ঢাকা, ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার, ২০২০ || ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
good-food
১৫২

আখেরি মোনাজাতে শেষ ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১২:৩১ ১৯ জানুয়ারি ২০২০  

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। আজ রোববার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১ টা ৫০ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ জমশেদ।  বিশ্ব মুসলিমের শান্তি-কল্যাণ এবং গুণাহ্ মুক্তির দোয়া করেন মুসল্লিরা। অশ্রু বিসর্জন আর আমিন-আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয় পুরো এলাকা।  মূল ময়দান ছাড়িয়ে জনস্রোত নামে আশপাশের বিশাল এলাকাজুড়ে। 

আখেরি মোনাজাত শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান ঢাকার নানা প্রান্ত ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুসল্লিরা। 

পরিবহনে চড়তে না পেরে হেঁটেই রওয়ানা দেন অনেকে। 

 

আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার রাত থেকেই ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানের দিকে আসেন। এর আগে সকাল থেকে হেদায়েতি বয়ান চলে ইজতেমা ময়দানে। 

ইজতেমার মাঠজুড়ে বিশাল শামিয়ানার নিচে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে অবস্থান করেন অংশগ্রহণকারী চিল্লাধারী সাথিরা। মুসল্লিরা সবাই নিজের মতো করে শৃঙ্খলা মেনে চলেন। 

 

হেদায়েতি বয়ান : 


রোববার সকাল থেকে ইজতেমায় বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইকবাল হাফিজ। ইমান, আখলাক, দিনের ওপর মেহনত, ইসলামকে শক্তিশালী করা, সব ভেদাভেদ ভুলে নিজের দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা, নবীওয়ালা কাজে দিন ও সময় ব্যয় করা, পৃথিবীতে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়া, ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা, নামাজ-রোজা ও আল্লাহর ইবাদত পালনের ওপর বয়ান পেশ করা হয়।

বয়ানে বলা হয়, যে দিন ইসলামের বিধান অনুসারে চলবে এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করবে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করবে। ইমানকে শক্তিশালী করতে হলে মানুষকে মসজিদের পরিবেশে বসাতে হবে। মুসলমানের নামাজ ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। নামাজ এমনভাবে আদায় করতে হবে, যেমন নবী করিম (সা.) আদায় করেছেন। জোর-জবরদস্তি করে নয়, তাজিমের সঙ্গে বুঝিয়ে কাউকে মসজিদে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রত্যেকটি কাজ আল্লাহকে রাজি ও খুশি করার জন্যই করতে হবে।

 

যৌতুকবিহীন ৮৬ বিয়ে : 


এ পর্বে মূল বয়ান মঞ্চে যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত না হলেও ইজতেমা ময়দানের বিশেষ কামরায় (কক্ষে) বর ও কনের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ৮৬টি যৌতুকবিহীন বিয়ে হয়েছে। বিয়েতে মোহরানা ধার্য করা হয় ‘মোহর ফাতেমি’ নিয়ম অনুযায়ী। এই নিয়ম অনুযায়ী মোহরানার পরিমাণ ধরা হয় ১৫০ তোলা রুপা বা এর সমমূল্য অর্থ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।

 

নিরাপত্তা : 


গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাঁচ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখা হয়।

 

মোনাজাতে অতিরিক্ত মাইক : 


গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস সূত্র জানায়, বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আখেরি মোনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদফতর ইজতেমা ময়দান থেকে আবদুল্লাহপুর-বিমানবন্দর রোড পর্যন্ত এবং জেলা তথ্য অফিস ইজতেমা ময়দান থেকে চেরাগাআলী, টঙ্গী রেলস্টেশন, স্টেশন রোড ও আশপাশের অলিগলিতে পর্যাপ্ত মাইক সংযোগের ব্যবস্থা করে।

 

মোনাজাতে বিশেষ ট্রেন ও বাস : 


আখেরি মোনাজাতের দিন ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে ১৬টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করে। সব আন্তঃনগর ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করে। এছাড়া বিআরটিসির শতাধিক বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা নেয়া হয়। ইজতেমাস্থল থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তামুখী ৩০টি এবং মহাখালীমুখী ৩০টি বাস চলাচল করে।

মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী ও আশপাশ এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।

 

এ বছর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয় ১০ জানুয়ারি।  ১২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে মাওলানা যোবায়ের অনুসারীদের প্রথম পর্ব শেষ হয়। প্রথম পর্বে ৬৪টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন। 


দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমাতেও দিল্লির মাওলানা সা’দ কান্ধলাভির অনুসারী ৬৪ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন।