বাংলাদেশ কী জাপান হতে চলছে?
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ০০:২৩ ১৪ মে ২০২২
প্রায় আট বছর আগে যখন জাপানে এলাম, তখন বাজারে গিয়ে আমার চোখ কপালে উঠেছিল। সেসময় এক কেজি বাসুমতি চালের দাম ৫০০ ইয়েন, চার/পাঁচটি মাঝারি ধরনের আলুর দাম ছিল ২০০ ইয়েনের মতো (বর্তমানে ১০০ ইয়েন =৭২ টাকা), চারটি টমেটোর দাম পেলাম সাড়ে ৩০০ ইয়েন, দুটা করলার দাম ২৩০ ইয়েন, চারটি কলার দাম ১৫০ ইয়েন, একটি বড় মূলার দাম ১৬০ ইয়েন, তিনটি লেবুর দাম ৩৫০ ইয়েন, একটি ফুলকপির দাম ১৯৮ ইয়েন, এক লিটার দুধের দাম ১৯০ ইয়েন, চার/পাঁচটি কলমি শাকের দাম ১৪০ ইয়েন, ১ কেজি গরুর মাংস ১২০০ ইয়েন, এক কেজি খাসির মাংসের দাম ৮৫০ ইয়েন থেকে ১০০০ ইয়েনর মধ্যে পাওয়া যেত।
ওই সময় দেড় লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ছিল ৩৫০ ইয়েন, যা গত কয়েক মাসে সাড়ে ৪ ইয়েনে পাওয়া যাচ্ছে। দেশে থাকতে যেখানে ৩/৪ শ টাকার সবজি কিনলে সপ্তাহ চলে যেত, সেখানে এসব দাম শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তবে আয়ের সাথে এখানকার জিনিসের দামের সামঞ্জস্য থাকায় ধীরে ধীরে এসব সয়ে গিয়েছে। এখানে প্রতি ঘণ্টা শ্রমের সবনিম্ন মূল্য ১০০০ ইয়েন, সেখানে বাংলাদেশে ৩০/৫০ টাকা।
সেই আট বছর আগে যেমন এসব জিনিসের দাম ছিল, এখনো প্রায় একই দামে আমরা বাজার করছি। উল্লেখযোগ্য চোখে ধরার মতো দামের হেরফের তেমন পাইনি। মাঝখানে এই দেশের ’কর’ ৮ ইয়েন থেকে ১০ ইয়েন হয়েছে মাত্র। জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে যারা উচ্চশিক্ষায় আসছে, তাঁরা এক দশক আগে যে পরিমাণ অর্থের বৃত্তি পেত, এখনো তাই পাচ্ছে। যে ব্যক্তির বেতন ১০ বছর আগে যেমন ছিল, এখনো প্রায় তেমনই রয়েছে। ফলে এই দেশে বাজার স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বটে।
আমাদের দেশে গত কয়েক বছর অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক এগিয়ে গিয়েছে। একমাত্র কৃষক ব্যতিত এই দেশের সব শ্রেণির মানুষের আয় বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে নিত্যপণ্যের দাম চড়াও হচ্ছে। এখন কেউ যদি বাংলাদেশের সাথে জাপানের তুলনা করতে চায়, তাহলে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশকে ব্যয়বহুল দেশ বলা যেতে পারে। আমরা বছরের পর বছর ধরে এক কেজি খাসির মাংস ১০০০ ইয়েনের মধ্যে পাচ্ছিলাম, সেখানে বাংলাদেশে মূল্য ৮৫০ টাকা বা ১২৬০ ইয়েন। এক কেজি গরুর মাংস ১২/১৩ শ ইয়েন দিয়ে দিয়ে কিনছি, সেখানে বাংলাদেশের মানুষ এক কেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা বা ১০০০ ইয়েন দিয়ে ক্রয় করছে। ১ লিটার সয়াবিনের দাম বাংলাদেশ ও জাপানে প্রায় সমান সমান।
জাপানে নিজেদের কৃষিপণ্যে দিয়ে চাহিদা না মেটায়, এই দেশের সিংহভাগ পণ্যে বাহিরের দেশ থেকে আমদানি করা। আমাদের মতো এরা গরু-ছাগল চাষ না করলে এখানে মাংসের বাজার স্থিতিশীল থাকছে বছরের পর বছর। অথচ আমাদের দেশের দিকে তাকান, দেখবেন এই দেশের পত্রিকায় ছবি ছাপছে। কৃষকরা শশা, টমেটো, বেগুণ, ফুলকপি রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে। কারণ এই দেশের কৃষিপণ্যের দাম বাড়ে না। কৃষকদের উৎপাদন বাড়লেও নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কৃষি কাজ করে মাসের পর মাস ধরে গরুর মাংস খেতে চাইলে কৃষকরা কিনতে পারছে না।
বছরের পর বছর জাপানিরা প্রায় এক বাজেটে মাসের বাজেট রাখলেও আমাদের দেশের মানুষরা তা পারছে না। শ্রমজীবী মানুষদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছে। বাজার করতে গিয়ে হাঁসফাঁস করছে মধ্যবিত্তরা। অথচ তা হওয়ার কথা ছিল না। নিজেদের উৎপাদিত পণ্যে নিজেদের চাহিদা পূরুণের যথেষ্ট সুযোগ ছিল। আর তা পারছে না মূলত, গুটিকয়েক লোভী ও অসৎ ব্যবসায়ীদের কারণে। ইচ্ছেমত তাঁরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে, পুরো দেশটাই নিয়ন্ত্রণ করছে তাঁরা, যা হওয়ার কথা ছিল না। এই কারসাঁজিতে ব্যবসায়ীরা পটু।
এরা একাট্টা থেকে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, সরকারকে চাপে ফেলে দাম বৃদ্ধি করেই যাচ্ছে। কারণ, তাঁরা ভাল করে জানে, একবার যে পণ্যের দাম বাড়বে, তা আর কমবার নয়। দুই চারদিন আন্দোলন, পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হবে আবার তা ইস্যূতে হারিয়ে যাবে। মাসের মাঝখানে বেতন শেষ হয়ে যাওয়া মানুষদের কষ্টে সামিল হচ্ছে না কেউ। কারণ, দেশটাকে যারা চালাচ্ছে, তাঁদের তো সমস্যা নেই, সমস্যা কেবল খেটে খাওয়া মানুষদের।
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও মানুষের এমন পরিস্থিতি আমাদের দেখতে যখন হচ্ছে, তখন চোর-বাটপারদের হাতে জিম্মি হওয়া দেশটাকে উদ্ধার করবে কে? দেশের আনাচে-কানাচে যে আত্মনাদ তা শুনবে কে?
লেখক: নাদিম মাহমুদ
পোস্টডক্টোরাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট
- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কে কোথায় ভোট দিচ্ছেন
- ‘এটা পাকিস্তানের নাটক ছিল’
- অসুস্থ পরীমণি, ফের পেছাল জেরা
- প্রধান উপদেষ্টাসহ ২৭ জনের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ
- ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন যারা
- যেসব কারণে বাতিল হতে পারে আপনার ভোট
- জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বৃহস্পতিবার, প্রস্তুতি সম্পন্ন
- নির্বাচনি মিছিলে অসুস্থ হয়ে ২ জনের মৃত্যু
- নির্বাচনের ইতিহাস: প্রাচীন থেকে আধুনিক
- ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে ৪ পদ্ধতি চালু করল ইসি
- ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনে নিষেধাজ্ঞা
- বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণসহ ৩ শর্তে ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান
- নির্বাচনে তিন সংগীতশিল্পীর যে প্রত্যাশা
- গোপালগঞ্জ–৩: কার হাতে যাচ্ছে হাসিনার আসন
- আমেরিকার ইতিহাসে আলোচিত ১১ নির্বাচন
- ‘আত্মঘাতী’ বইমেলায় অংশ নেবে না ৩২১ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান
- নির্বাচনে ছুটি ও রমজানে কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন
- ৫ খাবার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা
- ফোন রেকর্ড ফাঁস করলেন পরীমণি
- বুলবুলের আচমকা পাকিস্তান সফর নিয়ে মুখ খুললেন ফারুক
- NASA Opens Door to Personal Smartphones in Space
- Seed Paper: A Plantable Paper Turns Waste into Living Green
- বিহারি ক্যাম্পে মিললো একই পরিবারের চারজনের মরদেহ
- ববিতা, শফিক, আইয়ুব বাচ্চুসহ একুশে পদক পাচ্ছেন যারা
- রমজানে অফিস সময় নির্ধারণ
- বোতলজাত পানির চেয়ে কলের পানি নিরাপদ
- সন্তান জন্ম দিতে দেশ ছাড়ছেন বুবলী!
- চড়া দামে পিএসএলে দল পেলেন মোস্তাফিজ
- আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো: ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন
- নির্বাচনে ভারতসহ বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাহিদের
- Seed Paper: A Plantable Paper Turns Waste into Living Green
- NASA Opens Door to Personal Smartphones in Space
- বিহারি ক্যাম্পে মিললো একই পরিবারের চারজনের মরদেহ
- এপস্টেইন নথিতে নাম নেই যে ৫ প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানের
- রোজায় ৬৫০ টাকায় মিলবে গরুর মাংস, ৮ টাকায় ডিম
- বাচ্চাদেরও শেখান মানি ম্যানেজমেন্ট
- আ’লীগ সমর্থকদের পছন্দ বিএনপি, নতুনদের ঝোঁক জামায়াতে
- রমজানে অফিস সময় নির্ধারণ
- ঘুমের আগে দাঁত না মাজলে ক্ষতি হতে পারে হৃদ্যন্ত্রের
- নির্বাচনি মিছিলে অসুস্থ হয়ে ২ জনের মৃত্যু
- কাজ পাচ্ছেন না অঙ্কিতা
- নির্বাচনে ভারতসহ বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাহিদের
- শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত
- বদলে যাচ্ছে র্যাবের নাম, পোশাকও পাল্টাবে
- সন্তান জন্ম দিতে দেশ ছাড়ছেন বুবলী!
- আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো: ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন
- রুনা লায়লার বিনিময়ে যা দিতে চেয়েছিল ভারত
- নাহিদের রিট খারিজ, ভোটে থাকবেন বিএনপির কাইয়ুম
- বোতলজাত পানির চেয়ে কলের পানি নিরাপদ
- ববিতা, শফিক, আইয়ুব বাচ্চুসহ একুশে পদক পাচ্ছেন যারা

