দাস প্রথা টিকিয়ে রাখতে সংশোধন করা হয় ‘বাইবেল’
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ২১:২১ ৩ জানুয়ারি ২০১৯
দ্য স্লেভ বাইবেল, বা ক্রীতদাস বাইবেল হচ্ছে খ্রীস্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের এমন এক সংস্করণ, যা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল বাইবেলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটির মাধ্যমে ক্রীতদাসদের খ্রীস্টধর্মে দীক্ষা দেয়া হতো। কিন্তু বাইবেলের যেসব কাহিনী তাদের আবার মুক্তির স্বপ্ন দেখাতে পারে, সেসব কাহিনী এই বই থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল।
২’শ বছরেরও বেশি সময় আগে প্রকাশিত বাইবেলের এই খন্ডিত সংস্করণের একটি দুর্লভ কপি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসির বাইবেল মিউজিয়ামে। বাইবেল মিউজিয়ামের মাটির নীচের কক্ষটিতে বাইবেলের সরু এই সংস্করণটি অন্যগুলির চেয়ে আলাদাভাবে চোখে পড়ে। ব্রিটিশ ইতিহাসের এক অন্ধকার এবং গোলমেলে সময়ের সাক্ষী এটি।
ক্যারিবীয় অঞ্চলের ব্রিটিশ কলোনীগুলোতে যে আফ্রিকানদের ক্রীতদাস হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাদের পড়ানোর জন্য এই বাইবেল প্রকাশ করা হয়েছিল। 'সোসাইটি ফর দি কনভার্সন এন্ড রিলিজিয়াস ইন্সট্রাকশন অব নিগ্রো স্লেভস ইন দ্য ব্রিটিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ' নামে একটি ব্রিটিশ মিশনারী সংস্থা ছিল। সম্ভবত তাদের জন্যই এই বাইবেলটি প্রকাশ করা হয়।
ডেভিড এন্থনি স্মিথ এই মিউজিয়ামের বাইবেল এবং ধর্ম বিষয়ক কিউরেটর। তিনি বলছেন, নিউ টেস্টামেন্টের ৫০ ভাগ, এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের ৯০ ভাগই এই 'স্লেভ বাইবেল' থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। বিশেষ করে স্বাধীনতা এবং মুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো। বাদ গিয়েছিল বুক অব এক্সোডাসেরও অনেক অংশ।
এক্সোডাস অংশটিতে মূলত মিশরে ইসরায়েলাইটদের অবরুদ্ধ দশা এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুত ভূমিতে তাদের মুক্তির কথা বলা আছে। ক্রীতদাস প্রথার শিকার হওয়া আফ্রিকানরা যে বাইবেলের এই অংশটির প্রতি আকৃষ্ট হতেন, তার ঐতিহাসিক কারণ ছিল। কারণ এই ইজরায়েলাইটদের সঙ্গে তারা নিজেদের অনেক মিল দেখতে পেতেন।
কারণ তারাও তো অন্য একটি দেশে বন্দী অবস্থায় ছিলেন। তারাও মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। তারা ভাবতেন, আমরা যদি ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রাখি, আমরাও একদিন মুক্তি পাব। ঈশ্বর আমাদের মুক্তি দেবেন। কাজেই এই কাহিনী তাদের নিজেদের কাহিনির সঙ্গে খুবই মিলে যায়। দাস প্রথার শিকার এই আফ্রিকানদের মধ্য থেকে যে আধ্যাত্মিক নেতারা তৈরি হবেন, তাদের অনেকেই কিন্তু এ থেকে অনুপ্রেরণা নেবেন।
দাস প্রথার পক্ষে মিশনারীরা
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যের ন্যাশভিলের ফিস্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই বাইবেলটি ধার করে আনা হয়েছে। ১৮০৮ সালে লন্ডন থেকে এই বাইবেল প্রকাশ করা হয়েছিল। যার আগের বছরই কিনা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ক্রীতদাস ব্যবসা নিষিদ্ধ করে আইন পাশ হয়। মিশরে ইহুদী দাসদের ওপর নির্যাতনের চিত্র। বাইবেলের এক্সোডাসের অংশটি পুরোপুরি বাদ দেয়া হয়েছিল 'ক্রীতদাস বাইবেল' থেকে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে তার পরও কেন ব্রিটিশ মিশনারীরা এরকম একটি বাইবেল প্রকাশ করলেন? যেখানে এই মিশনারীদের অনেকেও দাস প্রথা বিলোপের পক্ষে ছিলেন। ফিস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের এসোসিয়েট প্রফেসর হলি টিপটন হামবি বলছেন, ব্রিটেন এবং আমেরিকায় ক্রীতদাস প্রথা বিলোপের পক্ষে যারা ছিলেন, তাদেরও একটা বিরাট অংশ কিন্তু তখনো বেশ বর্ণবাদীই ছিলেন।দাস প্রথা টিকিয়ে রাখতে ধর্মকেও ব্যবহার করা হয়েছিল।
এরকম একটা বাইবেলের সংস্করণ তাদের চিন্তাভাবনার সঙ্গে যায়। আঠারো বা উনিশ শতকে যারা খ্রীষ্টধর্ম পালন করতেন, তাদের অনেকে যদিও ক্রীতদাস রাখতেন না, তারা কিন্তু মনে করতেন শ্বেতাঙ্গ এবং অন্য বর্ণের মানুষরা কখনো সমান হতে পারে না।
ডেভিড এন্থনি স্মিথের মতে, এর বিপরীতে আরেকটা ব্যাপার ছিল, এই মিশনারীরা বিশ্বাস করতো, যদি উপনিবেশগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসদের মধ্যে খ্রীষ্টধর্ম প্রচার করা যায়, তাহলে হয়তো শ্বেতাঙ্গরা তাদের ক্রীতদাসদের সঙ্গে অনেক সদয় ব্যবহার করবে।
তারা ভাবতো, খ্রীষ্টধর্মের প্রসার ঘটিয়ে তারা তারা উপনিবেশের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারবে। যদিও এই বাইবেল কিনা একটা খন্ডিত সংস্করণ। ক্যারিবীয় অঞ্চলে ১৮৩৩ সালে দাস প্রথার বিলোপ ঘটানো হয়। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত ঐ অঞ্চলে ক্রীতদাস আনা অব্যাহত ছিল। এই দাস ব্যবসায় ধর্ম কী ভূমিকা পালন করেছিল, স্লেভ বাইবেল, বা বাইবেলের ক্রীতদাস সংস্করণ তারই সাক্ষী।
- কোথায় হারিয়ে গেলেন সাহারা?
- সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো
- ৩ জনকে অক্ষর শিখালে পুরস্কার পাবে শিক্ষার্থীরা
- বাংলায় তামাক এলো কোথা থেকে?
- ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুণতে হবে টাকা
- ৬ মাসের মধ্যে ৫ বিভাগে চালু হচ্ছে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল
- ইসরায়েলসহ যে তিন কারণে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা
- ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দর নির্ধারণ
- আইসিইউতে মুস্তাফা মনোয়ার
- মেসিকে ছাড়িয়ে গ্যারির পাশে হ্যারি
- ডিম টাটকা না পুরোনো, কেনার সময় বুঝবেন কীভাবে?
- বাজেটে পানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বড় বিনিয়োগ
- পরীমণি হয়ে পর্দায় আসতে চান দীঘি
- থ্রিলার ড্রয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু ইরানের
- চন্দন, মুলতানি মাটি নাকি অ্যালোভেরা জেল: ত্বকের জন্য উপকারী কোনটি
- আমাকে হয়রানি করা হয়েছে: ডা. জাহেদ
- গাছের মগডালে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন শিক্ষক
- স্মার্টওয়াচ কেনার সময় এড়িয়ে চলুন এই ভুলগুলো
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে যা যা আছে
- কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট
- ফিফা বিশ্বকাপ: ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের মেশিন
- প্রস্টেট ক্যান্সার নিয়ে প্রচলিত ৬ ভুল ধারণা
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ঘোষণা, তেলের বড় দরপতন
- আবারো দুই নায়িকা নিয়ে ফিরছেন শাকিব
- ‘লগান’-এর প্রস্তাব কেন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শাহরুখ-হৃতিক?
- দিনে কয়টা লিচু নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়?
- রামিসা হত্যা: আসামিদের জেল আপিল গ্রহণ
- সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
- ৯২ বছর ও টানা ২১ বিশ্বকাপে অপরাজিত ব্রাজিল
- আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি, ইরানে হামলা স্থগিত ট্রাম্পের
- প্রতিদিন কয়টা আম খাওয়া উচিত?
- সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
- ৯২ বছর ও টানা ২১ বিশ্বকাপে অপরাজিত ব্রাজিল
- ফিফা বিশ্বকাপ: ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের মেশিন
- শাকিরাকে নিয়ে বিতর্ক থামছেই না
- আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি, ইরানে হামলা স্থগিত ট্রাম্পের
- দিনে কয়টা লিচু নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়?
- আমাকে হয়রানি করা হয়েছে: ডা. জাহেদ
- গাছের মগডালে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন শিক্ষক
- বাংলাদেশে পৌঁছেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার
- গোল্ডেন বুট কি সোনার তৈরি?
- ‘লগান’-এর প্রস্তাব কেন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শাহরুখ-হৃতিক?
- চন্দন, মুলতানি মাটি নাকি অ্যালোভেরা জেল: ত্বকের জন্য উপকারী কোনটি
- আবারো দুই নায়িকা নিয়ে ফিরছেন শাকিব
- পরীমণি হয়ে পর্দায় আসতে চান দীঘি
- দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপ শুরু দ. কোরিয়ার
- প্রস্টেট ক্যান্সার নিয়ে প্রচলিত ৬ ভুল ধারণা
- কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট
- থ্রিলার ড্রয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু ইরানের
- আইসিইউতে মুস্তাফা মনোয়ার

