ঢাকা, ২৪ নভেম্বর মঙ্গলবার, ২০২০ || ৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭
good-food
৫৯

করোনা: কোন ভ্যাকসিন কবে আসছে, মূল্য কত?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৫২ ২১ নভেম্বর ২০২০  

নিজেদের সবশেষ ট্রায়ালের প্রকাশিত ফলাফলে করোনার বিরুদ্ধে লড়তে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে বিশ্বের একাধিক কোম্পানির ভ্যাকসিন। পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি প্রয়োজনের ভিত্তিতে রোগির দেহে ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানাতে তোড়জোড় শুরু করেছে তারা। 

 

স্বাভাবিকভাবে বিশ্ববাসী স্বপ্ন দেখছেন সেসব টিকা হাতের নাগালে পাওয়ার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কবে নাগাদ বাজারে আসবে সেগুলো? সেই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে সামান্য প্রয়াস চালিয়েছে লাইফটিভি।

 

ফাইজার-বায়োটেক ভ্যাকসিন
করোনার এই ভ্যাকসিন যৌথভাবে তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজার এবং জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি সংস্থা বায়োটেক। এর তৃতীয় ট্রায়াল শেষ হয়েছে। তারা বলছে, সব বয়সীদের জন্য তাদের ভ্যাকসিন ৯৫% কার্যকর। আর ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ৯৪% কার্যকারিতা দেখিয়েছে সেটি। 

 

ইতিমধ্যে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এফডিএ) কাছে আবেদন করেছে ফাইজার-বায়োটেক। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে আসতে পারে এটি। আর বড়দিনের আগেই সরবরাহ শুরু হবে। এর প্রতি ডোজের দাম পড়বে ২০ মার্কিন ডলার।

 

মডার্না ভ্যাকসিন
প্রাণঘাতী ভাইরাসের এই টিকা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি মডার্না। এর তৃতীয় ট্রায়াল শেষ হয়েছে। তারা বলছে, তাদের ভ্যাকসিন ৯৪.৫% কার্যকর। এটি বয়স্কদের ক্ষেত্রেও কার্যকারিতা দেখিয়েছে। 

 

ঝুঁকিপূর্ণ রোগিদের চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের জন্য শিগগির এফডিএ’র কাছে অনুমোদন চাইবে মডার্না। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষদিকে এটি পাওয়া যাবে। এর প্রতিটি ভ্যাকসিনের দাম পড়বে ৩৭ ইউএস ডলার।

 

আস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন
এই ভ্যাকসিন যৌথভাবে উৎপাদন করেছে যুক্তরাজ্যের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আস্ট্রাজেনেকা এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এর তৃতীয় ট্রায়াল এখনও বাকি। তবে দ্বিতীয় ট্রায়ালে বয়স্কদের সুরক্ষায় দারুণ কার্যকারিতা দেখিয়েছে এটি। বিশেষত ৬০-৭০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম এই ভ্যাকসিন।  

 

চলতি সপ্তাহেই এর তৃতীয় ধাপের ফলাফল প্রকাশিত হবে। এরপরই ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে অনুমোদন চাওয়া হবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি আসতে পারে। প্রথমে বয়স্কদের ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দেয়া হবে ভ্যাকসিনটি। এপ্রিলে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছবে। এর প্রতি ডোজের মূল্য পড়বে ৩ ব্রিটিশ পাউন্ড।

 

এছাড়া-

করোনা ভ্যাকসিন তৈরিতে সাফল্য পেয়েছে রাশিয়াও। তাদের স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন ৯২% কার্যকর বলে দাবি করা হয়েছে। মারণঘাতী ভাইরাসের টিকা তৈরি করেছে চীনও। তাদের সিনোভ্যাক ভ্যাকসিনও কার্যকর। তবে দুটিই শেষ ও চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালে আছে। এগুলোর ফল আসার পরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে-কখন বাজারে আনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের শুরু থেকে মাঝামাঝিতে এগুলো পাওয়া যেতে পারে।