ঢাকা, ০৪ জুন বৃহস্পতিবার, ২০২০ || ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
good-food
৪১

অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন কেন্দ্রিক অর্থনীতি স্থবির 

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১০:৩৭ ২১ মে ২০২০  

নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতেই লকডাউনের বিধিনিষেধ সামান্য শিথিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাকি বিশ্ব থেকে এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে দেশটির। বৈদেশিক বাণিজ্যে এখনো স্থবিরতা বিরাজ করছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে বিশ্বায়ন-পূর্ব যুগে নিয়ে যাচ্ছে। খবর ব্লুমবার্গ।

এ মন্দার সময়ে অস্ট্রেলিয়ার যা কিছু রফতানি আয় হচ্ছে, তা আসছে খনি ও কৃষি খাত থেকে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের পুনর্জাগরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদেশী পর্যটক, শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের আগমন এখনো বন্ধ রয়েছে দেশটিতে, যারা ভোক্তাব্যয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ফলে যতক্ষণ না বিদেশীরা অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে পারছেন, ততক্ষণ দেশটিতে ভোক্তাব্যয় আগের অবস্থানে ফিরে আসার প্রত্যাশা পূরণ হবে না।

বন্ধ সীমান্ত ও স্থানীয় নির্ভরতা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিকে ১৯৮০-এর দশকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। সে সময়ের অস্ট্রেলীয় অর্থনীতি আর আজকের অর্থনীতির মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। শুল্ক প্রত্যাহারের মাধ্যমে বাণিজ্য উন্মুক্তকরণ ও পর্যটন শিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সরকারি উদ্যোগের ফলে আশির দশকের পর বিশেষ গতি পায় অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সেই গতি তো রুদ্ধ হয়েছেই, বরং উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে অর্থনীতি।

অস্ট্রেলিয়ার জিডিপির ৫৫ শতাংশের উৎস গৃহস্থালি ব্যয়। করোনার বিস্তার ঠেকাতে সরকার যখন লকডাউন ঘোষণা করে, তখন মানুষজন জরুরি পণ্য সংগ্রহ করে রাখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ফলে লকডাউনের প্রথম কয়েক দিন দেশটিতে গৃহস্থালি ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় অন্যান্য খাতের ব্যয়ে রীতিমতো ধস নামে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ঘরের বাইরে যাওয়া বারণ। তাই রেস্তোরাঁ ও মুভি থিয়েটারগুলো বিরান ভূমি হয়ে পড়ল। খাঁ খাঁ শূন্যতা নেমে এল ভোক্তাব্যয়ের অন্যান্য খাতেও।

অস্ট্রেলিয়ায় দোকানপাট ও রেস্তোরাঁগুলো ধীরে ধীরে খুলে দেয়া হচ্ছে বটে, তবে ভোক্তাব্যয় আগের অবস্থানে ফিরে আসতে আরো সময় লাগবে। জনগণ তখনই ব্যয় করবে, যখন তাদের মনে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না এবং জরুরি পণ্য ছাড়াও অন্য খাতে খরচ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ থাকবে তাদের হাতে। অর্থাৎ ব্যয়ের সামর্থ্য না থাকলে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ না কমলে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে চাঙ্গা ভাব ফিরে আসতে সময় লাগবে অনেক।