ঢাকা, ১৭ নভেম্বর রোববার, ২০১৯ || ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৩৪

মারাত্মক বায়ুদূষণে দিল্লি

তাজমহল রক্ষায় বসলো এয়ার পিউরিফায়ার

প্রকাশিত: ১৭:৫৯ ৫ নভেম্বর ২০১৯  


ভারতের রাজধানীর বাতাস কিছুটা সুস্থ হয়েছে। পশ্চিমি ঝঞ্ঝা গতি বাড়িয়ে উত্তর ভারতমুখী হয়েছে। প্রায় ১০ দিন পর সূর্যের দেখা মিলেছে। তা সত্ত্বেও কিন্তু দিল্লির বাতাস নিয়ে চিন্তা যাচ্ছে না পরিবেশবিদদের। জীবের পাশাপাশি এই দূষণ থাবা বসিয়েছে পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য তাজমহলেও, যা দীর্ঘ দিন ধরেই পরিবেশবিদদের উদ্বেগের কারণ। ফলে তাজমহলের গায়ের রংও ক্রমশ ধূসর হয়ে যাচ্ছে।

দিল্লির এই মারাত্মক দূষণ থেকে তাজমহলকে রক্ষা করতে তাই মঙ্গলবার এয়ার পিউরিফায়ার বা বায়ু পরিশোধক বসানো হল। তাজমহলের গেটের বাইরে এই দুটো বিশালাকার বায়ু পরিশোধক ভ্যান দাঁড় করানো হয়েছে।


উত্তরপ্রদেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণকারী বোর্ড এই বায়ু পরিশোধক যন্ত্রগুলি বানিয়েছে। এক একটা মেশিন তার চারপাশে তিনশো মিটারের মধ্যে ১৫ লাখ কিউবিক বায়ু আট ঘণ্টায় পরিশোধন করতে সক্ষম।

আগ্রা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আর কে রাঠি জানিয়েছেন, বায়ুদূষণের হাত থেকে তাজমহল এবং এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের রক্ষা করতেই এই ব্যবস্থা।

মারাত্মক বায়ুদূষণে ধুঁকছে দিল্লি সমেত গোটা উত্তর ভারত। সোমবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে। যদিও ওই দিন সকালেও আকাশ ঘন ধোঁয়াশায় ঢাকা ছিল। সোমবার সকাল ৯টা নাগাদ বাতাসের গুণগত সূচক ছিল ৫০০-র কাছাকাছি। তবে ওই দিন সকাল ১০টার পর থেকে অবস্থার কিছুটা বদল হতে শুরু করে।

গত এক সপ্তাহ ধরে মারাত্মক বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে যুঝছে উত্তর ভারত, দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিকে ঘন ধোঁয়াশার চাদর ঘিরে রয়েছে। বছরভর গোটা বিশ্ব থেকে অসংখ্য পর্যটক তাজমহল দেখতে আসেন।

এদিকে সোমবারই দিল্লির দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট । শীর্ষ আদালতে জানিয়েছে, ‘‘প্রতি বছর দিল্লির দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং আমরা কিছুই করতে পারছি না। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। একজন খড় পুড়িয়ে অন্যদের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। কেন্দ্র ও দিল্লি সরকার একে অপরের উপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। এটা কেন্দ্রের জন্য হয়ে থাকুক বা দিল্লি সরকারের জন্য, আমাদের তাতে কিছু যায় আসে না।''

সুপ্রিম ‌কোর্ট জানিয়েছে, শিশু থেকে যুবক ও বৃদ্ধ, সকলেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কেন কৃষকরা খড় জ্বালাচ্ছে? এর জন্য জরিমানার বিধান থাকা সত্ত্বেও তাঁরা এমনটা করছেন কী করে এবং সরকারই বা তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শীর্ষ আদালত।

 

এই দূষণের জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন আদা‌লত। কটাক্ষ করে বলা হয়, সরকার ভোট নিয়ে বেশি আগ্রহী। এই সব ছেড়ে খড় জ্বালানো বন্ধ করতে এগিয়ে আসুক তাঁরা। এটা সহ্য করা হবে না।


সোমবার দিল্লির বায়ু দূষণের পরিমাণ ছিল ৪৩৯। যা গুরুতর বলেই ধরা হয়। আনন্দবাজার। এনডিটিভি।


এই বিভাগের আরো খবর