ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২৯ মাঘ ১৪৩২
good-food

নির্বাচনে প্রতীকের ব্যবহার কীভাবে এলো?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:৫৫ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

১৯৬০-এর দশকে এথেন্সের একটি আবর্জনার স্তূপে প্রত্নতাত্ত্বিকরা খুঁজে পান প্রায় ৮,৫০০টি পোড়ামাটির টুকরো।

এগুলো ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৪৭১ সালের এক ভোটের ব্যালট। যাকে বলা হতো ‘অস্ট্রাকা’। প্রতিটি টুকরোয় লেখা ছিল এমন একজনের নাম, যাকে ভোটাররা শহর থেকে ১০ বছরের জন্য নির্বাসিত দেখতে চেয়েছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৮৭ থেকে ৪১৬ সাল পর্যন্ত এথেন্সে ‘অস্ট্রাসিজম’ বা এক ধরনের ‘নেগেটিভ ভোটিং’ চালু ছিল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী প্রতীকের ব্যবহার শুধু আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।

কিন্তু ওই ‘ব্যালট’গুলোতে কি প্রতীকের ব্যবহার করা হয়েছিল? জানা যায় না। সভ্যতার ইতিহাসে এটিকে প্রথম নির্বাচনী প্রক্রিয়া বলা গেলেও, তখন প্রতীকের ব্যবহার ছিল কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রতীক ব্যবহার মূলত আধুনিক ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এর শিকড় গড়ে উঠেছে ১৯শ শতাব্দীতে, বিশেষ করে আমেরিকায়। ১৮২৮ সালে অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণায় প্রথমবারের মতো ‘গাধা’ প্রতীক দেখা যায়। তার প্রতিপক্ষরা তাকে অপমান করতে এই প্রতীক ব্যবহার করলেও, জ্যাকসন তা গ্রহণ করে নেন এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতীক হিসেবে প্রচার করেন। পরে ১৮৭০-এর দশকে কার্টুনিস্ট থমাস নাস্ট এটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন, যা আজও আমেরিকান রাজনীতির অংশ।

আরও পড়ুন: নির্বাচনি প্রতীক যেভাবে রাজনৈতিক পরিচয় হলো

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রতীক। 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী প্রতীকের ব্যবহার শুধু আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন দেশে ভোটারদের জন্য প্রতীক যেমন একটি ভিজ্যুয়াল পরিচয় হিসেবে কাজ করতে শুরু করে, তেমনি তা রাজনৈতিক পার্টি বা প্রার্থীর স্বীকৃতি বাড়ানোর মাধ্যমেও পরিণত হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতীক ভোটের বোঝাপড়া সহজ করে, কারণ লিখিত নাম বা তথ্য নাও বুঝতে পারে তারা। তাই প্রতীক এক ধরনের ‘ভিজ্যুয়াল ভাষা’ হিসেবে উদ্ভাবিত হয়, যা ভোটকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর করে তোলে। আজও বিশ্বজুড়ে নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্ব অপরিসীম।

ভোটের সব খবর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর