ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার, ২০২১ || ১২ মাঘ ১৪২৭
good-food
১০৯

আত্ম-কর্মসংস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত খুশি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:০৩ ২১ ডিসেম্বর ২০২০  

একসময় পরিবারের নিত্যচাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হতো জামালপুরের খুরশিদা বেগম খুশির। এখন তিনি নিজ এলাকায় আত্ম-কর্মসংস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ৪৬ বছর বয়সী এ উদ্যোক্তা নারী তমালতলা এলাকায় চালাচ্ছেন ‘খুশি বস্ত্রালয়’ নামের বুটিক হাউজ। এ থেকে তার মাসিক আয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু এ পথচলা কখনই অতটা মসৃণ ছিল না।

 

দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠা খুশি খুব বেশি পড়ালেখা করতে পারেননি। স্কুলের গন্ডি পেরোনের আগেই শিক্ষাজীবন থেকে বিদায় নিতে হয় তাকে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয় তার বাবা। বিয়ের দু’বছর পর তাদের ঘরে আসে প্রথম কন্যা সন্তান। 

 

কিন্তু খুশির স্বামী স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল আলীমের পক্ষে সংসারের খরচ মেটানো খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছিল। এভাবেই চলছিল তাদের সংসার। খুশি পাশ্র্ববর্তী এক হ্যান্ডিক্রাফটের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। ইচ্ছে ছিল সেখান থেকে যা আয় হবে তা সংসারের কাজে লাগাবে।

 

তিনি বলেন, একদিন আমি আমার বাড়ির পাশের এক বাড়িতে যাই। সেখানে দেখি নকশী কাঁথার উপর এ্যাম্ব্রয়ডারির কাজ করছেন কয়েকজন নারী। সেখান থেকে একটা আইডিয়া পাই।

 

যখন মাত্র ২০ বছর তখন এলাকার এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘সৃজন হস্তশিল্প’ এ কাজ নিই। সেখানে প্রতিদিন কাজ করতে হতো ১২ ঘণ্টা। আর মাসিক বেতন ছিল ৫০০ টাকা। যদিও টাকাটা খুবই সামান্য ছিল। কিন্তু আনন্দিত ছিলাম। কারণ, এখানে আমি কাজটি শেখার সুযোগ পেয়েছি। এখানে কাজ করে কীভাবে কম্বল, বিছানার কাপড়, কোল বালিশের কাভার, বালিশের কাভার, শাড়ি এবং মহিলাদের অন্যান্য কাপড়ে এ্যাম্ব্রয়ডারি করা যায় তা শিখতে পেরেছি। আমার কাজে মালিক খুশি হয়ে মাত্র দু’মাস পর বেতন বাড়িয়ে করেন ১,৫০০ টাকা। মূলতঃ তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করি একদিন আমিও বাড়িতে এ এ্যাম্ব্রয়ডারির ব্যবসা শুরু করব।

 

স্বামীর সহযোগিতায় খুশি ঢাকা ভিত্তিক কয়েকটি বুটিক হাউজেন সঙ্গে পরিচিত হন। সেসময় ঢাকা থেকে কয়েকটি পাঞ্জাবিও কিনে নিয়ে যান। সেসবের ওপর তিনি আবার এ্যাম্ব্রয়ডারির কাজ করেন। চাকরির পাশাপাশি সেখান থেকেও তার কিছু বাড়তি আয় হতে থাকে। 

 

তিন বছর সেখানে কাজ করার পরা খুশি সেই চাকরি ছেড়ে ‘শতদল’ নামের আরেকটি বুটিক হাউজে চাকরি নেন। সেখানে তিনি যোগ দেন একজন ডিজাইনার হিসেবে। আর মাসিক বেতন ছিল ৩,০০০ টাকা। সেখানে একনাগাড়ে পাঁচ বছর কাজ করেন। ফলে তার নানা ধরনের অভিজ্ঞতা হয়। বাড়ে দক্ষতাও যা তাকে স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। স্বপ্ন দেখেন নিজে উদ্যোক্তা হওয়ার।

 

২০১৩ সালে খুশি দ্বিতীয় চাকরিটিও ছেড়ে দেন। বাড়িতে শুরু করেন ছোট ব্যবসা ‘খুশি বস্ত্রালয়’। সেসময় পূঁজি ছিল ২০ হাজার টাকা। এসময় তিনি কয়েকজন নারীকে কাজ করার জন্য নিয়ে আসেন এবং কয়েকজন নারী সুপারভাইজার নিয়োগ দেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নকশী কাঁথা, বিছানার কাপড়, বালিশের কাভার, ওয়াল মেটসহ নারীদের বিভিন্ন কাপড়ে এ্যাম্ব্রয়ডারির কাজ হয়।

 

খুশি বলেন, এ ব্যবসা করে এক যুগে আমি ১ দশমিক ৫ লাখ টাকা জমিয়েছি। আর সব টাকাই আমার ব্যবসায় মূলধন হিসেবে খাটিয়েছি।

 

স্বামীও তার এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, আমি আমার সহধর্মীনিকে নিয়ে খুব গর্বিত। একসময় খুব কষ্ট হতো সংসার চালাতে। এখন সে হাল ধরেছে। সমাজে ব্যবসায়ী হিসেবে তার একটি পরিচিতি রয়েছে। সবাই সম্মান করে। আমাদের ছেলেমেয়েরাও ভালো আছে। তারা স্কুলে যাচ্ছে।

 

জামালপুর হ্যান্ডিক্রাফট এন্টারপ্রেনার্স এসোসিয়েশনের কার্যকরী সদস্য মাকসুদা হাসনাত বলেন, খুশি এ এলাকায় একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শুধু নিজের একার ঐকান্তিক চেষ্টা এবং পরিশ্রমের কারণে সে আজ প্রতিষ্ঠিত। ও অন্যদের জন্য অনুকরণীয়।

সাকসেস স্টোরি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর