ঢাকা, ২৬ আগস্ট বুধবার, ২০২৬ || ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
২৬৯

কম গ্যাসে রান্নার সহজ কিছু টিপস

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:১৩ ৯ জানুয়ারি ২০২৬  

শীত এলেই অনেক বাসায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাথে বেড়েছে গ্যাসের দাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চুলা জ্বলছে না বললেই চলে। অনেক সময় গ্যাসের চাপ এত কম থাকে যে রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার সবাই বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই হোটেল থেকে খাবার কিনছেন। কিন্তু প্রতিদিন বাইরের খাবার খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তেমনি ব্যয়বহুল। তবে একটু সচেতন হলে এবং কিছু কৌশল অবলম্বন করলে এই গ্যাস সংকটের মধ্যেও রান্নার কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। একই সাথে গ্যাসের অপচয় কমিয়ে সাশ্রয়ী হওয়া যায়। চলুন জেনে নিই গ্যাস সাশ্রয় করে ঝটপট রান্নার কিছু কার্যকর উপায়।

রান্না শুরুর আগের প্রস্তুতি

গ্যাস বাঁচানোর প্রথম ধাপ হলো রান্নার সঠিক প্রস্তুতি। অনেকেই চুলা জ্বালিয়ে রেখে রান্নার জোগাড় শুরু করেন। কেউ হয়তো পেঁয়াজ কাটছেন বা মসলা বাটছেন আর ওদিকে চুলায় হাড়ি গরম হচ্ছে। এই অভ্যাস গ্যাসের অপচয়ের অন্যতম কারণ। তাই রান্না শুরু করার আগেই সবজি কাটা মসলাপাতি হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা এবং যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করে নিন। এতে রান্নার মাঝে কোনো বিরতি নিতে হবে না এবং গ্যাসের অপচয় কমবে।

সঠিক পাত্র নির্বাচন

রান্নার জন্য পাত্র নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারী তলার হাঁড়ি গরম হতে অনেক সময় নেয়। গ্যাসের সংকট থাকলে বা চাপ কম থাকলে পাতলা সিলভারের কড়াই বা হাঁড়ি ব্যবহার করুন। এগুলো খুব দ্রুত গরম হয় এবং অল্প আঁচেও রান্না করা যায়। এছাড়া ভেজা পাত্র কখনোই সরাসরি চুলায় বসাবেন না। পাত্রটি আগে ভালো করে মুছে নিন। কারণ পাত্র ভেজা থাকলে পানি শুকাতে এবং গরম হতে বাড়তি গ্যাস খরচ হয়।

প্রেসার কুকার ও রাইস কুকারের ব্যবহার

গ্যাস ও সময় দুটোই বাঁচাতে প্রেসার কুকার ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রেসার কুকারে রান্না করলে সাধারণ হাঁড়ির তুলনায় অনেক কম সময় লাগে। মাংস বা ডাল সেদ্ধ করতে এটি জাদুর মতো কাজ করে। এছাড়া যাদের বাসায় বিদ্যুৎ আছে তারা রাইস কুকার ব্যবহার করতে পারেন। এতে শুধু ভাত নয় খিচুড়ি বা সবজিও রান্না করা যায়। এটি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সাহায্য করবে।

চাল ও ডাল রান্নার কৌশল

চাল ও ডালের মতো খাবারগুলো রান্নার অন্তত ৩০ মিনিট আগে জলে ভিজিয়ে রাখুন। চাল ভালোভাবে ভিজলে তা খুব দ্রুত সেদ্ধ হয়। আমরা সাধারণত বেশি জল দিয়ে ভাত রান্না করি এবং পরে মাড় ফেলে দিই। গ্যাসের সংকটে এই অভ্যাস বদলে ফেলুন। ভাতে ঠিক ততটুকুই জল দিন যতটুকু দিলে ভাত মাড় না ফেলেই ঝরঝরে হয়। জল বেশি হলে তা ফুটতে সময় বেশি লাগে এবং গ্যাস বেশি খরচ হয়।

মাংস রান্নার টিপস

মাংস রান্নার ক্ষেত্রেও একই কৌশল খাটানো যায়। রান্নার এক ঘণ্টা আগে মাংসে টক দই বা লেবুর রস এবং মসলা মেখে মেরিনেট করে রাখুন। টক দই মাংসকে দ্রুত সেদ্ধ হতে সাহায্য করে ফলে গ্যাস সাশ্রয় হয়।

ঢেকে রান্না করুন

যেকোনো তরকারি বা সবজি রান্নার সময় ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। এতে ভাপের কারণে খাবার তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয় এবং গ্যাসের খরচ কমে।

সবজি কাটার ধরণ

সবজি কাটার সময় টুকরোগুলো ছোট করে কাটার চেষ্টা করুন। সবজির টুকরো বড় হলে তা সেদ্ধ হতে বেশি সময় নেয়। ছোট টুকরো হলে অল্প তাপেই তা দ্রুত নরম হয়ে যায়।

ফ্রিজের খাবার আগে বের করুন

ফ্রিজ থেকে বের করা মাছ মাংস বা সবজি সাথে সাথে চুলায় দেবেন না। এগুলো বরফ গলা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং সাধারণ তাপমাত্রায় আসার পর রান্না করুন। ঠান্ডা খাবার গরম করতে বা রান্না করতে বেশি তাপ ও সময়ের প্রয়োজন হয়। এছাড়া বারবার পানি গরম না করে একবারে পানি ফুটিয়ে ফ্লাস্কে রেখে দিন। এতে বারবার চুলা জ্বালাতে হবে না।

ভিজে পাত্র ব্যবহার না করা

অনেকে ভেজা হাড়ি সরাসরি চুলায় বসিয়ে দেন। এতে চুলার তাপ প্রথমে জল শুকাতে ব্যয় হয়। তাই চুলার ওপর দেওয়ার আগে পাত্রটি ভালো করে মুছে নিন।

রান্নার শেষ মুহূর্তের কৌশল

রান্না প্রায় হয়ে এলে চুলা বন্ধ করে দিন। কিন্তু পাত্রটি সাথে সাথে নামাবেন না। চুলার ওপর আরও কিছুক্ষণ বসিয়ে রাখুন। অবশিষ্ট তাপেই বাকি রান্নাটুকু হয়ে যাবে।

খাবার মজুদ

সময় বাঁচাতে সপ্তাহের কিছু রান্না একসাথে করে ডিপ ফ্রিজে মজুদ রাখতে পারেন। তবে খাবার রাখার পাত্রটি যেন অবশ্যই 'ফুড গ্রেড' প্লাস্টিকের হয়, যাতে খাবারের মান ঠিক থাকে।

চা বা কফির জন্য টিপস

যাদের বারবার চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস আছে, তারা বারবার জল গরম না করে একবারেই বেশি করে গরম করে থার্মাস ফ্লাস্কে ভরে রাখতে পারেন। এতে যেমন বারবার গ্যাস জ্বালানোর ঝামেলা থাকবে না, তেমনি গ্যাসও বাঁচবে। এছাড়া ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহার করেও জল গরম করে নেওয়া যায় ঝটপট।

চুলার যত্ন

অনেক সময় চুলার বার্নারে ময়লা জমে আগুনের শিখা কমে যায় বা গ্যাস ঠিকমতো বের হতে পারে না। তাই নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখুন। প্রতি তিন মাস অন্তর বিশেষজ্ঞ ডেকে চুলা ও লাইনের কোনো লিক আছে কি না তা পরীক্ষা করান। এতে দুর্ঘটনা এড়ানোর পাশাপাশি গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

গ্যাস আমাদের জাতীয় সম্পদ। এর অপচয় রোধ করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সামান্য একটু সচেতনতা এবং কৌশলী হওয়াই পারে এই সংকট মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করতে। ওপরের টিপসগুলো মেনে চললে গ্যাসের খরচ কমবে এবং রান্নার কাজও হবে সহজ।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর