ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার, ২০১৯ || ১ আশ্বিন ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
২১৮

‘রাসায়নিক নয়, অগ্নিকাণ্ড গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে‘

প্রকাশিত: ২১:০২ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  


রাসায়নিক নয়, গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ওয়াহেদ ম্যানসনের হোটেল বা ভবনটির সামনে একটি গাড়ি থেকে সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ কারও দেহে কেমিক্যালের চিহ্ন বা গন্ধ পাওয়া যায়নি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। উল্লেখ করা হয়েছে, গেল ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে চকবাজারের চুড়িহাট্টা জামে মসজিদ সংলগ্ন আসগর লেন, নবকুমার দত্ত রোড ও হায়দার বক্স লেনের মিলনস্থলে আগুন লাগে। এই গলিপথের একপাশে ওয়াহেদ ম্যানসন। অন্যপাশে বাচ্চু মিয়ার গলি। ওয়াহেদ ম্যানসনের নিচতলায় হোটেল ও ওপরের তলায় কসমেটিকসের গুদাম ছিল। আশপাশের কয়েকটি দোকানে বিক্রির জন্য প্লাস্টিকের গ্রেনুলার রাখা ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এলাকায় কেমিক্যালের কারখানা ছিল। তবে অগ্নিকাণ্ডের আশপাশে রাসায়নিকের কোনো কারখানা বা গোডাউন (গুদাম) ছিল না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি গাড়ি রাখা ছিল। ওই সময় হোটেল অথবা গাড়িতে রাখা একটি গ্যাস সিলিন্ডার হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বৈদ্যুতিক লাইনের ট্রান্সফরমারে ধরে যায়। ট্রান্সফরমারও বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী অন্ধকারে বের হওয়ার পথ হারিয়ে ফেলেন। ওয়াহেদ ম্যানসন ও বাচ্চু মিয়ার বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিলিন্ডারবাহী গাড়িটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। রাস্তায় কসমেটিকসের প্রচুর বোতল ও প্লাস্টিকের গ্রেনুলার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, শিল্প সচিব আবদুল হালিম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের কর্মকর্তারা চকবাজার ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় শিল্পমন্ত্রী জনসাধারণ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দুর্ঘটনার সূত্রপাত বিষয়ে কথা বলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি আহত ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন নারী ও পাঁচ শিশু রয়েছে। এছাড়া ঘটনার পর ঢামেকে দগ্ধ ৫২ জন ভর্তি হন। এদের মধ্যে ৪১ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়ে যান। বাকি ১১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে নয়জন বার্ন ইউনিটে এবং বাকি দুজন ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, মৃত কিংবা অগ্নিদ্বগ্ধ কারও দেহে কেমিক্যালের চিহ্ন বা গন্ধ পাওয়া যায়নি। এছাড়া দেহগুলো ড্রাই ফ্লেমে দগ্ধ ছিল।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, অগ্নি দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশসহ ১২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মফিজুল হককে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এই কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।


এই বিভাগের আরো খবর