ঢাকা, ২০ জুলাই শনিবার, ২০১৯ || ৪ শ্রাবণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১৫৭

দত্তা’র শুটিং ভোটের পর

ভারত ছাড়তে হলো ফেরদৌসকে

প্রকাশিত: ১০:৫৫ ১৭ এপ্রিল ২০১৯  


ভোট প্রচারনা বিতর্কে জড়িয়ে অবশেষে  ভারত ছাড়তে হল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌসকে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আইন বহির্ভূত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছিল ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলো।  

 

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করেছে। এছাড়া দেশ ছাড়ার নির্দেশের পাশাপাশি তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।  

এরপরই মঙ্গলবার রাতে বিমানে ঢাকায় ফেরেন তিনি।

ফেরদৌস আহমেদ মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে ঢাকায় রওনা হন। 

 

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা ফেরদৌস রোববার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়ালের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন।

 

এই খবর প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতারা তাকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগ করেন তারা।

 

এরপরই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি এই অভিনেতার বিষয়ে এই পদক্ষেপ নেয়।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইমিগ্রেশন ব্যুরো থেকে বাংলাদেশি নাগরিক ফেরদৌস আহমেদের ভিসার শর্ত লংঘনের তথ্যের ভিত্তিতে তার বিজনেস ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। তাকে কালো তালিকাভুক্তও করা হয়েছে।

 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দত্তা’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য সপ্তাহখানেক ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন ফেরদৌস।

 

রোববার নির্বাচনী প্রচারের সরঞ্জামে সজ্জিত একটি হুডখোলা গাড়িতে ফেরদৌসের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তার পাশে কলকাতার দুই অভিনয়শিল্পী পায়েল সরকার ও অঙ্কুশকেও দেখা যায়।

এছাড়া নির্বাচনী সমাবেশেও দেখা যায় তাকে। 

বিদেশি নাগরিক হয়ে তার ভোটের প্রচারে অংশ নেয়া নিয়ে বিজেপি নেতারা সরব হলে পরিস্থিতি জটিল হয়। এরপরই জনপ্রিয় এ অভিনেতার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয় ভারত।   

 

তবে এ বিষয়ে ফেরদৌস বলেছেন, বোলপুরে ছবির শুটিং চলছিল। আমার এক পরিচিত প্রডিউসারের অনুরোধে তৃণমূলের প্রচারে যোগ দিয়েছিলাম। আর কিছু না।

 

বিষয়টিকে তিনি ও তৃণমূল নেতারা হালকাভাবে দেখতে চাইলেও তা হয়নি। ফেরদৌসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে সোমবার নির্বাচন কর্মকর্তা আরিজ আফতাবের কাছে যান বিজেপি নেতা জয় প্রকাশ মজুমদার ও শিশির বাজোরিয়া।

 

রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি জয় প্রকাশ বলেন, ফেরদৌস ভিসা আবেদনে কী কারণ উল্লেখ করেছিলেন, তা ভারতের নির্বাচন কমিশনকে খতিয়ে দেখতে হবে। একজন বিদেশি নাগরিক কি ভারতে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন? ভিসার নিয়ম ভাঙার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।

 

তৃণমূল ফেরদৌসকে ভোটের প্রচারে নিয়ে আইন লংঘন করেছে অভিযোগ করে দলটির প্রার্থী কানাইয়ালালের প্রার্থিতা বাতিলেরও আবেদন করেছে বিজেপি।

 

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতি আসার আগে সেখানে বাংলাদেশ হাই কমিশন ফেরদৌসকে যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ছাড়তে বলে পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়।

 

হাই কমিশনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, চলচ্চিত্রটির শুটিং থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে ফেরদৌসকে। ভারতের নির্বাচনের পর শুটিং করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী অভিনেতা ফেরদৌস খ্যাতি পেয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে কলকাতার বাসু চ্যাটার্জির 'হঠাৎ বৃষ্টি' চলচ্চিত্রে অভিনয় করে।

 

বাংলাদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও জনপ্রিয় ফেরদৌস কলকাতায় এ পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০০১ সালে ‘মিট্টি’নামে বলিউডের একটি সিনেমাতেও অভিনয় করেন তিনি।