ঢাকা, ২৬ আগস্ট বুধবার, ২০২৬ || ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
২২১

শুধু হিট স্ট্রোক নয়, গরমে বাড়তে পারে ত্বক-হাঁপানির সমস্যাও

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:৩৯ ১১ মে ২০২৬  

সন্ধ্যার পরে বৃষ্টির জন্য ক’টা দিন আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা ঠান্ডাই ছিল। তবে হাওয়া অফিস বলছে আগামী সপ্তাহে আবার চড়বে তাপমাত্রার পারদ। এমনিতেও এই বছর রেকর্ড গরম পড়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৫ তারিখ রোহিণী নক্ষত্রে সূর্য প্রবেশ করলে থেকে শুরু হবে নৌতাপ। এই সময় অতিরিক্ত গরম পড়ে বলে মনে করা হয়। গরম বাড়লে ডিহাইড্রেশন, সানস্ট্রোকের মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। 

তবে শুধুই কি তাই? বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন, অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে বায়ুদূষণ মিলে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। দূষণের প্রভাব শুধু শ্বাসযন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং ত্বকেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং যাঁরা আগে থেকেই হাঁপানি, অ্যালার্জি বা সংবেদনশীল ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।


 হাঁপানির সমস্যা বাড়ে

চিকিৎসকদের মতে, গরম হাওয়া, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দূষিত বাতাসের ক্ষতিকর কণা ফুসফুস ও ত্বকের টিস্যুকে উত্তেজিত করে তোলে। ফলে শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ এবং নানা ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। PM2.5 কণা, গাড়ির ধোঁয়া, ধূলিকণা এবং বিভিন্ন রাসায়নিক গ্যাস শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি করে, যা হাঁপানির রোগীদের অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দূষণ ও অতিরিক্ত গরমের কারণে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে সমস্যা, হাঁপ ধরা এবং হুইজিংয়ের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গরম ও দূষিত স্থির বাতাস এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ত্বকের সমস্যা বাড়ে 

শুধু শ্বাসকষ্ট নয়, গরম ও দূষণের যুগলবন্দিতে ত্বকের সমস্যাও দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, গরমে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার ফলে ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। তার উপর বাতাসে থাকা বিষাক্ত সূক্ষ্ম কণা ত্বকের উপর জমে গিয়ে সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে ব্রণ, র‍্যাশ, ত্বকে জ্বালা, অ্যালার্জি এবং ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকঘটিত সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। গরমে ঘামের কারণে জীবাণুর বংশবৃদ্ধি দ্রুত হয়, যার ফলে দাদ বা অন্যান্য ফাঙ্গাল ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। আবার দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকা বা হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

কাদের ঝুঁকি বেশি? 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত শহরে বসবাসকারী মানুষদের এই সমস্যা বেশি হতে পারে। গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং হাঁপানি বা অ্যালার্জিতে আক্রান্তদের আরও বেশি সতর্ক থাকার প্রয়োজন।

নিরাপদ থাকতে কী করবেন? 

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা—  

# দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না বেরোনোই ভালো। 

# দূষিত এলাকায় মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। 

# বাইরে থেকে ফিরে মুখ ও হাত ভালো ভাবে পরিষ্কার করতে হবে। 

# সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি। 

# ত্বকে হালকা ও তেলহীন ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করলে উপকার মিলতে পারে।

# বাড়ির আশপাশে গাছ লাগালে বাতাসের গুণমান কিছুটা উন্নত হতে পারে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর