ঢাকা, ১৭ নভেম্বর রোববার, ২০১৯ || ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৮৩

ও ভুল করেছে

সাকিবের পাশে থাকবে বিসিবি : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৭:৩০ ২৯ অক্টোবর ২০১৯  


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি  সাকিব আল হাসানের পাশেই থাকবে। তবে আইসিসি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বেশি কিছু করার থাকবে না। জানালেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনের অভিজ্ঞতা জানাতে মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নে সরকারপ্রধানের এ মন্তব্য আসে। 

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর তা গোপন করার অভিযোগে সাকিবের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে থাকার একটি খবর প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক।

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি’র পক্ষ থেকে সাকিবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও আসেনি। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হতে পারে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে।

সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সরকার এ বিষয়ে সাকিবের পাশে থাকবে কি না। 

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিসিবি যে সাকিবের পাশে থাকবে সে কথা সমকালের ওই প্রতিবেদনেই এসেছে।

আইসিসির নিয়ম তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো অনৈতিক প্রস্তাব দেয়া হলে খেলোয়াড়দের তা আইসিসিকে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর কথা।  ওর (সাকিব) সাথে যখন যোগাযোগ করেছিল ও গুরুত্ব দেয়নি, আইসিসিকে জানায়নি। নিয়ম হল সঙ্গে সঙ্গে জানানো। এখন আইসিসি যদি ব্যবস্থা নেয়, খুব বেশি কিছু তো আমাদের করার থাকে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা ভুল সে করেছে এটা ঠিক, এটা সে বুঝতেও পেরেছে। বিসিবি বলেছে তার পাশে তারা থাকবে।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। দুই-চার দিনের মধ্যে দাম কমবে।

বাজার সহনীয় করতে ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে বলে জানান তিনি। আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

“পেঁয়াজের দরজা তো খুলে দেওয়া হল। ইতোমধ্যেই আমি খবর পেলাম, প্রায় ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ চলে আসছে, খুব শিগগিরই। তাছাড়া ১০ হাজার টন তো চলে আসবে কয়েক দিনের মধ্যেই। কাজেই চিন্তার কিছু নেই।”

এসময় রসিকতাচ্ছলে শেখ হাসিনা বলেন, পেঁয়াজ না খেলে কী হয়?

“পেঁয়াজ ছাড়াও কিন্তু রান্না হয়, আমি করি, আমাদের বাসায় করে। অনেক তরকারি আছে, যা পেঁয়াজ ছাড়াও রান্না করা যায়। কাজেই পেঁয়াজ নিয়ে এত অস্থির হওয়ার কী আছে, আমি জানি না।”

আড়তদাররা পেঁয়াজ মজুদ করে সঙ্কট আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পেঁয়াজ কিন্তু অলরেডি আছে। তাছাড়া পত্রিকাতেই খবর আসছে যে অনেক স্থানে পেঁয়াজ রয়ে গেছে। কিন্তু তারা কেন বাজারে ছাড়ছে না? যারা এখন মজুদ করে রেখেছে, তারা কতদিন ধরে রাখতে পারবে, সেটাই বড় কথা। কারণ পেঁয়াজ কিন্তু পচে যায় আবার। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে তাদের লোকসানই হবে, লাভ হবে না।

১২০টি উন্নয়নশীল দেশের ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে গেল ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত আজারবাইজান সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর বাকু 'কংগ্রেস সেন্টার'-এ ২৫ ও ২৬ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এ ন্যাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


অন্য সদস্য দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রের লাঞ্চন হলে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে প্রতিনিধিদলের প্রধানদের জন্য দেয়া ওয়ার্কিং লাঞ্চন-এ যোগ দেন।

পরে তিনি বাকু কংগ্রেস সেন্টারে সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত ও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিশ্চিতে ‘বান্দুং নীতিমালা’ সমুন্নত রাখা বিষয়ে এক সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যায় তিনি হায়দার আলিয়েভ সেন্টারে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের দেয়া সরকারি সংবর্ধনায় যোগ দেন। ২৬ অক্টোবর সকালে শেখ হাসিনা বাকু কংগ্রেস সেন্টারের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেন। পরে, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী আজারবাইজানের শহীদদের স্মৃতির সম্মানে নির্মিত স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

তিনি হিলটন বাকুতে একই সঙ্গে আজারবাইজানের দূত হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দেয়া নৈশভোজে অংশ নেন। ন্যাম সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিইয়েভ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি, আলজেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আবদেলকাদের বেনসালাহ্ ও ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকীসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালীন আবাসস্থল হোটেল হিলটন বাকুতে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

তার সফরকালে বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আজারবাইজান প্রেসিডেন্ট ইলহাম এলিয়েভের উপস্থিতিতে চুক্তিটি সই হয়।


এই বিভাগের আরো খবর