ঢাকা, ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ৭ ভাদ্র ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৫৭

ট্রফি তুমি কার?

প্রকাশিত: ২১:২৯ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  


ফাইনাল দিয়ে বিপিএল ষষ্ঠ আসরের পর্দা নামছে শুক্রবার। শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরতে ফাইনালি মঞ্চে মুখোমুখি হবে গতবারের রানার্স-আপ ঢাকা ডায়নামাইস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। শিরোপা জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না দুদল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে উন্মুখ হয়েছে সাকিব ও ইমরুল বাহিনী। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

টুর্নামেন্টের আগে থেকেই ফেবারিট ছিল ঢাকা। সাকিব আল হাসানের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, রুবেল হোসেনের মতো পেসার, কাইরন পোলার্ড-আন্দ্রে রাসেল-সুনীল নারাইনের মতো টি-টোয়েন্টি তারকারা থাকায় এগিয়ে ছিল তারা।

কাগজে-কলমে ফেবারিটের তকমা পাওয়া ঢাকা মাঠে দাপটের সঙ্গে নিজেদের প্রমাণ করে। নিজেদের প্রথম চার ম্যাচেই জয় তুলে নেয় তারা। সব ম্যাচই ছিল নিজেদের মাঠে। জয়ের বৃত্তে থেকেই সিলেট পর্ব শুরু করে ঢাকা। সেখানে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে সাকিবের দল। সিলেটের মাটিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হেরে যায় তারা। তবে জয় দিয়ে সেই পর্ব শেষ করে ডায়নামাইটসরা।

সিলেটে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে জয় পেয়ে আবারো ঢাকা পর্ব শুরু করে তারা। তবে এবার নিজেদের মাঠে হতাশ হতে হয় তাদের। দুম্যাচের দুটিতেই হারে ঢাকা। এরপর চট্টগ্রাম পর্বে দুটি ম্যাচই হারে দলটি। ফলে প্লে-অফে খেলা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় তারা। ঢাকায় পরের ম্যাচে কুমিল্লার কাছে মাত্র ১ রানে হেরে সমীকরনের মারপ্যাচে পড়ে যায়। প্লে-অফে খেলতে হলে লিগপর্বের শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সাকিবরা। খুলনা টাইটান্সকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করে তারা। তাই ১২ খেলায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থান পাওয়ায় এলিমিনেটরে খেলার টিকিট পায় ঢাকা।

এলিমিনেটরে চিটাগং ভাইকিংসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে নাম লেখায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সেখানে অদম্য ছিল তারা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মত বিপিএলের ফাইনালে উঠে ঢাকা।

ঢাকার মতো কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে ফাইনালে আসেনি কুমিল্লা। এবারের আসরে দাপট দেখিয়েই শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে উঠে তারা। জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই রংপুরের কাছে হেরে যায় কুমিল্লা। তবে এরপরই দুর্দান্তভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসে । ঢাকায় ও সিলেটে দুটি করে ম্যাচ জিতে নেয় দলটি। তবে ঢাকার দ্বিতীয় পর্বে দুটি ম্যাচের মধ্যে একটিতে হয় পরাজিত । এরপর চট্টগ্রাম পর্বে দুটি ও ঢাকায় দুই ম্যাচের মধ্যে একটিতে জিতে প্লে-অফে হেসেখেলেই জায়গা করে নেয় তারা। ১২ খেলায় ১৬ পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থান পান তামিম-ইমরুলরা। রংপুরের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হলেও রান রেটে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকে তারা।

টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকাায় প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে খেলার টিকিট পায় কুমিল্লা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল রংপুর। কিন্তু মাশরাফিদের পাত্তা না দিয়ে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে কুমিল্লা। এবার ঢাকার বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ে নামবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

কুমিল্লার শিরোপা নির্ভর করছে দলের সেরা তারকা তামিম, ইমরুল, সাইফউদ্দিন, মেহেদি, আফ্রিদি,পেরেরা,লুইস ও ওয়াহাব রিয়াজের মতো তারকাদের পারফরমেন্সের ওপর। ব্যাট হাতে কুমিল্লার পক্ষে সেরাটা দিচ্ছেন তামিম। ১৩ ম্যাচে ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩২৬ রান করেছেন তিনি। এরপরই সর্বোচ্চ রান এভিন লুইসের। ১টি করে সেঞ্চুরি ও হাফ-সেঞ্চুরিতে ৮ ম্যাচে ২৬৭ রান করেন তিনি।

বোলিংয়ে কুমিল্লার পক্ষে দাপট দেখাচ্ছেন সাইফউদ্দিন-আফ্রিদি-রিয়াজ। সাইফউদ্দিনের শিকার ১৮ উইকেট। বেশকটি ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে দলের জয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন সাইফ। এছাড়া আফ্রিদি ১৬ ও রিয়াজ ১৩ উইকেট শিকার করেছেন।

কুমিল্লার মতো ঢাকার তারকা খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সও চোখে পড়ার মতো। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব। ব্যাট হাতে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও বল হাতে তা পুষিয়ে দিচ্ছেন। ১৪ ম্যাচে ২২ উইকেট শিকার তার। ২২ উইকেট শিকার করেছেন সিলেট সিক্সার্সের তাসকিন আহমেদরও। তাই এখন অবধি এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারে যৌথভাবে সবার ওপরে তারা। ফাইনালের মঞ্চে ১ উইকেট পেলেই বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়ে যাবেন সাকিব। তবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের দৌঁড়ে আছেন ঢাকার রুবেলও। তার শিকার ২১। নারাইনের ঝুলিতে রয়েছে ১৮ উইকেট।

ব্যাট হাতে পুরোপুরিভাবে মেলে ধরতে না পারলেও ঢাকার পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কিন্তু সাকিবই। ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ২৯৮ রান রয়েছে তার। ৩ রান কম নিয়ে পরের স্থানেই রয়েছেন আন্দ্রে রাসেল। নারাইনের ব্যাট থেকে এসেছে ২৭৯ রান।

দুই দলই তারকায় ঠাসা। সুতরাং একটি জমজমাট ফাইনাল হবে বলেই ধারণা। বিপিএল ইতিহাসে আরো একটি দুর্দান্ত ফাইনালের অপক্ষোয় ক্রিকেটপ্রেমিরা।

ঢাকা ডায়নামাইটস স্কোয়াড: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), শুভাগত হোম, রনি তালুকদার, নুরুল হাসান সোহান, রুবেল হোসেন, কাজী অনিক, মিজানুর রহমান, আসিফ হাসান, শাহাদাত হোসেন রাজীব, নাইম শেখ, মোহর শেখ অন্তর, সুনিল নারাইন, রোভম্যান পাওয়েল, কাইরন পোলার্ড, লুক রাইট, আন্দ্রে রাসেল, হজরতউল্লাহ জাজাই, অ্যান্ড্র বার্জ ও ইয়ান বেল।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দল স্কোয়াড: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু হায়দার রনি, এনামুল হক বিজয়, মেহেদি হাসান, জিয়াউর রহমান, মোশরারফ হোসেন রুবেল, মোহাম্মদ শহীদ, শামসুর রহমান শুভ, সঞ্জিত সাহা, লিয়াম ডসন, ওয়াহাব রিয়াজ, শহিদ আফ্রিদি, থিসারা পেরেরা, এভিন লুইস, ওয়াকার সালমা খাই ও আমির ইয়ামিন।