ঢাকা, ১০ এপ্রিল শুক্রবার, ২০২০ || ২৬ চৈত্র ১৪২৬
good-food
৬৭

তামিমের রেকর্ড রাঙা ম্যাচে শ্বাসরূদ্ধকর জয় বাংলাদেশের

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:১৩ ৩ মার্চ ২০২০  

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ৪ রানে হারিয়ে একটি হাতে রেখেই তিন ম্যাচ সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। এ নিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস পর ওডিআই সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলেন টাইগাররা। মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩২২ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৮ রান তুলতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ে।
বোলিংয়ে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন মাশরাফি ও শফিউল। সফলতা আসে চতুর্থ ওভারেই। জিম্বাবুয়ে চাকাভাকে আউট করেন শফিউল। তবে স্বাগতিকদের ওপর চড়া হন কামুনহুকামউই ও  টেলর। দেদাড়সে পেটাতে থাকেন তারা। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। মিরাজের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়ে ফেরেন টেলর।
এরপর তৃতীয় উইকেটে কামুনহুকামউই জুটি বাঁধেন অভিজ্ঞ উইলিয়ামসের সঙ্গে। ১৪ রানে উইলিয়ামসকে এলবিডব্লিউ করে তাদের বিচ্ছিন্ন করেন মিরাজ। পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও একপ্রান্ত আগলে রেখে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন কামুনহুকামউই। পরক্ষণেই তাকে ফেরান তাইজুল।
এরপর আরেকটি বড় জুটি গড়েন রাজা ও মাধেভেরে। দুজনে পঞ্চম উইকেটে যোগ করেন ৮১ রান। মাধেভেরে ৫৬ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম হা সেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে তার ইনিংসটি বড় করতে দেননি তাইজুল। ব্যক্তিগত ৫২ রানে তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। এরপর রিচমন্ড মুতুমবামিকে ১৯ রানে একইভাবে শিকার করেন বাঁহাতি স্পিনার।
৮ ওভারের প্রথম স্পেলের পর আক্রমণে ফিরে রাজার তোপের মুখে পড়েন মাশরাফি। তবে তাকে উড়িয়ে মারতে গিয়েই ব্যক্তিগত ৬৬ রানে আউট হন তিনি। অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিরিপানো ও মাতুমবোদজি। তাদের জুটিতে মাত্র ২৮ বলে আসে পঞ্চাশ। দুই জনের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে জয়ের পথেই ছিল জিম্বাবুয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেনি তারা।
৩৪ রান করা মাতুমবোদজি শেষ ওভারে আল-আমিন হোসেনের বলে সাজঘরে ফিরলে জয়ের আশা নিভে যায় জিম্বাবুয়ের। তিরিপানো শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ক্যারিয়ার সেরা ৫৫ রান করে।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। শুরুটা দারুণ করেন তামিম ও লিটন। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৮ রান তোলেন তারা।
এ পথে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড গড়েন তামিম। টপকে যান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবকে। নিষেধাজ্ঞার কারণে আপাতত খেলার বাইরে তিনি। সাকিব জিম্বাবুইয়ানদের বিপক্ষে ৪২ ইনিংসে করেন ১৪০৪। ৪০ ইনিংসে তাকে ছাড়ান তামিম। 
তামিমের কীর্তির পরই দুর্ভাগ্যক্রমে রানআউট হয়ে ফেরেন লিটন। প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এদিন দুই অংকের ঘরও স্পর্শ করতে পারেননি (৯)। সেই রেশ না কাটতেই তামিমের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে রানআউটে কাটা পড়েন শান্ত। তবে স্বচ্ছন্দে খেলে যান তামিম। ব্যাটে ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরি। ছন্দময় ব্যাটিয়ে ফিফটি তুলে নেন তিনি। 
এর আগে খানিক ব্যবধানে দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে একটু চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই অবস্থায় দলের হাল ধরেন নির্ভরতার প্রতীক মুশফিক। তামিমকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন দেন তিনি। এক পর্যায়ে দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে। উভয়ই রানের নহর ছোটান। তাতে হু হু করে বাড়ে দলীয় রান। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে মাধেভেরের শিকার হয়ে ফেরেন মুশি। ফেরার আগে অবশ্য ক্যারিয়ারে ৩৮তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৫০ বলে ৬ চারে ৫৫ রান করেন মিস্টার ডিপেন্ডবল।
তবে একপ্রান্ত আগলে রাখেন তামিম। লম্বা সময় পর সূচনা থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করেন তিনি। ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরি। খেলেন সব নান্দনিক শট। অনুমিতভাবেই ইতিহাস গড়েন ড্যাশিং ওপেনার। স্পর্শ করেন বহুল প্রত্যাশিত ও কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক।
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে ৭০০০ রানের অভিজাত ক্লাবে পৌঁছান তামিম। ২০৬ ম্যাচে এ কীর্তি গড়েন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ৩, ৫ ও ৬ হাজার রানের মাইলস্টোনও স্পর্শ করেন দেশসেরা ওপেনার। সমান ম্যাচ খেলে ৬৩২৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন সাকিব। পরের স্থানে রয়েছেন মুশফিক। তার রান ৬১৭৪।
এখানেই ক্ষ্যান্ত থাকেননি তামিম। ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান তিনি। স্বাভাবিকভাবেই দোর্দণ্ড প্রতাপে অনবদ্য সেঞ্চুরি তুলে নেন ড্যাশিং ওপেনার। এটি তার ক্যারিয়ারের ১২তম তিন অংক ছোঁয়া ইনিংস। এ নিয়ে ১৯ মাস ও ২৩ ম্যাচ পর তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি।
এসময়ে তামিমকে যথার্থ সঙ্গ দেন মাহমুদউল্লাহ। দারুণ জোট বাঁধেন তারা। তাদের ইস্পাত কঠিন জুটিতে খেই হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। ফলে বিদ্যুতগতিতে বাড়ে বাংলাদেশের রান। কিন্তু আচমকা থেমে যান মাহমুদউল্লাহ। ফিফটি থেকে মাত্র ৯ রান দূরে থাকতে টিসুমার বলির পাঁঠা হন তিনি। এতে ভাঙে ১০৬ রানের জুটি।
তবে থেকে যান তামিম। পরে ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে জিম্বাবুয়ে বোলারদের কচুকাটা করেন তিনি। রীতিমতো চালান স্টিম রোলার। তাদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন তিনি। তবে এরপর বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি মারকুটে ওপেনার। কার্ল মুম্বার বলে শিকার হয়ে অবশেষে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
ফেরার আগে ১৩৬ বলে ১৫৮ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন তামিম। ২০ চার ও ৩ ছক্কায় এ নান্দনিক ইনিংস সাজান তিনি। এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি।
এর আগের রেকর্ডটিও বাঁহাতি বিধ্বংসী ওপেনারের। সেটাও এ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০০৯ সালে বুলাওয়েতে আগস্টে ১৫৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি। একদিনের ক্রিকেটে দেশের হয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান মুশফিকের। ২০১৮ সালে দুবাইয়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৪৪ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলেন তিনি।
তামিমের বিদায়ের পর প্রত্যাশানুযায়ী রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্রুত ফেরেন মিরাজ, মাশরাফি ও তাইজুল। এ ত্রয়ীর কেউ দুই অংকের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২২ রান করেন স্বাগতিকরা। জিম্বাবুয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন মুম্বা ও তিরিপানো।

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর