ঢাকা, ১৬ জুন রোববার, ২০১৯ || ২ আষাঢ় ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১৭৯

সরিষার তেলের বিস্ময়কর যত গুণ

প্রকাশিত: ২১:০১ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  


প্রকৃতির অমূল্য দান সরিষার তেল। কেবল স্বাদের জন্য নয়। বহুকাল ধরে এই তেল ব্যবহারের পেছনে রয়েছে বহুবিধ কারণ। শুধু খাবার রান্নাতেই নয়, ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে চুলেও সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়।

ভারতের সেলিব্রিটি পুষ্টিবিজ্ঞানী সন্ধ্যা গুগনানি বলেন, সরিষার তেল নিয়ে মিথলজি প্রচলিত রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপে তেলটি খেতে নিরুৎসাহিত করা হয়। কারণ, এতে রয়েছে ইরুইক এসিড। উপাদানটি ইঁদুরের দেহে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অথচ এটি অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তেলের তালিকার শীর্ষস্থানীয়দের একটি।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সরিষার তেলের কিছু বিসম্ময়কর গুণের কথা।

*. এই তেলের স্বাদ অনন্য। সরিষা থেকে তৈরি করা হয়। সরিষা সেই শস্যের প্রজাতির অংশ; যা থেকে ক্যানোলা তেল তৈরি করা হয়।

*. বাংলা, বিহার, ওড়িশা, আসাম ও নেপালে সরিষার তেলে রান্না ঐতিহ্যের অংশ। কিছু কাশ্মীরি খাবারও তৈরি করা হয় এ তেলে।

*. ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরিষার তেল দারুণ কাজ করে। বলা হয়, এতে আছে ছত্রাক প্রতিরোধী উপাদান। তেলটিকে এই গুণ দিয়েছে অ্যাললি আইসোথিয়োসায়ানেট।

*. এক টেবিল চামচ সরিষার তেলে রয়েছে ১২৬ ক্যালরি।

*. এই তেলে ঝাঁঝালো গন্ধ রয়েছে; যার কারণে কীটপতঙ্গ দূরে থাকে। তাই অনেক সময় পিঁপড়া ও মশা তাড়াতে সরিষার তেল মিশ্রিত তরল স্প্রে করা হয়।

*. এই তেলে আছি দুটো গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাটি এসিড- ওয়েলিক এসিড ও লিনোলিক এসিড। এগুলো চুলের দারুণ টনিক। মাথায় মেসেজ করা হলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। চুলের বৃদ্ধিও গত পায়।

*. একে উষ্ণ তেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই শীতের মৌসুমে বেশ কাজে লাগে।

*. আয়ুর্বেদে সর্দি ও কাশি দূর করতে সরিষার তেলের ব্যবহার রয়েছে।

*. দেহের বিষাক্ত উপাদান ঝেড়ে ফেলতে সরিষার তেলের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। খাওয়া হলে বা ত্বকে লাগানো হলে ঘাম বের হয়। এর মাধ্যমেই দেহের বাজে উপাদান বের হয়ে যায়।

*. রিউমাটিজম ও আরথ্রাইটিসের চিকিৎসায় ওষুধের সঙ্গে এ তেলের ব্যবহার রয়েছে।

*. দাঁতের যত্নে সরিষার তেলের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে মাজতে বলেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

*. বিভিন্ন তেলের উপাদান নিয়ে গবেষণা চালায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (অলএমএস) এবং স্যার গঙ্গারনাম হসপিটাল। তাতে বলা হয়, সরিষার তেল কার্ডিওভাসকুলার ডিজিসের ঝুঁকি কমায় ৭০ শতাংশ। এটা অলিভ অয়েলের চেয়ে ভালো। কারণ অলিভ অয়েলে ওমেগা ৬ (এস৬) এবং ওমেগা ৩ (এন৩) ফ্যাটি এসিডের সুষম ভারসাম্য নেই।

*. বাড়িতে তৈরি ফেসপ্যাকে সরিষার তেল ব্যবহার করলে তা আরো কার্যকর হয়ে ওঠে।

*. তিসির পাউডারের সঙ্গে সরিষার তেলের ব্যবহারে খুশকি দূর হয়।

*. অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকার কারণে এ তেল আচার তৈরিতে অনন্য।