ঢাকা, ২১ আগস্ট বুধবার, ২০১৯ || ৫ ভাদ্র ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১৮২

জাহালামরা দেশে দেশে!

সোহেল মাহমুদ

প্রকাশিত: ১৩:১৮ ২ এপ্রিল ২০১৯  


তাদের জীবনই বা আছে আর কতোদিনের?
যদি সোনালী ৪২ বছরই কাটে কারাগারে?
তাও, বিনা অপরাধে?

আসলে, লালফিতা কিংবা অবহেলার দৌরাত্ম সভ্য আর সভ্যতাকামী দুই সমাজে একই চরিত্রের আর মানের। ফ্লোরিডার এই চাচা-ভাতিজা আজ মুক্তির আদেশ পেলেন। খুনের অভিযোগ থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে তাদের। এর মধ্যে, তাদের ৪২টি বসন্ত উধাও।

চাচা ক্লিফোর্ড উইলিয়মাসের বয়স এখন ৭৬ বছর। আর, ভাতিজা হুবার্ট মায়েরসের ৬১ বছর।

১৮ বছর পেরিয়ে যৌবনে পা দেয়া মায়েরসের চোখে এখন শুধু পানি আর পানি। ১৯৭৬ সাল থেকে কারাগারে তারা।

ফ্লোরিডা স্টেট এটর্নির অফিস গতবছর থেকে ভুল বিচার বা বিনা বিচারে কারাবাসের মামলাগুলো পর্যালোচনা করতে শুরু করার পর এই প্রথম একটি মামলায় ছাড়া পেলেন দু'জন। স্টেট কর্তৃপক্ষ মামলা পর্যালোচনা করবে স্থানীয় এক পত্রিকায় এমন খবর দেখে মায়েরস তার মামলা নিয়ে তদবির শুরু করেন।

কথিত আসামীদের দু'জনই দাবি করছিলেন তারা নির্দোষ। আর, তাদের সে দাবি বুঝতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো সভ্য সমাজে লেগেছে ৪২ বছর।

একটা ঘরে গুলি করে মারা হয় একজন ব্যক্তিকে। সেসময় সে ঘরে আরো একজন ঘুমিয়ে ছিলেন। নিহত ব্যক্তির বান্ধবী। তার জবানবন্দী ছিলো, এই দুই ব্যক্তিই খুনটা করেছেন। তার বিছানার পায়ের দিক থেকে গুলি করা হয়। একাধিক গুলি ছুঁড়েছে তারা। মামলা চলেছে মুলত এই সাক্ষীর দেয়া সাক্ষে। তিনি যা বলেছেন সেটিকে তথ্য ধরে আদালত দু'জনে যাবজ্জীবন সাজা দেয়।

অথচ, এই দু'জন যে গুলি করেছেন এমন কোন বাস্তবিক প্রমাণ মেলেনি তদন্তে। ফরেনসিক রিপোর্টে একটি মাত্র গুলি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এমন নানা বৈসাদৃশ্যের মধ্য দিয়ে বিচার শেষ হয়।

মামলা কেনো খালাস হলো, কারণ জানিয়ে স্টেট এটর্নির অফিস থেকে বলা হয়, তদন্তের তথ্য আর সাক্ষীর সাক্ষ বিপরীতধর্মী। ফরেনসিক রিপোর্ট বলছে, গুলি এসেছে জানালার বাইরে থেকে। অথচ, সাক্ষী বলেছেন, কক্ষের ভেতরেই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

সাক্ষী মারা যান ২০০১ সালে। তাই তাকে আর মামলা পর্যালোচনা করার সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। তাছাড়া, ১৯৯৪ সালে মারা যাওয়া এক ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় নিজেকে ওই খুনের জন্য দায়ী বলে দাবি করেছিলেন। তাছাড়া, যন্ত্রের মাধ্যমে সত্যমিথ্যা মাপার পদ্ধতি পলিগ্রাফিতে মায়েরসের নিজেকে নির্দোষ দাবিটাও সত্য বলে চিহ্নিত হয়েছে।

সোহেল মাহমুদ : আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক

 


এই বিভাগের আরো খবর