ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার, ২০২২ || ১১ আশ্বিন ১৪২৯
good-food
১৭৮

ভারত বিরোধিতা ও ভারতে চিকিৎসা: কিছু প্রশ্ন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:১৭ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  

ভারতের শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্প, চিকিৎসা সেবা, কৃষি বিপনন, রেল, জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ, ইলেকশন ব্যবস্থা, বিচার, দুর্নীতি দমন, আয়করের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা মিডিয়ায় দেখি না। রোহিঙ্গাদের ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশকে ভয়াবহ বিপদের মধ্যে ফেলেছে যে বার্মা তা নিয়েও আলোচনা কম।

 

সমালোচনা থাকবে তবে ভালোটা অনুসরণ করে উন্নত হওয়ার চেষ্টা না করে কেবল গালিগালাজে সব আলোচনা সীমিত রাখলে আখেরে কার লাভ? সেটার ফল পশ্চাতপদতা এবং আরো বেশি ভারতসহ বিদেশ নির্ভরতা। প্রকৃতপক্ষে এরাই বিদেশিদের শুভাকাঙ্ক্ষী। এদেশকে তারা পিছিয়ে রাখতে চায়।

 

জাপান সম্রাট যুদ্ধের পর দেশে দেশে মেধাবিদের পাঠিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনেন। তারপর দেশ গড়তে তাঁদের কাজে লাগান। স্বাধীনতার পর জাপান ঘুরে এসে রাবি প্রফেসর কাজী আব্দুল মান্নান বক্তৃতায় এসব কথা বলতেন। চীন এই কাজটাই করে সফল হয়েছে। নকলবাজির পর এখন গুরু মারা শিষ্য। 

 

এদেশে প্রযুক্তিগত বড় পদে হাজারো ভারতীয় মিলিয়ন ডলার কেন নিয়ে যান? বছরে ২০ লাখ রোগী ভারতে কেন যান? কত ডলার আমাদের চলে যায়? সমাধান কোথায়? যোগ্য জনবল তৈরির জন্য যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা উন্নত হাসপাতাল স্থাপনে বাধা দেই কেন? ভারতীয় ডাক্তার, আইটি বিশেষজ্ঞরা সারা দুনিয়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তা বলতে লজ্জা কেন? 

 

মানুষ চিকিৎসার জন্য এদেশে কেন ভরসা পান না? কেন ব্যয়বহুল, কেন জবাবদিহি নেই, রোগীর সন্তুষ্টি নেই তা নিয়ে গবেষণা আছে কি? ঢাকায় হার্ট অপারেশনের নামে কেবল বুকের চামড়া কেটে সেলাই অথবা পাঁচটা রিং পরাতে ৫ লাখ টাকা নেয়া হয়। কিন্তু রিং নেই এমন দুজন রোগীর সঙ্গে প্রতারণা ধরা পড়েছে ভেলোরে গত ফেব্রুযারি মাসে। বাংলাদেশে হাজারো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চলছে বিনা লাইসেন্সে ও তদারকিতে, যার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে ভিমরুলের চাকে হাত দেয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

 

ভারতে হসপিটাল ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা, অনার্স ও মাস্টার্স বহু আগেই চালু হয়েছে তাঁর খোঁজ কজন ভিসি বা মন্ত্রী রাখেন। সেখানে হাসপাতাল পরিচালনা তাঁরাই করেন। ডাক্তার নন। আফ্রিকা মধ্যপ্রাচ্য থেকে বহু রোগী এখন দক্ষিণ ভারতের হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন। হেলথ চেকাপ ও ইনসিওরেন্স চুক্তি রয়েছে বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।

 

এদেশে সামর্থ্যবানরা সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ড যান। গরীব ও মধ্যবিত্তরা বাধ্য হন ভারত যেতে। বেশি চাপে সেদেশের সাধারণ রোগীরা অসুবিধায় পড়েন। তবু সহ্য করেন। কিন্তু ফেসবুকে ভারত বিরোধিতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে প্রায়ই প্রশ্নের সম্মুখীন বা অপমানিত হতে হচ্ছে বাংলাদেশি রোগীদের। 

 

পাকিস্তানের সঙ্গে বর্ডার থাকলে এবং ভালো চিকিৎসা থাকলে বহু মানুষ সেখানেই যেতো। চাল, ডাল, পেঁয়াজ আমদানি করতে পারতো। কলকাতায় বাজার না করে লাহোরে বাজার করতে পারতো। ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি ৩০ মিলিয়ন ডলার। এটাও সমস্যা। তবে ভারতকে পছন্দ না করলেও জীবনের মায়া বড় দায়। তাই মানুষ ভারতে যেতে বাধ্য হন। তবে তুলনামুলকভাবে ভারতে চিকিৎসা, থাকা, খাওয়ার খরচ অনেক কম।

 

তবে সেখানেও প্রতারিত হন। দালালের খপ্পরে পড়েন। এদেশের কিছু ট্রাভেল এজেন্ট ও দালাল চক্র সেখানকার অখ্যাত হাসপাতালে পাঠিয়ে সর্বস্বান্ত করছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সামাজিক আন্দোলন দরকার। তা করতে পারলে সীমান্তের ওপার থেকে রোগী আসবে ৷ ভারতে হয়তো যেতে হবে না।

 

লেখক: আহমদ সফিউদ্দিন

সংবাদকর্মী, সাবেক কর্মকর্তা (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র)