ঢাকা, ২১ এপ্রিল রোববার, ২০১৯ || ৮ বৈশাখ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১৩

ভারতের ভোট শুরু বৃহস্পতিবার

মোদি নাকি রাহুল ?

প্রকাশিত: ১৫:১৭ ১০ এপ্রিল ২০১৯  


বিজেপি নাকি কংগ্রেস?

নরেন্দ্র মোদি নাকি রাহুল গান্ধী?

লড়াইয়ে এগিয়ে কে? আর কাকেই বা দেখা যাবে ভারতের ক্ষমতায়?

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরু ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। তার আগে এখন এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মাঝে।

বৃহস্পতিবার হতে শুরু হওয়া ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে বলা হয়, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক কর্মযজ্ঞ। ধাপের ভোট শেষ হবে ১৯ মে। ভোট গণনা ২৩ মে।

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতার জন্য লড়াইয়ে নেমেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বেশ আাঁটঘাট বেধেই নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তার দল বিজেপি।

তবে, ১৩৩ বছরের পুরনো কংগ্রেস কি ফিরে আসতে পারবে ক্ষমতায় ? এটিও এখন বড় প্রশ্ন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে শোচনীয় হার মানতে হয়েছিলো তাদের। মাত্র ৪৪টি আসন পেয়েছিলো। পরের চার বছরে অনেক রাজ্য নির্বাচনেও হেরেছে তারা। তবে গত ডিসেম্বর থেকে দলটি শক্তি পুনরুদ্ধারের দিকে যেতে পারছে বলে মনে করছে অনেকেই। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে জয় পেয়েছে। তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেছেন।

 

সি-ভোটার, টাইমস নাউসহ বেশ কিছু জনমত জরিপ থেকে ইঙ্গিত মিলেছে কিছুটা।

বলা হচ্ছে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ফের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় তাদের আসন সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে।

 

৫৪৩ আসনের লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গড়তে দরকার ২৭২টি আসন। একটি দল বা কয়েকটি দলের জোটের পক্ষে ওই সংখ্যায় পৌঁছানো কি সম্ভব? বিশেষত, গত কয়েক মাস ধরে ত্রিশঙ্কু লোকসভায় একটি আশঙ্কা দানা বাঁধছিল। কিন্তু পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা, বালাকোটে বিমানবাহিনীর অভিযান, আর্থিক ভিত্তিতে উচ্চশ্রেণির মানুষের জন্য দশ শতাংশ সংরক্ষণ এবং কৃষকদের আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটের হাওয়া কিছুটা নিজের দিকে ঘোরাতে পেরেছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

মার্চ এবং এপ্রিলে কয়েকটি জনমত সমীক্ষার পর দেখা যায়, বিজেপি এককভাবে ২২৮টি আসন পেতে পারে। আর তার শরিকদের আসন ধরলে ২৭২টি পর্যন্ত হতে পারে। কয়েকটি সমীক্ষার গড় থেকে বিষয়টি এখন প্রায় স্পষ্ট।

 

তবে এও বলা হচ্ছে যে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ২০১৪ সালের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়াবে। গতবার ৪৪টি আসনে জিতেছিল তারা। এবার ৮৮টি আসনে জিততে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বিজেপিকে তেমন সমস্যায় ফেলতে পারবে না।

 

কংগ্রেস এবং তার সহযোগী দলগুলো সব মিলিয়ে ১৪০টি আসন পেতে পারে। এছাড়া কংগ্রেস বা বিজেপির সঙ্গে নেই বেশ কয়েকটি দল। বিজেপি-কংগ্রেসকে সমদূরত্বে রেখে একটি ফেডারেল ফ্রন্ট তৈরি করার কথা বলা হচ্ছে। সেই দলগুলো এবং নির্দলীয়রা মিলে মোট ১২৯টি আসন পেতে পারে। কোনও একক দল বা জোট গরিষ্ঠতা না পেলে ফেডারেল ফ্রন্ট ও নির্দলীয়দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে এবার ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি। ভোটারের সংখ্যা সমগ্র ইউরোপ ব্রাজিলের মোট জনসংখ্যার কাছাকাছি।  

ভোটারদের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ৪৩ কোটি ২০ লাখ।

 

সর্বশেষ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৮৩ কোটি। তবে সেবার মোট ভোটারের ৬৬ শতাংশ, অর্থ্যাৎ৫৫ কোটি ৩০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন।

 

ওই নির্বাচনে ৪৬৪টি রাজনৈতিক দলের হাজার ২৫১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

 

স্বায়ত্তশাসিত সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ভারতের নির্বাচন কমিশনই (ইসিআই) পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদারক করে। নয়া দিল্লিতে এর প্রধান কার্যালয়ে কাজ করেন ৩শ-রও বেশি স্থায়ী কর্মকর্তা।

 

ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৫টি আসনের মধ্যে নির্বাচন হয় ৫৪৩টিতে।

ঔপনিবেশিক যুগে ভারতীয়দের বিয়ে করাইউরোপীয় নাগরিকদের উত্তরসূরিদের জন্য বাকি দুটি আসন সংরক্ষিত থাকে। প্রেসিডেন্ট দুই আসনে মনোনয়ন দেন।

 

২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রতিটি সংসদীয় আসনে গড়ে ১৫ জন করে প্রার্থী ছিলেন বলে ইসিআইয়ের তথ্যে জানা গেছে। এর মধ্যে একটিআসনে ছিল সর্বাধিক ৪২ জন  প্রার্থী।

 

গতবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হাজার ২৫১ প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ৬৬৮ জন।

 

সর্বশেষ ওই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিকটতম প্রার্থীকে লাখ ৭০হাজার ১২৮ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন তিনি।

 

এবারের লোকসভা নির্বাচনের জন্য ইসিআই প্রায় ১০ লাখ ভোটকেন্দ্র স্থাপন করছে। গতবারের তুলনায় যা ১০ শতাংশ বেশি।

 

কোনো কেন্দ্রই যেন ভোটারদের থেকে কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে না থাকে এই নির্দেশনা মেনেই এবার এতগুলো কেন্দ্র বসানোর পরিকল্পনা করা হয়।

 

বিপুল কর্মযজ্ঞে প্রচুর সরকারি কর্মকর্তা নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করতে হয়। নির্বাচনী দায়িত্বে গতবার প্রায় ৫০ লাখ কর্মকর্তা রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল।

 

পায়ে হেঁটে, সড়কপথে, বিশেষ ট্রেন, হেলিকপ্টার, নৌকা এমনকী কখনো কখনো হাতির পিঠে চেপে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে যেতে হয় কর্মকর্তাদের।

 

দুর্গম এলাকার কিছু কিছু ভোটকেন্দ্রে সুযোগ-সুবিধার পরিমাণ খুব কম থাকে।

গত বছর প্রকাশিত এক তথ্যে ইসিআই জানিয়েছে, দেশটির ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে নেই মোবাইল যোগাযোগ সুবিধা। ২০ হাজারের কাছাকাছি কেন্দ্রের অবস্থান বন কিংবা আধা-বনাঞ্চলে।

 

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেবল একজন ভোটারের জন্য নির্বাচন কমিশন পশ্চিম গুজরাটের গির বনেও একটি কেন্দ্র বসিয়েছিল। ওই বনটি এশীয় সিংহের আবাসস্থল হিসেবে খ্যাত।

 

কর্মকর্তা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের দফায় দফায় বিভিন্ন স্থানে মোতায়েনের সুবিধার্থে ভোট সাধারণত কয়েক ধাপে মাসখানেকের বেশি সময় ধরে নেয়া হয়। ৫৪৩টি সংসদীয় আসনের ভোট গণনা অবশ্য একদিনেই শেষ হয়।

 

২০১৪ সালের পুরো নির্বাচনী যজ্ঞে খরচ হয়েছিল মোট হাজার ৮৭০ কোটি রুপি।  

সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি বাদে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্নে খ্যাতি বিশ্বাসযোগ্যতা থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতের নির্বাচনকমিশনকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

 

২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৮ লাখ ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছিল।

 

১৯৮২ সালের নির্বাচনে প্রথম ব্যবহার করা এই ইভিএম যন্ত্র দিয়ে ভোট জালিয়াতি করা সম্ভব বলে দাবি করে আসছে অনেক রাজনৈতিক দল। জালিয়াতি বন্ধে ভোটাররা যাচাই করতে পারে এমন পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপিএটি) প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহারেও ইসিআইয়ের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

 

ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপি এটি সংযুক্ত থাকলে ভোট দেয়ার পরপরই ভোটাররা হাতে একটি প্রিন্ট করা কাগজ পাবেন। ওই কাগজে ভোটারের সিরিয়াল নম্বর, পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রতীক থাকবে।

 

ভোটাররা স্বল্প সময় ওই নম্বর, প্রতীক নামটি দেখার সুযোগ পাবেন। ভোট যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ইসিআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারবে।

এদিকে, ভারতে এবারের নির্বাচনে ধর্মীয় তত্ত্ব বিশেষ প্রভাব রাখবে বলেও ধারণা বিশ্লেষকদের। এছাড়া, পাকিস্তান ইস্যুটিও বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে ভারতের নির্বাচনে। আর অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় তো রয়েছেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : অর্থনীতি, জাতীয়তাবাদ, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা এবং প্রদেশভিত্তিক আঞ্চলিক - স্থানীয় ইস্যু।

সমালোচকদের মতে, মোদীর হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ভারতকে বিভক্ত করেছে। যদিও তার সমর্থকরা এতে বেজায় খুশি।

ভারতের ১৭ কোটি মুসলিম, অনেকে মনে করেন যে তারা অদৃশ্য সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে।

বিজেপির কোনো মুসলিম এমপি নেই। তবে ২০১৪ সালে সাতজন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিলো তারা যদিও তার সবাই পরাজিত হয়েছেন।

 

 

 


এই বিভাগের আরো খবর