ঢাকা, ২৬ আগস্ট বুধবার, ২০২৬ || ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
১৫২

গ্লুকোজ নয়, ডায়াবিটিসের আসল কালপ্রিট প্রকাশ্যে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:২১ ২৬ এপ্রিল ২০২৬  

রক্তে সুগার লেভেল বাড়লে সব সময়ে গ্লুকোজকে দোষারোপ করা হয়। কিন্তু শর্করার তালিকায় একা গ্লুকোজ নেই। সাম্প্রতিকতম গবেষণা বলছে, ওবেসিটি ও ডায়াবিটিসের সমস্যা ডেকে আনতে গ্লুকোজের তুলনায় ফ্রুক্টোজ বেশি দায়ী। এই চিনি শরীরে দ্রুত চর্বি জমাতে সাহায্য করে। গবেষকদের মতে, রোগের ঝুঁকি কমাতে হলে ফ্রুক্টোজ থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু কী ভাবে এই শর্করা শরীরের ক্ষতি করে এবং কোন কোন খাবারে মেলে এই ফ্রুক্টোজ? চলুন জেনে নেওয়া যাক কী বলছে গবেষণা।

কোন খাবারে ফ্রুক্টোজ মেলে?

এই শর্করা প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং বিভিন্ন ধরনের পানীয়তে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সস, বাজারচলতি ফলের রসেও ফ্রুক্টোজ পাওয়া যায়। বেশ কিছু প্রাকৃতিক খাবারেও ফ্রুক্টোজ মেলে। আপেল, ন্যাশপাতি, আঙুরের মতো ফল এবং মধুতে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় ফ্রুক্টোজ মেলে।

ফ্রুক্টোজ আসলে কী কাজ করে?

ন্যাচার মেটাবলিজম জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ফ্রুক্টোজের একটি বিশেষ ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। এই শর্করা শুধু ক্যালোরি বাড়ায় না, বরং রোগেরও সৃষ্টি করে। গবেষকরা টেবিল সুগার (সুক্রোজ) এবং হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপের মতো সাধারণ মিষ্টি পদার্থের প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। এই দুই শর্করাতেই গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে। কিন্তু ফ্রুক্টোজের কিছু বিশেষ বিপাকীয় প্রভাব রয়েছে, যা ওবেসিটি এবং ডায়াবিটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াতে সাহায্য করে।

গবেষকদের মতে, ফ্রুক্টোজ শুধু ক্যালোরি নয়, মেটাবলিক সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে। এটি গ্লুকোজের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে শরীরে চর্বি তৈরি ও জমাতে সাহায্য করে।

শরীরে কী প্রভাব ফেলে ফ্রুক্টোজ?

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ফ্রুক্টোজ শরীরে অন্য চিনির তুলনায় ভিন্ন রূপে প্রসেস হয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক কিছু প্রক্রিয়ার এড়িয়ে যায়, ফলে বেশি পরিমাণে চর্বি তৈরি হয় এবং সেগুলো জমা হতে থাকে। ফ্রুক্টোজ কোষের শক্তি কমিয়ে দেয় এবং ক্ষতিকর উপাদান তৈরি করে, যা শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ায়—যার মধ্যে রয়েছে ওবেসিটি, টাইপ-২ ডায়াবিটিস এবং হার্টের সমস্যা।

ভুল খাবার খেলেই কি শরীরে ফ্রুক্টোজ ঢোকে?

ফ্রুক্টোজের মূল উৎস ফল এবং কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবার। কিন্তু শরীর নিজেও ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ তৈরি করে। দীর্ঘক্ষণ খাবার না খেলে শরীর শক্তি সঞ্চয় করতে ফ্রুক্টোজ ব্যবহার করে। কিন্তু আজকাল যে পরিমাণে ফাস্ট ফুড ও সফট ড্রিঙ্কস খাওয়ার চল বেড়েছে, তাতে বেশিরভাগ খাবারেই ফ্রুক্টোজ মেলে। স্বাভাবিক ভাবেই শরীরের কাছে এখন ফ্রুক্টোজ সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।

ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ কোন খাবারগুলো খাওয়া যায়?

গবেষকদের মতে, ফ্রুক্টোজ আপেল, ন্যাশপাতি, আঙুর, কিশমিশ, মধুর মতো প্রাকৃতিক খাবারে পাওয়া যায়। এই ধরনের ফল গোটা খেলে কোনও ভয় নেই। কারণ এতে ফ্রুক্টোজের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার থাকে। এগুলো শর্করা শোষণের প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। তাই ফ্রুক্টোজ সেই রূপে শরীরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে না। 

ফ্রুক্টোজের প্রভাব এড়াতে কী কী খাবেন না?

ফ্রুক্টোজের প্রভাব কমাতে হলে টেবিল সুগার (চিনি), সফট ড্রিঙ্কস, প্যাকেটবন্দি ফলের রস, কেক, বিস্কুট, সসের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হয়। এই ধরনের খাবারে ফাইবার থাকে না। তাই শরীরে দ্রুত শর্করা শোষণ করে নেয়। এবং ফ্রুক্টোজ শরীরে অতিরিক্ত চর্বি উৎপন্ন করে এবং সেগুলো জমাতে থাকে। সহজ কথায়, পরিশোধিত চিনির ব্যবহার কমাতে হবে।

 
লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর