ঢাকা, ২২ মার্চ রোববার, ২০২৬ || ৮ চৈত্র ১৪৩২
good-food

সোনার দামে বড় দরপতন কেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:৪৯ ২২ মার্চ ২০২৬  

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সম্প্রতি সোনার দাম প্রায় ২ দশমকি ৩৬ শতাংশ এবং রুপার দর ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার, ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাবে এই দরপতন ঘটেছে। ইকোনমিক টাইমসের এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের মান বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা ও রুপা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি বন্ডের সুদহার বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা সুদবিহীন সম্পদ থেকে সরে গিয়ে সুদবাহী সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র আরো সৈন্য পাঠাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন খবরে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ফলে সুদের হার আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সুদের হার বেশি থাকলে সোনা ও রুপার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে আসে। কারণ সুদ বেশি মানে সোনা ও রূপার তুলনায় বন্ডে বিনিয়োগ করে বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়। 

এসব কারণেই সব ধরনের মূল্যবান ধাতুর দামেই পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যে সোনা ও রুপার দরে বড় ধরনের পতনের পাশাপাশি কমেছে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও। 

বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৮৯৪ ডলার এবং রুপার মূল্য ৬৮ ডলারের কাছাকাছি। বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ধাতু দুটির দর আরও নিম্নমুখী হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার প্রবণতা ভবিষ্যতে দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী করতে পারে।

সুদের হার বৃদ্ধি এবং ডলার শক্তিশালী থাকায় স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুদের হার বর্তমানের মতোই বেশি থাকলে এবং ডলারের মানে ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকলে বিনিয়োগের নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত সোনা ও রুপার দর আরো কমতে পারে। একমাত্র মুদ্রানীতি পরিবর্তন অথবা সুদের হার বৃদ্ধিই দরকারি ধাতু দুটির দাম আবার বাড়িয়ে দেবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। 

অন্যান্য খাতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নগদ অর্থের জন্য অনেক বিনিয়োগকারী সোনা বিক্রি করছেন, যা দামের ওপর চাপ তৈরি করছে। একই প্রবণতা প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামেও দেখা গেছে, যা ধাতব বাজারে সামগ্রিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

তবে বাজার এই মুহূর্তে দূর্বল অবস্থানে থাকলেও এর দীর্ঘমেয়াদে আউটলুক এখনো স্থিতিশীল। কেন্দ্রিয় ব্যাংকগুলোয় সোনার চাহিদা, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং সরবরাহ সংকটের (বিশেষ করে রুপা) কারণে সামনে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। 

বাজার বিশ্লেষকরা বিনিয়োগকারীদের সুদের হার এবং ডলারের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা থাকায় ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই নিরাপদ কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একইসঙ্গে সোনার জন্য ৪ হাজার ৪৯৪ ডলার এবং রুপার জন্য ৬৮ ডলারকে সহায়ক স্তর হিসেবে নজরে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বাজারের মৌলিক ভিত্তি শক্ত থাকায় ভবিষ্যতে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর