ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি সোমবার, ২০২২ || ১১ মাঘ ১৪২৮
good-food
৪৮

সঙ্কট এখনও কাটেনি, দ্রুত ভ্যাকসিন নিন: প্রধানমন্ত্রী

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০০:৫৪ ৮ জানুয়ারি ২০২২  

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলমান সঙ্কট মোকাবেলায় ভ্যাকসিন নেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় (৭ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে আমাদের বিগত ২০২০ এবং ২০২১ সাল অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই সঙ্কট এখনও কাটেনি। এরই মধ্যে আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের এখনই সাবধান হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যারা টিকা নেননি, তাদের দ্রুত তা নেয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

 

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো (টানা তিনবার) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

 

এখন পূর্ণোদ্যমে কোভিড-১৯ টিকাদানের কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চলতি মাস থেকে গণটিকাদানের মাধ্যমে প্রতিমাসে ১ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।  এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। গতমাস থেকে বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে আমাদের হাতে সাড়ে ৯ কোটিরও বেশি ডোজ টিকা মজুদ আছে।’

 

সরকার প্রধান বলেন, ‘বিভিন্ন নীতি-সহায়তা এবং উদার-নৈতিক আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ দেয়ার মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমরা ২৮টি প্যাকেজের মাধ্যমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। এতে প্রায় ৬ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আর প্রতিষ্ঠান উপকৃত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার অভিঘাত মোকাবিলা করে গত অর্থবছরে আমাদের জিডিপি ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২১-এ মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলারে।’

 

বিগত ১৩ বছরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যু-শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ নানা আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বর্তমান এবং আগামী দিনের সব কার্যক্রমের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত বিনির্মাণ। অফুরন্ত জীবনীশক্তিতে বলীয়ান তরুণ প্রজন্মই পারে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটি প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে। যে স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন। তারুণ্যের শক্তিই পারবে দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে।’ 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কঠোর হস্তে জঙ্গিবাদের উত্থানকে প্রতিহত করেছি। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।’