ঢাকা, ২১ আগস্ট বুধবার, ২০১৯ || ৫ ভাদ্র ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১৯৯

এমডির জন্য কোন্ পানি?

এলেন না অফিস, ছুঁলেন না ওয়াসার পানির শরবত

প্রকাশিত: ১৩:৩২ ২৪ এপ্রিল ২০১৯  


স্ত্রী শামিম হাশেম খুকি, তাদের শিশুকন্যা এবং পরিবারের বন্ধু মতিউর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসার কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন জুরাইন এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান। জুরাইন থেকে কাচের জগে করে নিয়ে আসা ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে খাওয়াতে চেয়েছিলেন তারা।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান ওয়াসার পানিকে শতভাগ সুপেয় বলে দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে অভিনব এ প্রতিবাদের আয়োজন করেন তিনি।

 

মিজানুরের ওয়াসা ভবনে আসার পরিকল্পনার খবর আগের দিনই গণমাধ্যমে প্রচার হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার তারা যখন কারওয়ান বাজারে এলেন, সাংবাদিকদের পাশাপাশি পুলিশও সেখানে উপস্থিত। শুধু ছিলেন না ওয়াসার এমডি। 

 

উপস্থিত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মিজানুর ও তার সঙ্গীদের ওয়াসা ভবনে ঢুকতে বাধা দেন। জানান, এমডি সাহেব অফিসে নেই, তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

পুলিশের ওই বক্তব্য শুনে মিজানুর তার সঙ্গীদের নিয়ে ওয়াসা ভবনের সিঁড়িতে বসে পড়েন। তাদের সামনেই রাখা ছিল কাচের জগে ওয়াসার কলের পানি, লেবু আর চিনি।

 

  

বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর দুপুরের দিকে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের সঙ্গে এ বিষয়ে টেলিফোনে কথা বলা সম্ভব হয়। জানতে চাওয়া হয় - ওয়াসার পানি যেহেতু সুপেয়, মিজানুরের বানানো ওই শরবত তিনি খাবেন কি না।

 

তাকসিম এ খান বলেন, অন্য কারো হাতে বানানো শরবত তিনি খাবেন না। মিজানুরের নিয়ে আসা শরবত খাওয়ারও কোনো প্রশ্ন আসে না। তাদের পানিতে যদি ময়লার অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা পরিচালকের সাথে কথা বলতে পারে।

 

মিজানুর সাহেব তো শরবত নিয়ে ওয়াসা ভবনের সিঁড়িতে বসে আছেন। এখন সেখানে যাবেন কি না, জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, যাব তো বটেই। আমার তো ৪টার সময় মিটিং আছে একটা।

 

গেল ১৭ এপ্রিল ঢাকা ওয়াসা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। এতে জানানো হয়, ঢাকা ওয়াসার ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে পান করেন। আর বাসাবাড়িতে এই পানি ফোটাতে বছরে পোড়াতে হয় ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার ঘনমিটার গ্যাস, যার আর্থিক মূল্য ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

 

এরপর গেল শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন ওয়াসার এমডি তাকসিম। তিনি দাবি করেন, ওয়াসার সরবরাহ করা পানি শতভাগ বিশুদ্ধ।

 

তবে শরবত নিয়ে ওয়াসার এমডির অপেক্ষায় থাকা মিজানুর সাংবাদিকদের বলেন, জুরাইন এলাকায় ওয়াসার পাইপ ৪০ বছর আগের। এই পানি আমরা খাই না। খাওয়ার উপযোগী না। বাধ্য ও নিরুপায় হয়ে অন্য কাজে ব্যবহার করি।

কাচের জগে করে নিজের এলাকা আনা পানি দেখিয়ে তিনি বলেন, এটা মাঝারি ধরনের। এর থেকে খারাপ পানিও পাই।

 

একজন সমাজকর্মী হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়া মিজানুর যে জগ আর গ্লাস সামনে তুলে ধরেছিলেন, তার পানিতে ময়লা ভাসতে দেখা যাচ্ছিল।

মিজানুর বলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য ২০১২ সালে সাড়ে তিন হাজার মানুষের স্ই সংগ্রহ করে ওয়াসার এমডিকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই তিনি নেননি। আমাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিলেন। এখন তিনি কীভাবে বললেন, ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ! আমরা ক্ষুব্ধ। উনার পানি উনাকে খাওয়াতে এসেছি। শতভাগ সুপেয় পানির কথা অসত্য। এই কথার জন্য উনাকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে।

 

মিজানুর বলেন, এমডিকে ওয়াসার পানির শরবত না খাওয়ানো পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করবেন। আর সুপেয় পানি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি ওয়াসার পানির বিল দেবেন না।

ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানি নিয়ে রাজধানীবাসীর অভিযোগের অন্ত নেই। পুরনো সরবরাহ লাইন দিয়ে যে পানি আসে তাতে ময়লা আর দুর্গন্ধ থাকার এবং সেই পানির কারণে অসুস্থতার খবর সংবাদ মাধ্যমগুলোতে নিয়মিতই আসে। কিন্তু এরপরেও এসব অভিযোগ মানবেন না ওয়াসার এমডি। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই জানতে চেয়েছেন, ওয়াসার এমডি-কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা কোন্ পানি পান করেন।

 

 

 


এই বিভাগের আরো খবর