ঢাকা, ১৫ আগস্ট সোমবার, ২০২২ || ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
good-food
২৭৯

রাতারাতি কোটিপতি রাজমিস্ত্রি!

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:১৬ ৩১ অক্টোবর ২০২১  

মাত্র ৩০ টাকাতেই ঘুরল ভাগ্যের চাকা! লটারির এক টিকিটেই রাতারাতি ক্রোড়পতি হয়ে গেলেন এক কলেজ পড়ুয়া রাজমিস্ত্রী। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের হতদরিদ্র পরিবারের যুবক সুজয় পাহানের হঠাৎ করে কোটিপতি হয়ে যাওয়ায় খুশি প্রতিবেশীরাও। তবে আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে সুজয় ও তাঁর পরিবারের। নিরাপত্তার দাবিতে বালুরঘাট থানার দ্বারস্থও হয়েছেন তাঁরা।

 

পুলিশ জানায়, বছর ২২-এর সুজয় পাহান বালুরঘাট ব্লকের ডাঙা গ্রামপঞ্চায়েতের বেলঘড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। ৩০ টাকা দিয়ে লটারি কেটেই এক কোটি টাকার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এরপরই আতঙ্কে রবিবার বালুরঘাট থানায় হাজির হয়েছেন ওই যুবক। থানার তরফে সুজয় পাহান ও তাঁর পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান সুজয় পাহানের বাবা ইমলা পাহান দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। বাবা ছাড়াও বর্তমানে পরিবারে রয়েছেন মা ও বোন। ফলে পরিবারের একমাত্র আয়ের ভরসা সুজয়। রাজমিস্ত্রীর শ্রমিকের কাজ করেই সংসার চালান তিনি। তবে দারিদ্র্যতার সঙ্গে লড়াই করেও কাজের ফাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন সুজয়। পতিরাম কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তিনি। বরাবরই সুজয়ের লটারি কাটার নেশা ছিল। কাজ থেকে ফেরার পথে মাঝেমধ্যেই লটারির টিকিট কাটতেন।

 

তবে কখনও কোনও পুরস্কার পাননি। শনিবার সন্ধ্যাতেও ঝোঁকেই বশেই কাজ থেকে ফেরার পথে বাড়ির পাশে একটি দোকান থেকে ৩০ টাকা দিয়ে লটারির টিকিট কাটেন যুবক। ভাবতে পারেননি, এই টিকিটেই তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে! রাতেই ফোন আসে, লটারিতে তাঁর এক কোটি পুরস্কার লেগেছে।

 

হঠাৎ করে কোটিপতি হওয়ায় আপ্লুত সুজয় সহ তাঁর গোটা পরিবার। তবে দরিদ্র পরিবারে এত টাকা একসঙ্গে এলে কোনও সমস্যা হবে না তো! পুরো টাকা হাতে আসবে তো! এই ভেবেই ঘুম ছুটেছে গোটা পরিবারের। অবশেষে প্রতিবেশী তথা স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী সোনা সরকারের পরামর্শে রবিবার সাতসকালেই মা-কে নিয়ে বালুরঘাট থানায় হাজির হন সুজয়।

 

তাঁর কথায়, ‘এত টাকা একসঙ্গে লটারিতে ওঠায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। সুষ্ঠুভাবে টাকা পাওয়া এবং রাখার জন্যই পুলিশের সাহায্য চাইছি।’ বালুরঘাট থানার তরফে অবশ্য তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কোটি টাকা দিয়ে কী করবেন? প্রশ্নের জবাবে সুজয় বলেন, ‘বাবা-মা অনেক কষ্ট করেছে। এবার তাঁদের একটু আরাম দিতে চাই। ঘর-বাড়ি বানাতে চাই।’ তবে সুজয়ের মা কুসুম পাহানের লক্ষ্য, ছেলের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। দিন-আনা দিন খাওয়া এই পরিবারটি এবার একটু সুদিন দেখবে বলে খুশি প্রতিবেশীরাও।