ঢাকা, ২৬ আগস্ট বুধবার, ২০২৬ || ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
৫২৫

ভোরের স্বপ্ন কী আসলেই সত্যি হয়?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:৪৯ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫  

স্বপ্ন কে না দেখে? সবাই স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। কিছু স্বপ্ন পূরণ হয়। আবার কিছু অধরাই থেকে যায়। জেগে জেগে যখন কেউ অসম্ভব কিছু ভাবতে থাকে তখন তাকে দিবাস্বপ্ন বলে। আসলে স্বপ্ন দেখার নির্দিষ্ট সময় নেই। তবুও বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, ভোরের স্বপ্ন সত্য হয়। আসলেই কি তাই? এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কী বলেন?

 

সম্প্রতি স্পিরিচুয়াল হিলার কাভ্যাল হাথি সেদানি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সকালে যে স্বপ্ন দেখা দেয় তাকে ‘ভেন্টিং ড্রিমস’ বলে। এটা হলো স্বপ্নের বর্জ্য।’ অর্থাৎ কাভ্যালের মতে, আমাদের মস্তিষ্ক ভোরবেলা সেই স্বপ্নই দেখে, যার আর কোনো প্রয়োজনীয়তা আমাদের জীবনে নেই। তাই ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয় এমন ধারণা ঠিক নয়। 

 

এ বিষয়ে নিউরো সাইকিয়াট্রিস্টরা বলেন, ‘ভোরের স্বপ্ন বলতে সাধারণত ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে দেখা স্বপ্নকে বোঝানো হয়। এটি ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে ঘটে যা র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম) নামে পরিচিত’। 

 

চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের সময়ে একাধিকবার এই আরইএম পর্যায় আসে। ভোরে স্বপ্ন দেখাটা ঘুমের সবচেয়ে দীর্ঘ আরইএম পিরিয়ড। ঘুম ভাঙার কিছুক্ষণ আগে এটি ঘটে এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় প্রায় ৯০ মিনিট বা তার বেশি। রাতের অন্যান্য সময়ের স্বপ্ন মনে না থাকলেও এই সময়ে দেখা স্বপ্ন মনে থাকে। 

 

 

এই আরইএম পিরিয়ডে মানুষের আবেগ, মানসিক অবস্থা এবং অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো স্বপ্নে ভেসে ওঠে। এই নির্দিষ্ট সময়ে মস্তিষ্কের কিছু অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারমধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কে স্মৃতিশক্তি ধরে রাখে যে অংশ, আবেগ চালনা করে যে অংশ এবং মস্তিষ্কের পিছনে অবস্থিত দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী কিছু অংশ। এই কারণেই ভোরবেলা আমরা যেসব স্বপ্ন দেখি, সেগুলো আবেগপ্রবণ হয় এবং আমাদের মস্তিষ্কে দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়। 

 

আরইএম পিরিয়ডে মস্তিষ্কের সামনের লজিক্যাল অংশটি কম সক্রিয় থাকে। তাই এটি মস্তিষ্কে ঘটে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক কার্যকলাপ বা প্রক্রিয়াকে বাধা দেয় না। এজন্য ভোরবেলা দেখা স্বপ্ন নিয়ে আমরা গভীর চিন্তা করতে থাকি। পাশাপাশি ওই সময়ে দেখা স্বপ্ন আমরা চট করে ভুলি না। ক্রমাগত চিন্তা করলে বা ওই কাজ করতে চাইলে মনে হয় ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। কিন্তু আদতে ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয় এমন কোনো ব্যাখ্যা নেই।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর