ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২৯ মাঘ ১৪৩২
good-food
২৯

ভোট ও রাজনীতি নিয়ে বিখ্যাতদের মজার কিছু উক্তি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:৫৪ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

নির্বাচন মানেই চারদিকে টানটান উত্তেজনা। চায়ের কাপে ঝড় থেকে শুরু করে ফেসবুকের দেয়াল পর্যন্ত সর্বত্রই চলে প্রার্থীদের নিয়ে নানা তর্ক আর পাল্টা তর্কের ভিড়। আমাদের সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়েও মানুষের মধ্যে গঠনমূলক বা সমালোচনামূলক নানা মত রয়েছে। এই গাম্ভীর্যের মাঝে একটু হাসির খোরাক জোগাতে পারেন বিশ্বের সব নামী দামী মানুষেরা। রাজনীতি আর নির্বাচন নিয়ে তারা এমন সব কথা বলে গেছেন যা শুনলে আপনার হাসি পাবে আবার ভাবতেও বাধ্য করবে। আসুন জেনে নিই নির্বাচন নিয়ে বিখ্যাতদের এমন কিছু মজার ও তীক্ষ্ণ উক্তি।

  • রাজনীতি শব্দটির সংজ্ঞাই অন্যভাবে দিয়েছেন বিখ্যাত অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস। তিনি বলেন পলিটিক্স শব্দটির পলি অংশটি এসেছে লাতিন শব্দ থেকে যার অর্থ হলো অনেক বা বহু। আর টিক্স হলো এক ধরণের রক্তচোষা পোকা বা উকুন। অর্থাৎ অনেক রক্তচোষা পোকা মিলেই যেন তৈরি হয় রাজনীতি। 
  • নির্বাচনে যোগ্য মানুষের জয় নিয়ে উইল রজার্স বেশ আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে আমরা সব সময় আশা করি যেন সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীই জয়ী হন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো এটি কখনোই ঘটে না।
  • সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্টালিনের মতে জনগণের এটা জানাই যথেষ্ট যে দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে। যারা ভোট দেয় তারা আসলে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না। বরং যারা ভোট গণনার দায়িত্বে থাকেন তারাই ঠিক করেন ফলাফল কী হবে।
  • গোর ভিদাল গণতন্ত্রকে এক অদ্ভুত ব্যবস্থা হিসেবে দেখতেন। তার মতে এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কোনো বড় ইস্যু ছাড়াই প্রচুর টাকা খরচ করে নির্বাচন হয়। আর প্রার্থী হিসেবে তারাই দাঁড়ান যারা খুব সহজেই বিক্রি হয়ে যান।
  • রাজনীতিতে টাকা আর ভোটের হিসাব নিয়ে অস্কার আমেরিঙ্গার বলেছিলেন যে এটি হলো খুব ভদ্রভাবে গরিবদের থেকে ভোট আর ধনীদের থেকে চাঁদা আদায়ের একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষকেই ভরসা দেওয়া হয় যে তাদের অন্য পক্ষের হাত থেকে রক্ষা করা হবে।
  • হার কিংবা জিত নিয়ে ফিলিপাইনের সাবেক ফার্স্ট লেডি ইমেলদা মার্কোস ছিলেন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। তিনি বলেছিলেন যে হারি কিংবা জিতি নির্বাচনের ঠিক পরেই আমরা শপিং করতে যাব।
  • জেরাল্ড এফ লিবারম্যান মনে করতেন নির্বাচন আসলে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার একটি উপায়। এর মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো হয় যে তারাও সরকারের একটি অংশ।
  • মার্কিন লেখক ডিন কুন্টজ একবার এক দারুণ কথা বলেছিলেন। তাকে যখন বর্তমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রার্থী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন তিনি বলেন যে সারা জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর দুটি হরর মুভির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলা আর এই দুই প্রার্থীর মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া একই কথা।
  • রম্য লেখক জেরাল্ড বারজান প্রতিটি নির্বাচন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা নিয়ে বলেছেন যে আমরা শুধু এটাই শিখি যে আগের নির্বাচন থেকে আমরা আসলে কিছুই শিখিনি।
  • নিকিতা ক্রুশ্চেভ রাজনীতিবিদদের একই ধাঁচের বলে মনে করতেন। তিনি বলেছিলেন যে সব জায়গার রাজনীতিবিদরা একই রকম। তারা আপনাকে বিশাল সেতু বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন এমনকি সেখানে যদি কোনো নদী নাও থাকে।
  • সাবেক সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট এইচ এল মেনকেন নির্বাচনকে একটু ভিন্নভাবে দেখতেন। তার মতে প্রতিটি নির্বাচন আসলে চোরাই মাল বিক্রি করার জন্য আয়োজিত একটি উন্নত মানের নিলাম ছাড়া আর কিছু নয়।
  • জার্মান চ্যান্সেলর অটো ফন বিসমার্ক মানুষের মিথ্যা বলা নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে মানুষ আর কখনোই এত মিথ্যা বলে না যতটা তারা বলে থাকে কোনো শিকারের পর অথবা যুদ্ধের সময় কিংবা নির্বাচন চলাকালে।
  • ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ফ্র্যাঙ্ক ডেন একটি কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে সবচেয়ে ভালো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বরং তাকেই ভোট দিন যে সবচেয়ে কম ক্ষতি করবে।
  • জর্জ বার্নার্ড শ এর চোখে নির্বাচন আর যুদ্ধের মধ্যে তেমন তফাত নেই। তার মতে নির্বাচন যুদ্ধের মতোই ভয়াবহ। প্রথমটিতে মানুষ রক্তে ভেজে আর দ্বিতীয়টিতে কাদায় মাখামাখি হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।
  • মার্কিন বেতার উপস্থাপক রুশ লিমবাগ একটি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নির্বাচনে যে পরিমাণ ভোট পড়ে তার চেয়ে অনেক বেশি ভোট পড়ে আমেরিকান আইডল নামের একটি রিয়েলিটি শোতে।
  • মার্কিন কলামিস্ট বিল ভন ভোটারদের অলসতা নিয়ে রসিকতা করে বলেছিলেন যে আমেরিকার নাগরিকরা অন্য দেশে গণতন্ত্র বাঁচানোর জন্য সাগর পেরিয়ে যুদ্ধ করতে যাবে কিন্তু নিজের দেশে রাস্তা পেরিয়ে ভোট দিতে যাবে না।
  • সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গল রাজনীতি নিয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আসলে খুবই ভয়াবহ একটি ব্যাপার।


এই সব উক্তি শুনলে বোঝা যায় নির্বাচন শুধু ব্যালট আর ফলাফল নয়। এটি মানুষের আশা, হতাশা, হাসি আর ব্যঙ্গেরও অংশ। পৃথিবী বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনুভূতি খুব একটা বদলায়নি। তাই নির্বাচন এলে শুধু উত্তেজনা নয়, একটু হাসিও দরকার। কারণ কখনো কখনো একটি মজার কথা রাজনীতির কঠিন সত্যকে সবচেয়ে সহজভাবে বলে দেয়।

ভোটের সব খবর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর