ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার, ২০১৯ || ৩ আশ্বিন ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
২৮৫

তদন্ত শুরু

খাস কামরায় অন্তরঙ্গ জামালপুর ডিসি-নারী সহায়ক

প্রকাশিত: ১১:১০ ২৫ আগস্ট ২০১৯  


নারী অফিস সহায়কের সঙ্গে জামালপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের ভিডিওর ঘটনাটি তদন্ত করছে সরকার। তবে প্রাথমিক সত্যতা মেলায় তাকে প্রত্যাহার করে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ রোববার একইসঙ্গে এ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসকের নামও ঘোষণা করা হচ্ছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, অবশ্যই বিষয়টি আমরা তদন্ত করবো। তার আগে তাকে ওএসডি করা হবে এবং জামালপুরে নতুন ডিসি নিয়োগ দেয়া হবে।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের বরাত দিয়ে ইউএনবি জানায়, ভিডিওর বিষয়টি সঠিক কি-না তা তদন্ত করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। 
তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা দেখছি। দু-এক দিনের মধ্যে এটি সমাধান হবে।

অতিরিক্ত সচিব গাফফার খানও জানান যে, তারা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পরীক্ষা করে দেখছেন।

তিনি বলেন, ভিন্ন সংস্থা ঘটনাটি তদন্ত করছে। রোববার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

জামালপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে পড়ে। গেল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওটিতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তার অফিসের এক নারী অফিস সহায়ককে দেখা গেছে। 
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে, ভিডিওটি সাজানো দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর।
ফেসবুকে ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড এবং ২৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যাতে একজন পুরুষ ও একজন নারীর অন্তরঙ্গতা দেখা যায়।

ভিডিও প্রকাশের পর এ নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম, যেখানে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর তার অফিসের বিশ্রাম কক্ষে নারী সহকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 

তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর সাংবাদিকদের বলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও তিনি দেখেছেন। ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই নারী তার অফিসের এক কর্মচারি, কিন্তু পুরুষটি তিনি নন।

ভিডিও প্রথম প্রকাশকারী ফেসবুক আইডিটি ভুয়া এবং এটি একটি সাজানো ঘটনা বলেও দাবি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার  দিবাগত রাতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়, খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) ভোর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে সকাল থেকে খন্দকার সোহেল আহমেদের আইডিতে ওই ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু, এরমধ্যেই ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

চার মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেয়া। তাতে দেখা গেছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ৩ আগস্ট জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর এক নারী অফিস সহায়কের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন।


শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। আপনারা আমাকে একটু সময় দেবেন। প্রকৃত ঘটনা জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

ভিডিওটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, এটি একটি সাজানো ভিডিও। একটি হ্যাকার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিল। আমি বিষয়টির গুরুত্ব দেইনি। বানোয়াট ভিডিওটি একটি ফেক আইডি থেকে পোস্ট দেয়া হয়।

অবশ্য ভিডিওটিতে দেখানো কক্ষটি ডিসির অফিসের বিশ্রাম নেয়ার কক্ষ এবং ভিডিও’র ওই নারী তার কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত বলে  নিশ্চিত করেন ডিসি। 
 


এই বিভাগের আরো খবর