ঢাকা, ১০ এপ্রিল শুক্রবার, ২০২০ || ২৬ চৈত্র ১৪২৬
good-food
৭৮

মনোমুগ্ধকর হলোগ্রাফিক প্রজেকশন

জয়বাংলা কনসার্ট-এ প্রধানমন্ত্রী

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২৩:১৯ ৭ মার্চ ২০২০  

ঐতিহাসিক ৭ মার্চে জয়বাংলা কনসার্ট-এ প্রথম এলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে পরিবার সদস্যরাও। 

 

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলার তত্ত্বাবধানে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে গেল ৬ বছর ধরে আয়োজন করা হয় এই কনসার্ট।

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ‘মুজিববর্ষে’ এবার কনসার্টে আনা হয় ভিন্ন মাত্রা।

 

শনিবার দুপুর থেকে কনসার্ট শুরু হয়।  সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্টেডিয়ামে আসেন আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

 

স্টেডিয়ামের পশ্চিম প্রান্তে স্থাপিত ভিআইপি গ্যালারিতে বসেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর বাছাই করা কয়েকটি উদ্ধৃতির হোর্ডিংয়ে সাজানো হয়েছে ওই ভিআইপি জোন। সঙ্গে স্থান পেয়েছে বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতার তর্জনী উচ্চকিত ছবি।


বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে গ্যালারিতে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এবং দৌহিত্র ও সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বিকাল থেকেই উপস্থিত ছিলেন কনসার্টস্থলে।

 

বেলা দেড়টার পর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় জয়বাংলা কনসার্ট। এরপর একে একে সঙ্গীত পরিবেশন করে ব্যান্ড দল ইনট্রোয়েট, অ্যাডভার্ব, সিন, এফ মাইনর, মিনার রহমান, অ্যাভয়েড রাফা, শূন্য।

 

আদিবাসী মেয়েদের প্রথম ব্যান্ড ’এফ মাইনর’ জয় বাংলা কনসার্টে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিহরণ জাগানো গান ’নোঙর তোলো তোলো, সময় যে হলো হলো’ গানে নিজেদের পরিবেশনা শুরু করে।

 

এর মধ্যে দেখানো হয় সিআরআইয়ের কার্যক্রম নিয়ে একটি তথ্য চিত্র।

 

গান পরিবেশনের পাশাপাশি সন্ধ্যার আগ থেকে শুরু হয় আতশবাজির ঝলকানি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বড় স্ক্রিনে দেখানো হয় বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের রঙিন ভিডিও।

 

বিকালে সিআরআইয়ের ট্রাস্টি নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের বলেন, “এই কনসার্টের মাধ্যমে আমরা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর চেতনা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই। আজ যখন কনসার্টের মাঝে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করা হবে, তখন এই হাজার হাজার তরুণ তাতে গলা মেলাবে। আমরা এই তরুণদের সাথেই সংযোগ স্থাপন করতে চাই।“

 

রাতে বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের হলোগ্রাফিক প্রজেকশন উপস্থাপন হয়।

ব্যান্ড লালনের পরিবেশনা শেষে এই হলোগ্রাম চমকের শুরুটা হয় কবি নির্মলেন্দু গুণের বিখ্যাত কবিতা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ থেকে আবৃত্তির মধ্য দিয়ে।

কবিতাটি শেষ হতেই মঞ্চে হাজির হন হলোগ্রাফিকরূপে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। উপস্থিত প্রতিটি মানুষই ধরে নিয়েছেন তারা দুজন বাস্তবেই হাজির। দুজনার মুখে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ৩২ নম্বর সড়কের বাড়ির পরিস্থিতি, তাঁদের মা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের দূরদর্শী পরামর্শের স্মৃতিচারণ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে কবিতার শেষ ক’টি লাইনের আবৃত্তি পুরো পরিবেশকে এক অন্যমাত্রায় নিয়ে যায়।

এরপর হঠাৎ মঞ্চ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো মিলিয়ে যান দুই বোন, পলকেই সবার সামনে হাজির হন বঙ্গবন্ধু! শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্স ময়দানের সেই ভাষণ, যা দেখে বোঝার কোনও উপায় ছিল না - বাস্তবে নয়, এটি চলছে পর্দায়!


পুরো প্রজেকশন শেষে সবাইকে আরেকবার চমকে দেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সরাসরি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে। প্রজেকশন শেষে বাস্তবে তাঁদের উপস্থিতি দেখে অনেকেই বিভ্রমে পড়েন, সত্যি! নাকি এটাও হলোগ্রাফিক চমক।

 

কনসার্ট উপভোগে আরও উপস্থিত হন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।


এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারতের হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সিআইআইয়ের ট্রাস্টি নাহিম রাজ্জাক।