ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার, ২০২১ || ৬ মাঘ ১৪২৭
good-food
১৫৯

ভ্যাকসিন হালাল না হারাম, এ বিতর্ক কেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:২৯ ২১ ডিসেম্বর ২০২০  

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের অনুমোদন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মুসলিম সংগঠনগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইসলামিক থিওলজিক্যাল কমিউনিটি, হালাল অ্যাসোসিয়েশন এবং হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস।

 

ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে জনগণকে ফাইজার ও বায়োটেকের ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে। এটিকে অনুমোদন দিয়েছে ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএমএ) এবং অন্যান্য ইসলামি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে এ ভ্যাকসিন হালাল।

 

ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এ ভ্যাকসিন তৈরিতে শূকরের কিছু ব্যবহার করা হতে পারে বলে শঙ্কা মুসলমানদের। এমনকি জবাই করা গরুর কোনো কিছু ব্যবহার করা হতে পারে। ইসলাম ধর্মে এই দুটিই নিষিদ্ধ অর্থাৎ হারাম। তবে এতে প্রাণি উৎসের কোনো উপাদান নেই। এটি সম্পূর্ণ হালাল।

 

ভ্যাকসিনটিতে রয়েছে কোলেস্টেরল। এ নিয়েও আপত্তি রয়েছে মুসলিম গোষ্ঠীর। কারণ, এটি কোনো প্রাণির চর্বি থেকে নেয়া হতে পারে। তবে আশ্বস্ত করেছে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। তাদের কথায়, এ উপকরণ উদ্ভিদ থেকে নেয়া হয়েছে। সেটি সিনথেটিকও হতে পারে।

 

তবে এ ভ্যাকসিন হালাল না হারাম তা নিয়ে পরিষ্কার কোনো মন্তব্য করেনি অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) সংশ্লিষ্টরা। সংস্থাটির দেশগুলোর (৫৭) ‘স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড মেট্রোলজি ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক কান্ট্রিজ (এসএমআইআইসি)’ ২০১৯ সালে হালাল ফার্মাসিউটিক্যালসে (টিসি১৬) টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে। এখন পর্যন্ত তারা মুখ খুলেনি।

 

এরই মধ্যে করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন করেছে একাধিক বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি। সেই তালিকায় রয়েছে ফাইজার-বায়োটেক, মডার্না, সিনোফার্মা, সিনোভ্যাক ও স্পুটনিক-ভি। সেসব ভ্যাকসিন হালাল বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও সেই সার্টিফিকেট তাদের নেই।

 

এসএমআইআইসিতে কাজ করেন মোহাম্মদ আলি আল শেখ। তিনি বলেন, তারা দাবি করতে পারে না, তাদের পণ্য (ভ্যাকসিন) হালাল। নিজ থেকে এ ঘোষণা দিলে হবে না। তৃতীয় পক্ষকেও এ নিয়ে সার্টিফিকেট দিতে হবে। ফাইজার ও অন্যান্য কোম্পানিগুলো বলতেই পারে তাদের ভ্যাকসিন প্রাণিজ উপাদান মুক্ত। তবে হালাল এ নিয়ে সনদ না দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

বিশ্ব হালাল কর্তৃপক্ষের (ডব্লিউএইচএ) প্রধান নির্বাহী ডা. মোহামেদ এল-কাফরায়ে বলেন, হালালের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন অনুমোদনের ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলোকে হালাল সার্টিফিকেট প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে। মুসলিমদের বৃহৎ স্বার্থেই তা করতে হবে। তাদের প্রত্যাশানুযায়ীই সেটা করতে হবে।

ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর