ঢাকা, ২০ এপ্রিল মঙ্গলবার, ২০২১ || ৬ বৈশাখ ১৪২৮
good-food
৪৩

মইন আলিকে নিয়ে তসলিমার বিতর্কিত টুইট

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২৩:৪৬ ৬ এপ্রিল ২০২১  

বিতর্কিত টুইটে সীমা উল্লঙ্ঘন করার অভ্যাসটা তার সহজাত। বিভিন্ন সময় এজন্য রোষের মুখে পড়তে হয় তাকে। মঙ্গলবার তেমনই ইংল্যান্ড ক্রিকেটার মইন আলিকে নিয়ে টুইট করে ক্রিকেটারদের রোষের মুখে পড়লেন বিতর্কিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেছেন, মইন ক্রিকেটার না হলে নাকি সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগদান করতেন। এমনই টুইটে মইনের সতীর্থদের নিন্দার মুখে পড়লেন তসলিমা।

 

ইসলাম ধর্মের সমালোচনা, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগে আঘাত হেনে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ থেকে নির্বাসিত তিনি। অথচ তার লেখা কিংবা মননে সেই ছাপ এখনও রয়ে গিয়েছে। মাঝে-মাঝেই লেখার মধ্যে দিয়ে তা জানান দেন তসলিমা। এদিন যেমন জানান দিলেন ইংরেজ ক্রিকেটারকে বিঁধে করা টুইটে।

 

সম্প্রতি জার্সি থেকে বিয়ার প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগো সরানোর জন্য চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে আবেদন করেছিলেন মইন। যদিও পরে চেন্নাই ফ্র্যাঞ্চাইজির সিইও এমন দাবি নস্যাৎ করেছেন। কিন্তু চেন্নাই সিইও’র সেই দাবি বোধ হয় তসলিমার কানে পৌঁছায়নি। তাই তিনি সিএসকে’র কাছে মইনের অনুরোধ সংক্রান্ত খবরের পরপ্রেক্ষিতেই এদিন টুইটটি করেন। তাতে এই সাহিত্যিক লেখেন, ‘মইন যদি ক্রিকেটার না হতো তাহলে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দিত।’ 

 

তসলিমার এই টুইট প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় শুরু হয়। ইংরেজ ক্রিকেটার সাকিম মাহমুদ, জোফ্রা আর্চার থেকে শুরু করে স্যাম বিলিংস, সতীর্থের বিরুদ্ধে করা এমন বিতর্কিত টুইটের নিন্দায় সরব হতে শুরু করেন প্রত্যেকে। মাহমুদ তসলিমার টুইটের পরিপ্রেক্ষিতে লেখেন, ‘বিশ্বাস হচ্ছে না। বিরক্তিকর একটা টুইট। মানুষ হিসেবেও বিরক্তিকর।’


স্যাম বিলিংস অনুরাগীদের কাছে টুইট করে অনুরোধ করেন তসলিমার অ্যাকাউন্টটি রিপোর্ট করতে। মইনের সমর্থনে এগিয়ে এসে ইংরেজ ফাস্ট বোলার জোফ্রা আর্চার তসলিমাকে টুইটে লেখেন, ‘আপনি কী ঠিক আছেন? আমার কিন্তু মনে হচ্ছে না।’ 

 

তার টুইটের প্রতিক্রিয়ায় ইংরেজ ক্রিকেটাররা গর্জে ওঠায় পরে আবার একটি টুইটে তসলিমা দাবি করেন, তিনি নাকি মজা করেই কথাটা বলেছিলেন। পরের টুইটে তিনি লেখেন, ‘নিন্দুকেরা ভালো করে জানে মইন আলির টুইটটা আমি মজা করে লিখেছিলাম। কিন্তু ওরা এটাকে ইস্যু বানিয়ে আমায় অপমান করার চেষ্টা করছে। কারণ আমি মুসলিম সমাজকে ধর্মনিরপেক্ষ করার চেষ্টা করি এবং আমি ধর্মান্ধতার বিরোধীতা করি।’

 

যদিও তসলিমার এই টুইট মন গলাতে পারেনি কারও। তার পাল্টা টুইটের সমালোচনা করে আর্চার আবার লেখেন, ‘মজা? কিন্তু বিশ্বাস করুন আপনার মজায় কেউ হাসেনি, আপনি নিজেও না। আপনার যেটা করার সেটা করুন, টুইটটা মুছে ফেলুন।’ পরে অ্যাকাউন্ট থেকে বিতর্কিত সেই টুইটটি মুছে ফেলেন তসলিমা।