ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার, ২০২৬ || ১৭ মাঘ ১৪৩২
good-food
৫০

৩৬ দফা নির্বাচনি ইশতেহার এনসিপির

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৫০ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ৩৬ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের ‘লা ভিতা’ হলে দলটি ইশতেহার প্রকাশ করে। 

‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে ঘোষিত এই ইশতেহারটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ‘৩৬ জুলাই’-এর প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রণয়ন করা হয়। ইশতেহারে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি, অন্যায় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বের সামনের সারিতে থাকা নেতাদের গড়া দলটির ইশতেহারে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রসঙ্গ এসেছে। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা, শাপলা চত্বর ও পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা ও গুম-নির্যাতনের বিচার এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দেয়।

রাজনীতিতে নয়া বন্দোবস্তের লক্ষ্য নিয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। আসন্ন নির্বাচনে দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য নামে একটি মোর্চা গঠন করেছে।

ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, “এই ইশতেহার কেবল একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার দলিল। তরুণদের নেতৃত্বে মর্যাদাপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজির রাজনীতিতে অতিষ্ঠ। এনসিপির ৩৬ দফা ইশতেহার সেই বাস্তবতা থেকে উত্তরণের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা।”

ইশতেহার ঘোষণার এই আয়োজনে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলে দলটির নেতারা ইশতেহারের মূল দিকগুলো উপস্থাপন করেন এবং আগামী দিনে জনগণের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচির কথাও জানান।

এনসিপি নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এই ৩৬ দফা ইশতেহার তরুণ সমাজসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

অনুষ্ঠানে এনসিপির ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের নেতা আদনান ফয়সাল ও নুসরাত তাবাসসুম।

দলটির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রথম দফায় বলা হয়েছে, জুলাই সনদের যেসব দফা আইন ও আদেশের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোর বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা ও দায়বদ্ধ কাঠামো তৈরিতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে।

ইশতেহারের দ্বিতীয় দফায় জুলাইয়ে সংঘটিত ‘গণহত্যা’, ‘শাপলা গণহত্যা’, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ভোটের সব খবর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর