ঢাকা, ০৩ আগস্ট মঙ্গলবার, ২০২১ || ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮
good-food
১০৯

জেনে নিন অনন্য স্থাপত্য বায়তুল মোকাররমের ইতিহাস

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৪৯ ১১ জুলাই ২০২১  

রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পল্টনের বুক চিরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব নিদর্শন বায়তুল মোকাররম। এটি বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ। ১৯৫৯ সালে বায়তুল মোকাররম মসজিদ সোসাইটি গঠনের মাধ্যমে ঢাকায় একটি উচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন তৎকালিন বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি ও তাঁর ভাতিজা ইয়াহিয়া বাওয়ানি।

 

পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার মিলনস্থলে এ মসজিদটির জন্য ৮.৩০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়।

 

ওই স্থানটি নগরীর প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র থেকেও ছিল নিকটবর্তী। সেই সময় মসজিদের অবস্থানে একটি বড় পুকুর ছিল, যা পল্টন পুকুর নামে পরিচিত ছিল। পুকুরটি ভরাট করে ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান মসজিদের কাজের উদ্বোধন করেন।

 

পুরো মসজিদ কমপ্লেক্সটির নকশা করেন সিন্ধুর বিশিষ্ট স্থপতি আব্দুল হুসেন থারিয়ানি। নকশায় স্থান পায় দোকান, অফিস, গ্রন্থাগার, কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থাসহ নানা সুবিধা।

 

বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি, শুক্রবার। অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। ধারণক্ষমতার দিক দিয়ে এটি বিশ্বের দশম বৃহত্তম মসজিদ।

 

১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। বর্তমানে বায়তুল মোকাররম মসজিদটি আটতলা। নিচতলায় রয়েছে বিপণিবিতান ও অত্যাধুনিক সুসজ্জিত একটি বৃহৎ মার্কেট কমপ্লেক্স।

 

সুদৃশ্য কারুকাজ শোভিত বায়তুল মোকাররম মসজিদের দোতলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত প্রতি তলায় নামাজ পড়া হয়। মসজিদের ভেতরে রয়েছে প্রচুর সংখ্যক মুসল্লীর একসঙ্গে অজুর ব্যবস্থা। এছাড়া রয়েছে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজকক্ষ। রয়েছে ইসলামী পাঠাগার।

 

ব্যস্ত রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মসজিদটি ২০০৮ সালে সম্প্রসারণ করা হয় সৌদি সরকারের অর্থায়নে। পরে আরো সংস্কার কাজ করা হয় মসজিদ কমপ্লেক্সের। এই মসজিদের শোভাবর্ধন ও উন্নয়নের কাজ এখনো অব্যাহত।