করোনা: ঝুঁকিতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতক
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ২২:৫১ ২৮ মার্চ ২০২১
কোভিড-১৯ এর থাবায় থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। পৃথিবীজুড়ে এক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে আতঙ্ক নিয়ে দিনাতিপাত করছেন কোটি কোটি মানুষ। এরই মাঝে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতক শিশুরা।
শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালে এদেশেও প্রসূতি মা ও নবজাতকদের রূঢ় বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লকডাউন ও কারফিউয়ের মতো নিয়ন্ত্রণমূলক নানা পদক্ষেপ; মহামারী সামলাতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর হিমশিম অবস্থা ও সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ধাত্রীসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড-১৯ রোগীদের সেবাদানে নিয়োজিত থাকায় শিশুর জন্মের সময় দক্ষ লোকবলের ঘাটতি রয়েছে। সবমিলিয়ে এই সময়ে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
ময়মনসিংহের বেসরকারি কর্মকর্তা শাহীন আলমের স্ত্রী তহুরা খানম অন্তঃসত্ত্বা। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে তাঁর ডেলিভারি হওয়ার কথা। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হতে ভয় পাচ্ছেন তিনি। তার ভাষ্য, করোনার আতঙ্ক চারদিকে। কিছু জটিলতা থাকায় চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু করোনাকালে চিকিৎসা ব্যবস্থার যে বেহাল অবস্থা দেখা দিয়েছে তাতে হাসপাতালে যেতে ভয় পাচ্ছি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুজ্জাহান পান্না বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার বাস্তবতায় যখন অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা একটি নতুন জীবন আনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে মায়েরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তবে আমরা সবধরনের রোগীদেরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেবা দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, করোনা-১৯ সঙ্কট শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। উল্লেখ্য, ৬৩টি জেলা হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৩৩টিতে এখন সবধরনের জরুরি গর্ভকালীন ও প্রসূতি সেবা দেয়া হচ্ছে।
অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) এর সাবেক সভাপতি রওশন আর বেগম বলেন, এখন স্বাস্থ কেন্দ্রে পরিষেবা কমায় আরও অতিরিক্ত ৩৮ শতাংশ প্রসব হচ্ছে বাড়িতে। এতে মাতৃমৃত্যু এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে। তবে করোনাকালে নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য করোনা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির মধ্যে মাতৃস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটি আছে। এ উপ-কমিটি কয়েক দফা সুপারিশে গর্ভাবস্থায় মায়ের প্রথম তিন মাসে একবার, শেষ তিন মাসের মধ্যে করোনা টেস্ট করা এবং কোনো মা হাসপাতালে গেলে ফিরিয়ে না দেয়ার কথা বলা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স এবং ধাত্রীদের জন্য নির্দেশিকা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহামারী চলাকালে মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগের পরিচালক ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া বলেন, সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে সহায়তা করবে এবং স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীদের সুরক্ষা দেবে। তাই নির্দেশনা অনুযায়ী আক্রান্ত রোগীদের থেকে আক্রান্ত নন-এমন রোগীদের পৃথক করা, হাত ধোয়া ও অন্যান্য হাইজিন বিষয়গুলি মেনে চলা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামগুলির যৌক্তিক ব্যবহার করতে হবে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ সত্ত্বেও অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষাকারী রুটিন সেবাসমূহ যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে অব্যাহত রাখা দরকার। অনাগত মাসগুলোতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও অসুস্থ নবজাতকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে জীবন রক্ষায় সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ।
তিনি বলেন, করোনার এই সময়ে দেশে নারীদের গর্ভকালীন, সন্তান জন্মকালীন ও সন্তান জন্মের পরের সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অসুস্থ নবজাতকের জরুরি সেবা লাগবে। কারণ তাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করার জন্য সহায়তা এবং সুস্থ রাখতে ওষুধ, টিকা ও পুষ্টি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ইউনিসেফের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ইউনিসেফ বলছে, কোভিড-১৯ মহামারীর আগেও প্রতিবছর ২৮ লাখ অন্তঃসত্ত্বা নারী ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, প্রতিরোধ করা যায় এমন কারণেই অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে। তবে মা ও শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে বাংলাদেশ সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন অভীষ্ট (এমডিজি) অর্জন করেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের হোম ভিজিটের সুযোগ দিতে হবে। আর প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের গর্ভকালীন ও প্রসূতি সেবার জন্য তৈরি করা বাড়িতে (ম্যাটারনাল ওয়েটিং হোম) থাকা এবং টেলিফোনে পরামর্শ গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। যেসব জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে সেখানে বাড়িতে গিয়ে সন্তান জন্মকালীন সেবা প্রদানে স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং জীবাণুমুক্ত বার্থ কিটসহ সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ঘরবন্দী নারী ও শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকি, মানসিক চাপ ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত নারী কর্মীরা কর্মহীন হয়ে পড়ছে। অনেকের আয় কমে গেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার উপর।
দেখা যায় যেকোন দুর্যোগের সময় নারী ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে করোনা মোকাবেলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১ লাখ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে নারীরাও উপকৃত হচ্ছে। এক কোটি পরিবারকে সরকার খাদ্য সহায়তা ও শিশু খাদ্য বিতরণ করছে।
- শরীরে যে ১১ লক্ষণ অবহেলা করা বিপজ্জনক
- বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধে লেনদেনে কোনো প্রভাব পড়বে?
- বোমা মেরে অমিতাভের বাংলো উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
- ফের কক্সবাজারে হোটেলে আগুন, রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক
- কানাডায় পাচার ও ধর্ষণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ড
- হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব বন্ধ হলে মজুত তেলে কত দিন চলবে বিশ্ব?
- নিজের ভাগ্যের চাকা নিজেই ঘোরাবেন যেভাবে
- ভিটামিন ডি নিয়ে ৬ ভুল ধারণা: জেনে নিন সঠিক তথ্য
- সাইবার হামলার শঙ্কা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ
- সৌদিতে পৃথক হামলায় নিহত ৪, আহত ১০, আছে বাংলাদেশিও
- ওয়ানডে ইতিহাসে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন ব্রুক
- বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান
- তুরস্ক-পাকিস্তান-কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বদর চুক্তি
- সাদা নাকি লাল: ডায়াবেটিসে কোন চাল বেশি উপকারী?
- সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: গোপনীয় চিঠিতে যা জানা গেল
- রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু ২৫ অক্টোবর, দাম্মামে বৃহস্পতিবার
- ডিভি লটারি চালুর আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল ট্রাম্প প্রশাসনের
- বিসর্জনে শেষ শারদীয় দুর্গোৎসব
- বাংলাদেশ, নেপালের মতো ভারতে সরকার বদল হবে না: আরএসএস প্রধান
- রসুনের জাদুকরী গুণের কথা জানেন?
- মেসি-বেকহ্যামকে ট্যাগ করে নেইমারের রসিকতা
- পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে মাদক জব্দ: নারীসহ আটক ৮৪
- আ.লীগ-জামায়াত এক হয়েছে, পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে:প্রধানমন্ত্রী
- স্বাদের চিপস, স্বাস্থ্যের বিপদ
- বেগুনে পোকা থাকলে কি খাওয়া উচিত?
- রোনালদোকে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা করল পর্তুগাল
- জনতা, সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল
- একই আঙিনায় মসজিদ-পূজামণ্ডপ
- গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, বিএনপি কর্মীরা চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়
- সংসদ সদস্য কি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারেন?
- প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় যেভাবে হবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ - ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে দারিদ্র্য, ধারণা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের
- এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
- এডিস মশা শনাক্ত করবে ‘স্মার্ট ফাঁদ’
- মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট রাখা বাধ্যতামূলক
- বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনল বিজিবি
- ভাত রান্নার আগে চাল ভালো করে ধুতে বলা হয় কেন?
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি পরিবর্তন
- কম্বোডিয়ায় ‘আটকা’ ১৮০০ বাংলাদেশি
- ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার বিষয়: প্রধানমন্ত্রী
- বয়স্করা যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
- পিস্তলকাণ্ডে সমালোচনার মুখে ইশরাক, নাকচ করলেন পদত্যাগের খবর
- কবি নজরুলের যে কবিতায় কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য
- একই আঙিনায় মসজিদ-পূজামণ্ডপ
- ডিভি লটারি চালুর আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল ট্রাম্প প্রশাসনের
- রোনালদোকে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা করল পর্তুগাল
- মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, আহত ২
- সাদা নাকি লাল: ডায়াবেটিসে কোন চাল বেশি উপকারী?
- বিসর্জনে শেষ শারদীয় দুর্গোৎসব

