মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, স্মৃতি এবং শেখার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।

নিজের চিন্তাভাবনায় সচেতন থাকা, নেতিবাচকতার চক্র ভাঙার চেষ্টা করা এবং মানসিক চাপ কমানো গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট অভ্যাস যেমন নিয়মিত হেঁটে বা ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া এবং ইতিবাচক সামাজিক সংযোগ তৈরি করা মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

ছোট পরিবর্তন, বড় প্রভাব

ছোট জীবনধারার পরিবর্তন, যেমন ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করা, ধ্যান করা, এবং চাপ নিয়ন্ত্রণ করা, দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মানসিক সুস্থতা শুধুই মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নয়; এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কার্যকারিতা, সম্পর্ক এবং মানসিক শক্তিকেও প্রভাবিত করে। 

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর