ঢাকা, ০৯ আগস্ট রোববার, ২০২০ || ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭
good-food
৬৪

করোনা: স্কুলে ফিরবে না ১ কোটি শিশু

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:১০ ১৪ জুলাই ২০২০  

করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বের প্রায় ৯৭ লাখ শিশু আর কখনও স্কুলে ফিরবে না। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী এনজিও 'সেভ দ্য চিলড্রেন'-এর সাম্প্রতিক রিপোটে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

করোনা মহামারী সামলাতে বিশ্বের গরিব দেশগুলো শিক্ষাখাতে খরচ কমাবে। সেই অর্থ খরচ করবে বাকি জায়গায়। ফলে প্রায় ৯৭ লাখ শিশু আর কখনও স্কুলের মুখ দেখবে না। ৯ থেকে ১২ কোটি শিশুর পরিবার গরিব হবে।  

সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব জরুরি অবস্থা আসতে চলেছে।  
তাদের দাবি, বিশ্বের ১২টি দেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বাকি গরিব বা মাঝারি আয়ের দেশগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। 

ব্রিটিশ সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, করোনার ফলে দেশগুলো শিক্ষাখাতে ৭ হাজার ৭০০ কোটি ডলার কাটছাঁট করবে। এর প্রভাব পড়বে প্রায় ১ কোটি শিশুর ওপর। তাদের জীবন থেকে স্কুল হারিয়ে যাবে। যে ১২টি দেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, সেই তালিকায় আছে-পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নাইজার, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইয়েমেন, গিনি, মরিটেনিয়া, লাইবেরিয়া ও চাদ।

ইউনেস্কোর তথ্য উদ্ধৃত করে সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, গত এপ্রিলে মোট ১৬০ কোটি তরুণ-তরুণীর স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী করোনার ফলে প্রভাবিত হয়েছে। অনেক দেশে এটা সাময়িক বন্ধ হওয়া। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে তা আবার খুলবে। কিছু দেশে খুলতেও শুরু করেছে।
 
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানুষের ইতিহাসে এ প্রথম বিশ্বজুড়ে শিশুদের পুরো প্রজন্মের শিক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত লেগেছে। তাই এর শিরোনাম হলো 'আমাদের শিক্ষা বাঁচাও'। 

এতে বলা হয়, ৯ থেকে ১১ কোটি ৭০ লাখ শিশু আরও গরিব হয়ে যাবে। ফলে তারা আর স্কুলে যাবে না। বাধ্য হয়ে পরিবারকে সাহায্য করার জন্য কাজ করবে। মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যাবে। শিশুদের পড়াবার ক্ষমতা থাকবে না পরিবারগুলোর। ফলে প্রায় এক কোটি শিশু আর স্কুলের মুখ দেখবে না। 

রিপোর্ট অনুসারে, ছেলেদের থেকে মেয়েদের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। লিঙ্গ বৈষম্য বাড়বে। আগে বিয়ে দেয়ার প্রবণতা বাড়বে। কম বয়সী মেয়েদের গর্ভবতী হওয়ার আশঙ্কাও থাকছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, এখন থেকে ২০২১-এর শেষ পর্যন্ত কম ও মাঝারি আয়ের দেশগুলো শিক্ষাখাতে ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা কমাবে। সেটার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হবে শিশুদের ওপর। তাদের আর স্কুলে পড়া হবে না।

তাদের আবেদন, সরকার ও বিত্তবানরা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দরাজ হাতে সাহায্য করে। আর ঋণদানকারী সংগঠন যেন শিক্ষাক্ষেত্রে ঋণ মওকুফ করে। তা হলে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হতে পারে।

পরিস্থিতি ভয়াবহ। করোনা হওয়ার আগেই গোটা বিশ্বে স্কুলে না যাওয়ার তালিকায় ছিল কয়েক কোটি শিশু। এর ওপর যদি প্রায় ১ কোটি শিশুকে স্কুলে না গিয়ে কাজের খোঁজে যেতে হয়, তাহলে পরিস্থিতি কতটা খারাপ হবে তা সহজেই অনুমেয়।