ঢাকা, ০১ এপ্রিল বুধবার, ২০২০ || ১৮ চৈত্র ১৪২৬
good-food
১৪৫

বুকের ভেতরটায় দগদগে ক্ষত

বোনের মৃত্যু টলাতে পারেনি বিশ্বজয়ী আকবরকে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:২৩ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে বিশ্বজয়ের সাফল্য এনে দেয়ার কারিগর। ট্রফি হাতে মুখে চওড়া হাসি। তিনি আমাদের গর্ব আকবর আলী। গর্জে ওঠা বাংলার নতুন বাঘ। যুবক্রিকেটের কর্ণধার। 


কে বলবে, স্বজন হারানোর ব্যথা বুকে নিয়েই বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলকে নেতৃত্ব দিলেন তিনি !


হাজার মাইল দূরে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেললেন বিশ্বকাপ। গেল ১৮ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ৯ উইকেটের বড় জয় আকবর আলীর দলের। ২১ জানুয়ারি পরের ম্যাচে স্কটল্যান্ডও পাত্তা পেল না। ২০০ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ।


টানা দুই জয়ে উৎফুল্ল দল, অধিনায়ক হিসেবে আকবরও ভীষণ খুশি। এমন সময়ে দেশ থেকে এলো দুঃসংবাদ। ২২ জানুয়ারি তার একমাত্র বোন খাদিজা খাতুন চলে গেছেন না ফেরার দেশে। যমজ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান তিনি।


স্বজন হারানোর ব্যথায় মুষড়ে পড়াটাই স্বাভাবিক ছিল তরুণ ক্রিকেটার আকবরের জন্য। কিন্তু ভেঙে পড়লেন না তিনি। শোককে শক্তিতে পরিণত করলেন। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় ধাপে নাম লেখানোর পর কোয়ার্টার ফাইনাল আর সেমিফাইনালেও সহজে জিতল বাংলাদেশ।


ফাইনালে প্রতিপক্ষ সেই ভারত। যে ভারতের বিপক্ষে মাস চারেক আগে এশিয়া কাপের ফাইনালে হেরেছিল আকবর আলীর দল। সেবার ১০৬ রানে ভারতীয়দের আটকে দিয়েও ৫ রানে হেরে যায় তারা।


এবার ফাইনালে ভারতকে ১৭৭ রানে গুটিয়ে দেয়ার পরও তাই দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে বসে থাকার উপায় ছিল না। একটা সময় তো ১৪৩ রান তুলতে ৭ উইকেট হারিয়ে সেই এশিয়া কাপকেই মনে করাচ্ছিল জুনিয়র টাইগাররা।


কিন্তু বুকে শোক চেপে রেখে দারুণ নেতৃত্বে যিনি দলকে এতদূর নিয়ে এসেছেন, তিনি কি শেষবেলায় হাল ছেড়ে দেবেন? আকবর তো হাল ছাড়ার পাত্র নন। দলের চরম বিপর্যয়ে এবার ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন নিজেই।


৭৭ বল খেলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় খেললেন হার না মানা ৪৩ রানের ইনিংস। ফিরলেন বিজয়ীর বেশে, মুখে চওড়া হাসি নিয়ে। সবার সামনে স্থাপন করলেন পেশাদারিত্বের অনন্য এক নজির। 

 

শোককেই শক্তিতে পরিণত করে ইতিহাস গড়েছেন আকবর। দেশকে প্রথমবারের মতো এনে দিয়েছেন আইসিসির কোনো বিশ্বকাপ ইভেন্টের শিরোপা। তিনি নিজেকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নায়কোচিত ইনিংস খেলে।

সতীর্থরা বলছেন, ‘উনার মতো অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলা সত্যিই দারুণ ব্যাপার। পুরো দলকে যেভাবে উজ্জ্বীবিত করেছেন, সেটা দারুণ। এমন শোক মাথায় রেখে ফাইনালে এভাবে খেলা, কারও পক্ষেই হয়তো সম্ভব নয়। আমরা সত্যিই বিস্মিত। তাকে স্যালুট।

 

যুব দলের ট্রেনার মুজাদ্দেদ সানি জানালেন, মৃত্যুর খবর তাদের কাছে আগেই এসেছিল। কিন্তু পরিবারের চাপে সেই কথা আকবরকে জানানো হয়নি। কারণ সামনেই যে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, ওর পরিবার আমাদের জানালেও ওকে জানাতে নিষেধ করেছিল। যখন জানলো, খুব অভিমান করেছিল। ও খুব চাপা স্বভাবের, এর পরেও কেঁদেছে। নিজেকে সামলে নিয়ে সবাইকে ম্যাচে ফোকাস রাখতে বলেছে। সত্যিই ভিন গ্রহের মানুষ আকবর।


বিশ্বকাপ জয়ের নায়কের হাস্যোজ্জ্বল যে ছবি এখন বিশ্বের শতকোটি মানুষ দেখছেন। কিন্তু কে বলবে, এ হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে কত যন্ত্রণা, কত বেদনা! একমাত্র বোন হারানোর দু:সহ ব্যথা, বুকের ভেতরটায় দগদগে ক্ষত!
 

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর