ঢাকা, ১৬ মে রোববার, ২০২১ || ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
good-food
৭৯

প্রস্তুতি নিন, সামনে মহাবিপদ!

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২৩:৪৯ ২৬ এপ্রিল ২০২১  

আমাদের একটি প্রেডিকশন ছিল, তা হলো দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট। ভাইরাসের অ্যাম্বিয়েন্ট ইনভারমেন্ট অঞ্চলভিত্তিক মিউটেশনে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ভূমিকা রাখছে কি না, সেটা এখনো বলা মুশকিল হলেও আমাদের প্রতিবেশী ভারতে তা মহাশক্তিশালী হয়ে উঠছে।


দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে যোগসাজস রেখে B.1.617 ভ্যারিয়েন্টটি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে ভারতের ৬০ শতাংশ কোভিড আক্রান্তদের শরীরে এই ভ্যারিয়েন্টটি দেখা যাচ্ছে। যেটিতে প্রায় ২৩টির ( G142D, E154K, L452R, E484Q, D614G, P681R, Q1071H...) মতো মিউটেশন রয়েছে, যাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে E484Q L452R, উভয় স্পাইক প্রোটিনে হয়েছে। 


যদিও ভারতীয় গণমাধ্যম তাকে ডাবল মিউটেশন বলছে। কিন্তু আমরা সায়েন্টিফিক্যালি এটাকে ডাবল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট বলতে পারি না। বরং আমাদের উচিত হবে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বলা। এরই মধ্যে পশ্চিম বাংলায় আরো একটি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে B.1.618।


এর মধ্যে PANGO লিনেইজে জমা হওয়া ডেটায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে B.1.1.175, B.1.374.1, B.1.1.80, B.1.1.25সহ মোট ১৪টি ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা কোভিড ছড়াচ্ছে।


২৫ এপ্রিল GISAID ডেটা সার্ভারে জমা হওয়া I CDDR,B তথ্যে দেখা যাচ্ছে. বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকা B.1.351, এবং B.1.1.318 ডমিনেন্ট হিসেবে কাজ করছে।


আমি জানি না, ভারতের ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে কতটা ছড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত বন্ধ রাখার যে উদ্যেগ নিয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানাই। যদিও এটি অনেক আগে করা উচিত ছিল, এরপরও যে তারা বুঝতে পেরেছে এটাই অনেক কিছু।


দেখুন, এখন পর্যন্ত আমরা সরকারের সিদ্ধান্তগুলোতে বিজ্ঞানসম্মত কোনও নির্দেশনা পাইনি। যা দেখেছি, আমলাতান্ত্রিক হ য ব র ল সিদ্ধান্ত, যার বাস্তবায়নে সফলতার মুখ দেখতে পাইনি। এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। 


ইতিহাস আর রাজনৈতিক পড়ার জ্ঞান দিয়ে এই কাজ হবে না। সময় থাকতে, আমাদের স্মার্ট সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে।


আমলাতান্ত্রিক প্রস্তুতি তো আমরা দেখলামই। বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে, কেবল গবেষক, বিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা। দেশের ভিতরে ও বাহিরে প্রবাসী বাঙালিরা যারা এই বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাদের মতামতের মূল্যায়ন করে মহামারি মোকাবেলা করা। 


আমাদের অনেক প্রতিভাবান গবেষক দেশের বাহিরে রয়েছে, তাদের মেধাটাকে ব্যবহার করুন। মাতৃভূমির টানে তারা যেকোনও কিছু করতে রাজি আছে। সেটা করতে ব্যর্থ হলে, আপনাদের, আমাদের সবার চরম মূল্য দিতে হবে।
 

লেখক: নাদিম মাহমুদ

পোস্টডক্টোরাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ওসাকা ইউনিভার্সিটি