ঢাকা, ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ৩০ কার্তিক ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১১৫

আলমারি ভাঙা, ঘর তছনছ

শিল্পপতির বাসায় ২ নারীকে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশিত: ২১:০৭ ১ নভেম্বর ২০১৯  


রাজধানীর ধানমন্ডিতে দুই নারীকে  গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ২৮ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাড়ি থেকে বাড়ির মালিক ও তার গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

ধানমণ্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) রোডের ওই বাসার চতুর্থ তলায় লাশ দুটো পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে আমাদের লোক ওই বাসায় গেছে। দুটো লাশ একই ঘরে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাদের হত্যা করা হয়েছে। আজ বিকেলে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। বাসাটি একজন শিল্পপতির। 

তিনি আরো বলেন, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহ হিল কাফি জানান, নিহতদের মধ্যে আফরোজা বেগম (৬৫) ওই ফ্ল্যাটের মালিক। আর তার গৃহকর্মী দীতির বয়স ১৮ বছর। তারা দুজনেই ওই বাসায় থাকতেন। 


ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ধানমন্ডির ওই বাড়ি থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন - টিমটেক্স গ্রুপের এমডি এবং ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম (৬৫) এবং তার গৃহকর্মী দীতি (১৮)। তারা দুজনেই ওই বাসায় থাকতেন। 

পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আজিমুল হক আজিম বলেন, “একজনের লাশ সোফার কাছে পড়ে ছিল। আরেকজনের মৃতদেহ ছিল পাশের ঘরের মেঝের ওপর। দুজনেরই গলা কাটা।”

ওই বাসার আলমারি ভাঙা ও ঘর তছনছ হওয়ার আলামত দেখার কথা জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “কে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আমরা তা তদন্ত করে দেখছি।”

ওই সড়কের ২১ নম্বর হোল্ডিংয়ে লবেলিয়া নামের ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে মোট পাঁচটি ফ্ল্যাট আছে ব্যবসায়ী মনির উদ্দিন তারিমের।

এর মধ্যে দুটোতে তিনি নিজে পরিবার নিয়ে থাকেন। দুটো ভাড়া দিয়েছেন এবং চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন তার শাশুড়ি ও তার গৃহকর্মী।  

ভবনের নিরাপত্তাকর্মী নুরুজ্জামান বলছেন, তারিমদের পরিবারের কর্মচারী বাচ্চু নতুন একজন গৃহকর্মীকে নিয়ে বিকাল ৩টার দিকে আফরোজা বেগমের বাসায় গিয়েছিল। ঘণ্টাখানেক পর বাচ্চু একবার কোনো কাজে নিচে নামে। তখন তার পরনে ছিল লুঙ্গি। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাচ্চু বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে যায়। তখন তাকে প্যান্ট পরা দেখেছি।

নুরুজ্জামান বলেন, নতুন যে গৃহকর্মী ওই বাসায় গিয়েছিলেন, তিনিও সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে একাই বেরিয়ে যান।

এক প্রশ্নের জবাবে নুরুজ্জামান বলেন, বের হওয়ার সময় বাচ্চু বা ওই নতুন গৃহকর্মীর হাতে কোনো ব্যাগ বা কিছু তিনি দেখেননি।


 


এই বিভাগের আরো খবর