ঢাকা, ২১ আগস্ট বুধবার, ২০১৯ || ৫ ভাদ্র ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৫১১

আমজাদ হোসেন আর নেই

প্রকাশিত: ২০:৪০ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  


কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার ও স্বনামখ্যাত অভিনয় শিল্পী আমজাদ হোসেন আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিলাহে … রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
তিনি স্ত্রী, ৪ পুত্র ও এক কন্যা সন্তান, বহু আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহীসহ ও চলচ্চিত্রভক্তদের রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে আজ শুক্রবার দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর সংবাদে ঢাকার চলচ্চিত্র জগৎ (ঢালিউড), নাট্যাঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তার মৃত্যুতে পৃথক শোক প্রকাশ করেছেন।
শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী শোক বার্তায় দেশের চলচ্চিত্র জগতে আমজাদ হোসেনের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, বরেণ্য এই চলচ্চিত্র নির্মাতার মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হল।
উল্লেখ্য, খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওস্থ ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বরেণ্য চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতার খবর জানতে পেরে তার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাস দেন।
পরে তিনি আমজাদ হোসেনের উন্নত চিকিৎসার খরচ বাবদ ২০ লাখ টাকা ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া বাবদ ২২ লাখ ৩৫ হাজার টাকাসহ মোট ৪২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্রকারের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
মরহুম আমজাদ হোসেনের পুত্র সাজ্জাদ হোসেন দুদুল জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আর্থিক অনুদান পাওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ২৭ নভেম্বর মধ্যরাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককে নেয়া হয়। তাকে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রখ্যাত নিউরোসার্জন টিরা ট্যাংভিরিয়াপাইবুনের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে ১৯৬১ সালে রুপালি পর্দায় আমজাদ হোসেনের আগমন ঘটে। পরে চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় তিনি মনোনিবেশ করেন।
১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘খেলা’। সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’র চিত্রনাট্য লেখায় জহির রায়হানের সঙ্গে আমজাদ হোসেনও ছিলেন।
এছাড়াও আমজাদ হোসেন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘নয়নমনি’, ‘ভাত দে’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’ ও ‘কসাই’ চলচ্চিত্র দর্শদের যেমন মন কুড়ায় তেমনি বোদ্ধামহলেও এসব ছবি প্রশংসা পায়। তার লেখা ও নির্মিত টিভি নাটকগুলোও অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
আমজাদ হোসেন একুশে পদকে ভূষিত হওয়া ছাড়াও চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।