ঢাকা, ০৩ জুন বুধবার, ২০২০ || ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
good-food
৬১

তামিমের প্রাণবন্ত লাইভ : কী কথা হলো মাশরাফির সঙ্গে?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৪৪ ৮ মে ২০২০  

মাশরাফি বিন মুর্তজা যখন অধিনায়ক ছিলেন, তার হোটেল কক্ষ সবার জন্য ছিল অবারিত। ২৪ ঘণ্টা সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল সবার। অধিনায়কের কক্ষ ছিল আড্ডা, হাসি, মজার কেন্দ্রস্থল।  এখন মাশরাফি আর অধিনায়ক নেই। ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’,  গানের সুর যেন এখনই শুনতে পাচ্ছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের তাই আকুতি, মাশরাফির রুমের আড্ডাটা যেন থাকে।

 

গত মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মাশরাফি। তার উত্তরসূরি হিসেবে বিসিবি মনোনীত করেছে তামিমকে। মাশরাফি অধিনায়ক থাকার সময় তার কক্ষে সবচেয়ে বেশি সময় উপস্থিতি থাকত তামিমের। তিনি তাই খুব ভালো করেই জানেন, ওই সময়টুকু মনের কত বড় খোরাক।

 

ফেইসবুক আড্ডায় তামিম অনুরোধ করলেন, মাশরাফির রুমের আড্ডাটা যেন শেষ না হয়।

 

“একটা কথা আমি সবাইকে একটু বলি। আমরা যখন দেশে বা বিদেশে কোনো সিরিজে থাকি, সবাইকে সিঙ্গেল রুম দেওয়া হয়। অধিনায়ক একট বড় রুম পেয়ে থাকেন। একটা রুম ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে, ওই রুমের দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে, মাশরাফি ভাইয়ের রুম। সবার জন্য সবসময় খোলা। আমরা সেখানে যাই, আড্ডা দেই, খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে, আমাদের দুঃখ, ভালো লাগা, সবকিছু ভাগাভাগি করি ওই রুমে।”


“আমি জানি না, এই ব্যাপারটা সামনে থাকবে কিনা। আমি আশা করি, আপনি আরও অনেক দিন খেলবেন। এই ব্যাপারটা যেন সবসময় টিকে থাকে…।”

 

মাশরাফি জবাবে বললেন, তার বিশ্বাস, তিনি অধিনায়ক না থাকলেও এই ধারা থাকবে। পাশাপাশি মজার ছলে এটিও বুঝিয়ে দিলেন, তার কক্ষের ওই আড্ডা কতটা সবার কাঙ্ক্ষিত।

 

“তামিম, আমি যখন নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াই, আমি বলেছিলাম যে আমি বিশ্বাস করি, এই দলে সেই মানুষগুলি আছে যে কোনো অপূর্ণতা থাকবে না। তুই ক্যাপ্টেন্সি পেয়েছিস, সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ-মুমিনুল, সবাই অসাধারণ মানুষ। আমি নিশ্চিত, এই ধারা থাকবে। তবে অবশ্যই, তোরা আমাকে মিস করতে বাধ্য (হাসি)।”

 

ক্রিকেটের সব ভাইদের গল্পটা স্টিভ ওয়াহ, মার্ক ওয়াহদের মত হয় না। নাফিস ইকবাল ও তামিম ইকবাল যেমন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে পারেননি একসঙ্গে। তবে ক্রিকেট মাঠে একসঙ্গে রূপকথা রচনা করতে না পারলেও মাঠের বাইরে তাদের আছে চমকে দেওয়া গল্প। দুজনকেই খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, নাফিসের অবিশ্বাস্য ত্যাগের কারণেই আজকের এই পর্যায়ে আসতে পেরেছেন তামিম।

 

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে একসময় নাফিসের সঙ্গে খেলেছেন মাশরাফি। পরে দুজন একসঙ্গে খেলেছেন জাতীয় দলেও। গড়ে ওঠে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। একটা সময় নাফিস ছিটকে গেলেন দল থেকে। এলেন তার ছোট ভাই তামিম। সময়ের পরিক্রমায় তামিমের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা হয়েছে মাশরাফির। বয়সের ব্যবধানকে মাড়িয়ে দুজন হয়ে উঠেছেন কাছের বন্ধু।

 

ফেইসবুক লাইভে প্রাণবন্ত আড্ডায় দুজনের সম্পর্কের উষ্ণতার সূত্র ধরেই তামিম প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনি আমাকে প্রথম কবে দেখেছিলেন, মনে আছে?”

 

সেই দিন ও দেখা হওয়ার ঘটনা, মনে করতে একটুও ভাবতে হয়নি মাশরাফিকে।

 

“তোর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা, তুই হাফ প্যান্ট পরা, আর স্যান্ডো গেঞ্জি। আমি আর তোর ভাই নাফিস (ইকবাল) তো বন্ধু, চট্টগ্রামে টেস্ট ম্যাচের সময় গিয়েছিলাম। দেখলাম তুই আরও দুই-তিনজন বন্ধুর সঙ্গে গাড়ী নিয়ে খেলছিস। আমার-তোর বাচ্চারা এখন যেমন খেলে গাড়ী নিয়ে।”

 

“আমি বললাম, ‘ভাইয়া তুমি ভালো আছো?’, তুই বললি, ‘জ্বী ভাইয়া’, সেটা বলতেও লজ্জা পাচ্ছিলি। সেই তামিম এখন বাংলাদেশের অধিনায়ক…নাইস টু সি!”

 

নাফিসের সঙ্গে তাদের বাসায় গিয়েছিলেন, এটা মনে হতেই মাশরাফি নিজে থেকেই বললেন নাফিসের অবদানের কথা।

 

“একটা কথা বলি, তোর আজকে এই পর্যায়ে আসার পেছনে তোর ভাইয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। তোর বাবা তো অন্যরকম মানুষ ছিলেন। তোর মা, চাচারা, যে যেটাই বলুক, তোর ভাইকে তো আমি কাছ থেকে দেখেছি, নাফিস তোর জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা অবিশ্বাস্য।”