ঢাকা, ১২ আগস্ট বুধবার, ২০২০ || ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭
good-food
১২৯০

সন্তানের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় বেঁচে থাকুক পিতা

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:৩৭ ১৭ জুলাই ২০২০  

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ শুক্রবার ভোরে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 


ড. এমাজউদ্দীন আহমদ খুব গরীব পরিবারের সন্তান ছিলেন। কিন্তু ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর প্রচন্ড আগ্রহ ছিল।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (মালদহে) পড়ার সময় আলহাজ্ব রফাতুল্লাহ বিশ্বাস তার মেয়ে খাইরুননেসার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে এমাজউদ্দীন আহমদের পড়া শোনার সব দায়িত্ব নিয়ে নেন। শ্বশুরের সহযোগিতায় তিনি পড়া লেখা শেষ করেন।

 

প্রথম জীবনে এমাজউদ্দীন আহমদ একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তারপর আরো উন্নত জীবনের আশায় ঢাকায় আসেন। এরপর ভুলে যান তার অতীত। 


একমাত্র ছেলে মোখলেসুর রহমান নানা-নানীর বাড়িতে (চাঁপাইনবাবগণ্জ জেলার নাচোল উপজেলার মাক্তাপুর গ্রামে) বড় হন। পড়া শোনা শেষ করে মোখলেসুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। তার ছেলে মেয়েরাও উচ্চ শিক্ষিত। এক ছেলে রুবেল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। 


এমাজউদ্দীন আহমদের প্রথম স্ত্রী খাইরুননেসা এখনও বেঁচে আছেন। ভালোও আছেন। এমাজউদ্দীন আহমদ স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে ফেলে ঢাকায় চলে আসার পর আর কোনো সম্পর্ক ও যোগাযোগ রাখেননি।

 

আরেকটি বিয়ে করে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থানকারী এমাজউদ্দীনের মা (অনেক আগেই মারা গেছেন) ও ভাইয়েরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

 

দেড় দশক আগে ছেলে মোখলেসুর রহমান পিতার স্বীকৃতি চেয়ে মহিলা পরিষদে একটি আবেদন করেন। কোনো সম্পদ নয়, তার দাবি ছিল শুধুই সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি। তখন (‘৯৪-৯৫) বিএনপি ক্ষমতায়। আর এমাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সেই ক্ষমতার বলে এমাজউদ্দীন আহমদ বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য সাংবাদিক শফিকুল ইসলামকে (তখন খবর গ্রুপে কাজ করতেন) ভয় দেখান। তা সত্ত্বেও শফিকুল ইসলাম প্রয়াত কবি শ্রদ্ধেয় সুফিয়া কামাল, মহিলা পরিষদের আয়শা খানম, প্রয়াত সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরী ও খন্দকার মোজাম্মেল হক এবং সাংবাদিক আজমল হক হেলাল প্রমুখের সহযোগিতায় এমাজউদ্দীন আহমেদকে একটি বৈঠকে বসান। সেই বৈঠকে তিনি প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানকে স্বীকার করেন। 


না, তারপর মোখলেসুর রহমান (আমাদের মুকুল ভাই) পিতার কাছে কোনো সম্পদ দাবি করেননি। তবে তার নানা বেঁচে থাকা অবস্থায় তার অন্য খালাদের শিক্ষিত ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেননি। 


মুকুল ভাইকে আজ সকালে দু:সংবাদটি জানানোর জন্য ফোন করি। কিন্তু তিনি জানালেন, রাতেই তিনি এ খবর পেয়েছেন। আর জানবেনই না বা কেন - অবহেলা, অনাদরে দূরে রাখলেও তবুও তো তিনি জন্মদাতা বাবা। তার শরীরে যে পিতার রক্তই প্রবাহিত হচ্ছে। 
আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। ওপারে ভালো থাকুন গুণী শিক্ষক অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ।

 

(সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন-এর ফেসবুক পেজ থেকে)